মাশরাফিদের উপার্জন সাড়ে তিন কোটি টাকা

ক্রীড়া প্রতিবেদক>
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা জিতে শুধু আনন্দেই ভাসছে না পাকিস্তান দল, প্রাপ্তির খাতায় বিপুল অর্থযোগও থাকছে খেলোয়াড়দের। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী কোটি টাকার বোনাস ঘোষণা করেছেন, শিরোপা জেতায় আইসিসি থেকে তারা পাবে ১৭ কোটি ৭২ লাখ টাকা। তবে সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়া বাংলাদেশের প্রাপ্তিও নেহাত ‘মন্দ’ নয়। তামিম-মাশরাফিদের শুধু পারফরম্যান্সই প্রাপ্তি নয়, উপার্জনের দিক থেকেও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শেষে বেশ এগিয়ে আছে মাশরাফি বাহিনী। নিয়মিত ম্যাচ ফি ছাড়াও মাশরাফি বিন মর্তুজা ও তার দল সেমিফাইনাল পর্যন্ত খেলে পেয়েছে সাড়ে তিন কোটি টাকা। আর শিরোপাজয়ী পাকিস্তানের উপার্জন প্রায় ১৮ কোটি টাকা।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শেষ চারের দল হিসেবে বাংলাদেশ পাবে ৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকার প্রাইজমানি। বাংলাদেশ যদি গ্র“পের তৃতীয় দল হিসেবে শেষ করত, তবে পেত ৭৩ লাখ টাকা। আর গ্র“পের একেবারে শেষ দল হিসেবে টুর্নামেন্ট শেষ করলে পেত ৪৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা। সেমিফাইনালে ওঠায় মাশরাফিদের প্রাইজমানি বেড়ে গেছে প্রায় সাত-আট গুণ। তাৎক্ষণিকভাবে এই অর্থ পায়নি বাংলাদেশ, পরে এটি পাঠিয়ে দেওয়া হবে বিসিবির কাছে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির প্রাইজমানি তো আছেই। প্রতি ম্যাচের ফি হিসেবে বোর্ড থেকে ২ লাখ টাকা করে পাবেন মাশরাফিরা। আইসিসি র‌্যাঙ্কিংয়ের পঞ্চম দল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জেতায় উইনিং বোনাস হিসেবে তাদের প্রাপ্তিতে যোগ হবে আরও ২ হাজার ডলার বা ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) শীর্ষ আট দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হওয়া চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির এবারের আসর শেষ হয়েছে গত রবিবার। প্রথমবারের মতো র‌্যাংকিংয়ের সেরা আটে থেকে অংশ নিয়ে তাক লাগিয়েছে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। শুধু এই টুর্নামেন্টই নয়, আইসিসি আয়োজিত যে কোনো টুর্নামেন্টে এটা বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সাফল্য। মাঠের সাফল্যই নয়, আর্থিক যোগটাও মনে রাখার মতো। এত পরিমাণ অর্থ এর আগে বাংলাদেশ কোনো টুর্নামেন্ট থেকে উপার্জন করতে পারেনি। অবশ্য এই টুর্নামেন্টে কোন পর্যায়ে গেলে কত টাকা আসবে সেটা আগেই বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছিল আইসিসি।
সেখানে বলা হয়েছিল, টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার পর গ্র“প পর্ব পর্যন্ত খেললে মোট ৬০,০০০ মার্কিন ডলার প্রাইজমানি দেওয়া হবে। বাংলাদেশি টাকায় তার পরিমাণ সাড়ে ৪৮ লাখ। গ্র“প পর্বে তৃতীয় স্থানে জায়গা করে নিতে পারলে প্রাপ্তি হবে সাড়ে ৭২ লাখ টাকা যেমনটা পেয়েছে নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা। সেমিফাইনালে সুযোগ পাওয়া বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ড পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী পেয়েছে তিন কোটি ৬২ লাখ টাকারও বেশি।
