ডুমুরিয়ার কাঁঠালতলায় বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত

শেখ আব্দুস সালাম, চুকনগর >
ডুমুরিয়া উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের কাঁঠালতলা মঠ মন্দির সংলগ্ন গোবিন্দকাটী গ্রামরক্ষা ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ ভেঙে গোবিন্দকাটী গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। গত সোমবার রাতে ভদ্রা নদীর প্রবল জোয়ারের পানির তোড়ে ঝুঁকিপূর্ণ ২০/২৫ ফুট বাঁধ ভেঙে গ্রামের ভিতরে পানি প্রবেশ করে সবজি ও পাটক্ষেত, বসতবাড়ি পানিতে তলিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। খবর পেয়ে মঙ্গলবার দুপুরে জোয়ারের সময় ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেন মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ এমপি। জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ মেরামতের জন্য তিনি উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন।
এছাড়া বাঁধ অভ্যন্তরে পাটনপাড়া নামক বিলের ১৭৫ বিঘা জমি লোনা পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে আগামী আমন ও বোরো ধান চাষ ও বীজতলা রয়েছে পানির নীচে। এতে ধানচাষ ব্যহত হবে বলে জানিয়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষ।
এদিকে পলি অপসারণ ও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ মেরামতের জন্য টিআর প্রকল্পের ৩০ হাজার টাকা বরাদ্দ পেয়েও তার কোন কাজ করেনি সংশ্লিষ্ট গোবিন্দকাটী ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মনিরুজ্জামান রাজু এমন অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। তবে উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা আশরাফ হোসেন বলেছেন- প্রকল্প অনুযায়ী কাজ হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, জোয়ারের পানিতে বাঁধ ভেঙে প্রায় ৪০ বিঘার মত বিভিন্ন প্রকার সবজি ও পাটক্ষেত তলিয়ে গেছে। গ্রামের মশিয়ার জোয়াদ্দার, আবুল কালাম, ইরান গাজী ও ফজর আলী মোল্যার বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে গেছে। স্থানীয় নারায়ন সরকার, আবুল হোসেন তরফদার, গণেশ মল্লিক, আব্দুল আজিজ শেখ, কার্ত্তিক বসাক, আনন্দ সরকার, শাহাদাৎ শেখ, কানাই মল্লিকসহ এলাকাবাসী জানান, বাঁধ ভেঙে লোনা পানি ভিতরে প্রবেশ করে বিল ও ফসলী জমির যে ক্ষতি হয়েছে তা কয়েক বছরের মধ্যে কাটিয়ে উঠা সম্ভব নয়। এ প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য মনিরুজ্জামান রাজু ও ইউপি চেয়ারম্যান প্রতাপ রায়ের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশেক হাসান জানান, ভাঙনস্থান মেরামতের জন্য কর্মসূচি শ্রমিক দিয়ে কাজ করাতে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যকে বলা হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বাঁধ ভাঙন স্থানে কোন শ্রমিকের দেখা পাওয়া যায়নি। বর্তমানে ওই স্থান দিয়ে নদীর সাথে একাকার হয়ে জোয়ার-ভাটা বইছে।