সেরা দুই দল অর্থাৎ, শিরোপাজয়ী পাকিস্তান বিজ্ঞপ্তির ঘোষণা অনুযায়ী পেয়েছে ২.২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থাৎ ১৭ কোটি ৭২ লাখ টাকা। ভারত পেয়েছে প্রায় নয় কোটি টাকা। অবশ্য পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের আর্থিক প্রাপ্তি শুধু এই প্রাইজমানিতেই সীমাবদ্ধ নেই। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুবাদে তারা ভাসছে পুরস্কারের সাগরে। এরই মধ্যে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ প্রত্যেক ক্রিকেটারকে বাড়তি এক কোটি পাকিস্তানি রুপি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়া পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) থেকে চুক্তির শর্তানুযায়ী পুরো দলকে দিচ্ছে দুই কোটি ৯০ লাখ রুপি, সঙ্গে প্রত্যেক ক্রিকেটারকে বাড়তি ১০ লাখ রুপি।

পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা
এখন কোটিপতি
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রথমবারের মতো আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা জয় করে দেশে ফিরে পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা অভিনন্দনের জোয়ারে ভাসছে। যেখানেই যাচ্ছে, মিলছে উষ্ণ সংবর্ধনা। তবে দেশবাসীর অকৃত্রিম ভালোবাসায় হƒদয় সিক্ত করাই শুধু নয়, রাতারাতি ফুলে-ফেঁপে উঠছে সরফরাজ আহমেদদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টও। পাকিস্তানের প্রত্যেক ক্রিকেটার, কোচিং স্টাফের সদস্যসহ দল সংশি¬ষ্ট প্রত্যেকের পকেটেই উঠতে যাচ্ছে বিশাল অঙ্কের বোনাসের টাকা! অবিশ্বাস্য এই অর্জনের জন্য দলকে অভিনন্দন জানিয়ে মঙ্গলবার রাতে প্রত্যেক ক্রিকেটারের জন্য বোনাস ঘোষণা করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা জয়ের আনন্দে ভাসছে পাকিস্তান। প্রথমবারের মতো এই শিরোপা জয়, সেটাও চিরপ্রতিদ্বন্দ^ী ভারতকে হারিয়ে। সে আনন্দকে উৎসবে রূপ দিচ্ছে দেশটি। চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জেতা জয়ী দলকে উপহারের বন্যায় ভাসিয়ে দিচ্ছে তারা। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী মরিয়ম আওরঙ্গজেব জানিয়েছেন, দলের প্রত্যেক সদস্যকে সংবর্ধনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সে সঙ্গে এক কোটি রুপি করে বোনাস। এ ছাড়া চুক্তির শর্তানুযায়ী পুরো দলকে ২ কোটি ৯০ লাখ রুপি দিচ্ছে বোর্ড। সেই সঙ্গে প্রত্যেক খেলোয়াড়কে বাড়তি ১০ লাখ রুপি করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বোর্ড। ওয়ানডে অভিষেকের দুই সপ্তাহের মধ্যেই ফখর জামান, ফাহিম আশরাফ ও রুম্মন রইসের মতো খেলোয়াড়দের জন্য এটা বিশাল প্রাপ্তি।
অবশ্য আইসিসি থেকেও কম পাচ্ছে না পাকিস্তান। শিরোপা জেতার সুবাদে ২০ কোটি রুপি পেয়েছে পাকিস্তান দল। আর এমন সাফল্য এনে দেওয়ায় ব্যক্তিগতভাবেও খেলোয়াড়দের পুরস্কৃত করছেন অনেক ধনাঢ্য ব্যবসায়ী। রিয়াজ মলি¬ক নামের এক নির্মাণ ব্যবসায়ী প্রত্যেক খেলোয়াড়কে ১০ লাখ রুপি ও একটি করে জমির প¬ট দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। পাকিস্তান দলের স্পনসররাও এমন কিছুর ঘোষণা দেবে খুব শিগগিরই। অর্থ এখন বৃষ্টিই হয়ে ঝরছে পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের ওপর। অবশ্য পুরস্কার প্রতিশ্র“তির ক্ষেত্রে অনেক সময় দেখা যায়, যত গর্জে তত বর্ষে না!
প্রত্যেক ক্রিকেটারকে এক কোটি রুপি করে অর্থ পুরস্কার দেওয়ার পাশাপাশি পাকিস্তান দলকে সংবর্ধনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) চুক্তি অনুয়ায়ী ২.৯ কোটি রুপি বোনাস দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির প্রাইজমানি হিসেবে আইসিসি থেকে ২০ কোটি রুপিরও বেশি পাচ্ছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী রিয়াজ মালিক প্রত্যেক খেলোয়াড়কে ১ লাখ রুপি এবং একটি করে প¬ট উপহার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ক্রিকেট পাগল দেশ পাকিস্তান বলে কথা! আরও অর্থ পুরস্কারের ঘোষণা আসতে পারে।
ফাখর জামান, রুম্মন রইস ও ফাহিম আশরাফের ওয়ানডে অভিষেক হয়েছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে। একটা টুর্নামেন্ট খেলেই কোটিপতি বনে যাচ্ছেন তারা। আর ১৮ বছর বয়সেই কোটিপতি হচ্ছেন শাদাব খান। বড় ভাগ্যবানই বলতে হবে তাদের।

ভারত ও ইংল্যান্ডে খেলার
প্রস্তাব দেবে বিসিবি
ক্রীড়া প্রতিবেদক
লন্ডনে চলছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) বার্ষিক সভা। এই সভাতেই ইংল্যান্ড ও ভারতের বিপক্ষে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলার প্রস্তাব দেবে বাংলাদেশ। ভবিষ্যৎ সফরসূচি (এফটিপি) অনুযায়ী আগামী ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ভারত ও ইংল্যান্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক কোনো সিরিজ নেই। তাই এই সময়ের মধ্যে তাদের দেশে গিয়ে খেলার প্রস্তাব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস।
বিসিবির এই কর্তার বিশ্বাস ভারত ও ইংল্যান্ড বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে বাংলাদেশের সঙ্গে খেলতে আগ্রহী হবে। কেন, তারও ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি, ‘ইংল্যান্ড ও ভারতের মতো দেশে অন্য কেউ সফর করলে স্বাগতিক দল আর্থিক দিক দিয়ে ততটা লাভবান হতে পারে না। কিন্তু গত ৩-৪ বছরে আমাদের পারফরম্যন্সে অনেক উন্নতি হয়েছে। এই চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে বাংলাদেশের সমর্থকদের সংখ্যা ছিল চোখে পড়ার মতো।’ সঙ্গে যোগ করলেন, ‘ইংল্যান্ডে বাংলাদেশ দল সফর করলে বুঝতে পারবে বাংলাদেশের অবস্থানটা কোথায়। একটি দ্বিপাক্ষিক সফরের পরই বোঝা যাবে আর্থিক দিক থেকে তারা কতটা লাভবান হতে পারবে। কেননা আমরা তো আর আগের অবস্থানে নেই। র‌্যাংকিংয়ের উন্নতিই তাই প্রমাণ করে। তাই আমরা দাবি করতেই পারি তাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলার।’
চলমান বার্ষিক সভাতে সংশি¬ষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে এ ব্যাপারে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান আলোচনা করবেন বলে জানালেন মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান, ‘বার্ষিক সভাতে সব দেশের সদস্য, সিইও এবং সভাপতি থাকবে। তাই এটা আমাদের জন্য একটা সুযোগ, সবার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করার। এই ধরনের বার্ষিক সভায় এক দেশ আরেক দেশের সঙ্গে আলোচনা করেই এফটিপি ঠিক করে।’
এর বাইরেও আইসিসির সভাতে গঠনতন্ত্র নিয়ে বেশ কিছু আলোচনা হবে বলে জানালেন জালাল ইউনুস, ‘মূলত এবারের আইসিসি সভায় গঠনতন্ত্র নিয়ে বেশ কিছু আলোচনা হবে। গত কয়েকটা সভায় গঠনতন্ত্রে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। সেগুলো অনুমোদনের ব্যাপার আছে। হয়তো কিছু স্বাধীন পরিচালক নিয়োগ হতে পারে। এছাড়া আইসিসি ওমেন্স উইংয়ের একজন পরিচালক যোগ করার কথা আছে।’

পদত্যাগ নিয়ে যা বললেন কুম্বলে
ক্রীড়া ডেস্ক
অনেক দিন ধরেই বনিবনা হচ্ছিল না কোচ অনিল কুম্বলে ও ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলির। সম্পর্ক এতটাই তিক্ত হয়ে দাঁড়িয়েছিল যে কঠিন সিদ্ধান্তই নিতে হতো ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডকে। শেষ পর্যন্ত নিজেই একটা সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিলেন ভারতীয় কোচ অনিল কুম্বলে। কোচের পদ থেকে গতকালই পদত্যাগ করেছেন। সঙ্গে একটি বিবৃতিও দিয়েছেন ভারতীয় সাবেক এই অধিনায়ক। পাঠকদের জন্য সেই বিবৃতির কিছু অংশ তুলে ধরা হলো-
‘ক্রিকেট উপদেষ্টা কমিটি যে বিশ্বাস আমার ওপর স্থাপন করেছিল; তাতে আমি সত্যিই সম্মানিত বোধ করেছি। তারা আমাকে এই পদে থাকতেই অনুরোধ করেছিলেন। গত এক বছরে যে সাফল্য তার সবটুকুর কৃতিত্ব অধিনায়কের, পুরো দলের আর স্টাফদের।
আমি গতকালই জানতে পারি বোর্ডের কাছ থেকে, আমার কাজের ‘স্টাইল’ নিয়ে তুষ্ট নন অধিনায়ক। এমনকি হেড কোচ হিসেবে থাকা নিয়েও। এ ঘটনা শোনার পর আমি সত্যিই বিস্মিত হয়েছি। কারণ আমি সব সময়ই কোচ ও অধিনায়কের মধ্যে থাকা ব্যবধানকে মেনে চলেছি। তারপরেও বোর্ড কিন্তু কোচ ও অধিনায়কের মাঝে ভুল বোঝাবুঝির অবসান চেয়েছিল। তবে এটা মেনে নিতেই হবে যে এই সম্পর্ক টিকতো না। আমি মনে করি আমার সামনের দিকে এগিয়ে চলা উচিত।
সেই আপত্তি থেকেই মনে করছি এই দায়িত্ব বোর্ডে কাছেই অর্পণ করে দেওয়া উচিত। যাতে করে তারা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিতে পারে। আমি শেষে এটাই বলতে চাই, গত এক বছর হেড কোচের দায়িত্ব পালন করাটাকে সত্যি উপভোগ করেছি। আমি উপদেষ্টা কমিটি, বিসিসিআই ও প্রশাসকদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। ’

রোনালদোর হাজিরা
৩১ জুলাই
ক্রীড়া ডেস্ক
কৌঁসুলিদের দায়ের করা কর ফাঁকির মামলার প্রেক্ষিতে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে ৩১ জুলাই আদালতে হাজিরা দিতে হবে বলে খবর স্পেনের সংবাদ মাধ্যমগুলোর। ওই দিন মাদ্রিদের উপকণ্ঠ পোসলোর আদালতে স্থানীয় সময় সকাল ১১ টায় রোনালদোকে অবশ্যই উপস্থিত থাকতে হবে।
স্পেনের সরকারি কৌঁসুলিদের অভিযোগ, ২০১১ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত এক কোটি ৪৭ লাখ ইউরো কর ফাঁকি দিয়েছেন পর্তুগালের এই খেলোয়াড়। বরাবরই এ ধরনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছেন চারবারের বর্ষসেরা এই ফুটবলার।
সংবাদ মাধ্যমগুলোর খবর, স্পেনের কর কর্তৃপক্ষের এমন অভিযোগে ভীষণ বিরক্ত রোনালদো। তাই এই দেশ ছেড়ে দিতে চান তিনি। গত নভেম্বরে রিয়ালের সঙ্গে পাঁচ বছরের নতুন চুক্তি করা ৩২ বছর ফরোয়ার্ডকে পেতে চাইছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও এসি মিলানসহ অনেক ক্লাব।
রোনালদো রিয়াল ছাড়লে তা লা লিগার জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হবে বলে জানিয়েছেন এই লিগের সভাপতি হাভিয়ের তেবাস। সোমবার রিয়াল মাদ্রিদের সভাপতি পদে পুনঃনির্বাচিত হওয়া ফ্লোরেন্তিনো পেরেসও জানিয়েছেন- তারকা এই খেলোয়াড়কে ছাড়তে চান না তিনি। কেউ রোনালদোকে কিনতে চাইলে রিয়ালে তার বাইআউট ক্লাজের ১০০ কোটি ইউরো দেওয়ার সক্ষমতা থাকতে হবে জানিয়ে দিয়েছেন ক্লাবটির এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

এবার মরিনিহোর বিরুদ্ধে
কর ফাঁকির অভিযোগ
ক্রীড়া ডেস্ক
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর এবার রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক কোচ হোসে মরিনিহোর বিরুদ্ধে কর ফাঁকির অভিযোগ এনেছে স্পেনের সরকারি কৌঁসুলিরা। মরিনিহোর বিরুদ্ধে অভিযোগ, সান্তিয়াগো বার্নাব্যুয়েতে দায়িত্ব পালনের মেয়াদকালে ৩৩ লাখ ইউরো কর দেননি তিনি।
মাদ্রিদ ছেড়ে ২০১৩ সালে ইংলিশ ক্লাব চেলসিতে যোগ দেন মরিনিহো। আর গত বছর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের দায়িত্ব নেন এই পর্তুগিজ। কৌঁসুলিরা জানিয়েছেন, ২০১১ ও ২০১২ সালে মরিনিহো তার ইমেজ স্বত্ব থেকে আয়ের বিস্তারিত জানাতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। কদিন আগে রোনালদোর বিরুদ্ধে ২০১১ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত এক কোটি ৪৭ লাখ ইউরো কর ফাঁকির অভিযোগ আনে স্পেনের সরকারি কৌঁসুলিরা।

আলভেস একটা
নির্বোধ : ম্যারাডোনা
ক্রীড়া ডেস্ক
সম্প্রতি ১৯৮৬ বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনার করা ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের প্রসঙ্গ টেনে তার সমালোচনা করেন দানি আলভেস। জবাবে ছেড়ে কথা বলেননি আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ফুটবলার। ব্রাজিলের ডিফেন্ডারকে ‘নির্বোধ’ বলেছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী সাবেক অধিনায়ক।
অনেক দিন ধরেই মারাদোনার সঙ্গে তুলনা চলছে বর্তমানের অন্যতম সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসির। এ প্রসঙ্গে ব্রাজিলের আলভেসের মত, মেসির সঙ্গে কোনোভাবেই মারাদোনার তুলনা হতে পারে না। কারণ সাবেক এই ফরোয়ার্ড ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের জন্য কুখ্যাত।
ব্রাজিলের একটি টিভিকে আলভেস বলেন, মেসি ও ম্যারাডোনার মধ্যে তুলনা করতে চান? আপনি তাদের মধ্যে তুলনা করতে পারেন না। আমি ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল করে একটা বিশ্বকাপ জিতেছিলাম-এটা বলে আমি গর্ববোধ করতে পারি না। যে বিষয় নিয়ে পুরো বিশ্ব কথা বলে তা আমি আমার ছেলেকে বলতে পারতাম না । আমাদের প্রতারিত করেছে ‘হ্যান্ড অব গড’, এ বিষয়ে আপনাকে শক্ত অবস্থান নিতে হবে। এ ধরনের একজন ক্রীড়াব্যক্তিত্ব কখনোই তরুণদের জন্য উদাহরণস্বরূপ হতে পারে না।
জবাবে আর্জেন্টিনার ক্রীড়াবিষয়ক টিভি চ্যানেলকে ম্যারাডোনা বলেন, দানি আলভেস একটা নির্বোধ। সে ২৮টি পাস দিলে চারটি ঠিক হয়।…কাফু ও মাইকন ভালো ছিল। দানি আলভেস? বাজে। সে কথা বলে। কারণ, সে মাঠে এমন এক পজিশনে খেলে যেখানে ফুটবল খেলা হয় না। তারা (রাইট-ব্যাক) ম্যাচে তিনবার বলে পা লাগায় আর আটবার ফাউল করে।

ফুটবলে ভিডিও প্রযুক্তি নিয়ে
উচ্ছ্বসিত ফিফা
ক্রীড়া ডেস্ক
চলমান কনফেডারেশন্স কাপে এখন পর্যন্ত ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির সফল ব্যবহারে দারুণ খুশি বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা- ফিফা। বিশ্বকাপের এবারের ‘মহড়া’ প্রতিযোগিতায় এখন পর্যন্ত পাঁচবার ভিডিও প্রযুক্তির ব্যবহার হয়েছে। মাঝে মধ্যে যা দর্শকদের বিভ্রান্তিতে ফেলেছে। তবে ব্যবহারে সন্তুষ্ট ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো, আমরা দেখেছি, ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট কীভাবে রেফারিদের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করেছে। এখন পর্যন্ত আমি ভিএআর ব্যবহারে খুব খুশি। এটা একটা মাইলফলক টুর্নামেন্ট।
ফিফার কোনো প্রতিযোগিতায় ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রথম ব্যবহƒত হয় গত নভেম্বরে জাপানে ক্লাব বিশ্বকাপে। পরে আরও কিছু প্রতিযোগিতায় এর ব্যবহার হয়েছে। কনফেডারেশন্স কাপে রবিবার মেক্সিকোর বিপক্ষে পেপে বল জালে পাঠালেও ভিএআর রেফারেল নিয়ে গোলটি বাতিল করে দেন রেফারি। একই দিনে একইভাবে ক্যামেরুনের বিপক্ষে চিলির ফরোয়ার্ড এদুয়ার্দো ভারগাসের একটি প্রচেষ্টাও অফসাইডের কারণে বাতিল করেন রেফারি।
পরে যোগ করা সময়ে ভারগাসের গোলে অফসাইড সন্দেহে রেফারেল নিয়েছিলেন রেফারি। তবে ভিডিও দেখে বাজে গোলের বাঁশি। ফিফা জানিয়েছে, রেফারেল নেওয়া পাঁচটি ঘটনাই ছিল গোল সম্পর্কিত। এর মধ্যে চারটি অফসাইড সম্পর্কিত, অন্যটি হ্যান্ডবল সন্দেহে।

১০০ কোটি ইউরোয় রোনালদোকে
ছাড়তে পারে রিয়াল
ক্রীড়া ডেস্ক
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে যেকোনো মূল্যে ধরে রাখতে চান ফ্লোরেন্তিনো পেরেস। তবে কোনো কারণে দলের সেরা খেলোয়াড়কে যদি ছাড়তেই হয়, সেক্ষেত্রে তাকে পেতে আগ্রহী দলকে তার বাইআউট ক্লজের ১০০ কোটি ইউরো দিতে হবে বলে জানিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদ সভাপতি।
রোনালদোর বিরুদ্ধে কর ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর থেকে তাকে অপরাধী হিসেবে যারা দেখছে, তাদেরকেও একহাত নিয়েছেন পেরেস। স্পেনের সরকারি কৌঁসুলিদের অভিযোগ ২০১১ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত এক কোটি ৪৭ লাখ ইউরো কর ফাঁকি দিয়েছেন রোনালদো। তদন্ত শুরুর পর থেকেই এমন অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন তারকা এই খেলোয়াড়।
সংবাদ মাধ্যমগুলোর খবর- স্পেনের কর কর্তৃপক্ষের আচরণে বিষিয়ে উঠেছে চার বারের বর্ষসেরা এই ফুটবলারের মন; ছাড়তে চান স্পেন। অনেকের ধারণা, ইংল্যান্ডের সফলতম ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে ফিরতে পারেন ৩২ বছর বয়সী এই খেলোয়াড়। রিয়াল সভাপতি জানিয়েছেন, কোনো ক্লাব পর্তুগিজ ফরোয়ার্ডকে কিনতে চাইলে গুণতে হবে বিশাল অংকের ট্রান্সফার ফি।
ওন্দা সেরোকে পেরেস বলেন, তার ক্লাব ছাড়ার মূল্য ১০০ কোটি ইউরো। কেউ ওই অংকের অর্থ দিতে ইচ্ছুক না হলে, সে কোথাও যাচ্ছে না। কর ঝামেলায় রোনালদোর পাশে থাকার প্রতিশ্র“তি দিয়ে পেরেস বলেন, খেলোয়াড় হিসেবে ও একজন মানুষ হিসেবে তার পাশে আমি থাকবো। আমি ক্রিস্তিয়ানোকে জানি, পেশাদার ও ব্যক্তি উভয় দিক থেকেই সে ভালো মানুষ।”
কনফেডারেশন্স কাপ খেলতে বর্তমানে জাতীয় দলের সঙ্গে রাশিয়ায় আছেন রোনালদো। তাই এখন এ বিষয়ে কথা বলে তার মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটাতে চান না পেরেস। প্রতিযোগিতাটি শেষ হলে এ বিষয়ে রোনালদোর সঙ্গে কথা বলবেন রিয়াল সভাপতি।