সশস্ত্র মহড়া চলছে প্রতি রাতে> নির্বাসখোলায় হামলার শিকার আ.লীগ কর্মীরা মামলা করতে সাহস পাচ্ছেন না

নিজস্ব প্রতিবেদক>
ঝিকরগাছা উপজেলার নির্বাসখোলা ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তার করতে আওয়ামী লীগ কর্মীদের বাড়িতে হামলা ও বোমা বিস্ফোরণ ঘটনার ৫ দিন অতিবাহিত হলেও মামলা হয়নি। ভয়ে বাদী হতে সাহস পাচ্ছেন না নির্যাতিত আওয়ামী লীগ কর্মীরা। প্রতি রাতে সশস্ত্র মহড়ায় আতংকিত এলাকাবাসী।
এলাকাবাসী জানায়, উপজেলা নির্বাসখোলা ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে জোট সরকার আমলে এলাকার ত্রাস, শিবির ক্যাডার নিজামউদ্দীন ও বিএনপির ক্যাডার কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ২০/২৫ জনের একটি সন্ত্রাসী দল সশস্ত্র মহড়া দিয়ে গত ২৯ জুন বৃহষ্পতিবার রাতে আওয়ামী লীগ কর্মীদের বাড়িতে হামলা চালায় এবং হাত বোমা বিস্ফোরণ করে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে। তাদের হামলার শিকার নারী, কলেজ ছাত্র ও আওয়ামী লীগের নিরিহ কর্মী। ঘটনার ৫ দিন অতিবাহিত হলেও কোন ভুক্তভোগি তাদের বিরুদ্ধে মামলা করতে সাহস পাচ্ছেন না। ঘটনার প্রাথমিক পর্যায়ে নির্যাতিত তাইজুল হোসেন বাদী হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন। কিন্তু মালেশিয়ায় অবস্থানরত তার ছেলেকে হুমকি দেয়ায় সে আর বাদী হচ্ছে না। এদিকে তাইজুল ইসলাম বাদী হতে চেয়ে না হওয়ায় নির্যাতিত আর কেউ ওই মামলায় বাদী হচ্ছেন না।
অন্যদিকে নিজামউদ্দীন এলাকা ছেড়ে চলে গেলেও নির্বাসখোলা ইউনিয়ন বিএনপির ১ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি জোট সরকার আমলের ত্রাস কামাল হোসেনের নেতৃত্বে প্রতিদিন রাতে ২০/২৫ জনের একটি সন্ত্রাসী দল রামদা, গাছি দা, বোমাসহ বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিচ্ছে। ফলে নির্যাতিত ব্যক্তি সহ গ্রামের আওয়ামী লীগ কর্মীরা আতংকে রয়েছেন। না জানি কখন, কার উপর হামলা হয়! কামালের দলের অন্যান্য সদস্যরা হলো, জামায়াত কর্মী মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে রেজাউল ইসলাম ও আনিছুর রহমান, মৃত আতিয়ার রহমানের ছেলে ডা. মঈনউদ্দীন, মৃত আত্তাফ বিশ্বাসের ছেলে মকিম বিশ্বাস ও শহিদুল ইসলাম, মকিম বিশ্বাসের ছেলে মাসুম, শহিদুল বিশ্বাসের ছেলে মিলন কবীর, দুঃখে মোড়লের ছেলে আকরম আলী, আব্বাস আলীর ছেলে কেরামত আলী, বিএনপির গোলাপ মোড়লের ছেলে ও কামালের ভাই তাজউদ্দীন, নাসিরউদ্দীনের ছেলে জসিম ও জনি, মৃত মতিয়ার রহমানের ছেলে মফিজুর রহমান, নাসির উদ্দীনের ছেলে সেলিম, মোলাম আলীর ছেলে ফিরোজ, তুরাব আলীর ছেলে তুহিন, এছাড়া এই বাহিনীর আরো সদস্য মৃত ইসমাইল হোসেনের ছেলে তহিদুর রহমান কালু, জমিরউদ্দীনের ছেলে টিপু, ছিদ্দিক হোসেনের ছেলে সরোত আলী, আত্তাফ বিশ্বাসের ছেলে বাদল বিশ্বাস।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন আওয়ামী লীগ কর্মী জানান, জোট সরকারের আমলে নিজামউদ্দীন, কামাল হোসেন, তাজউদ্দীন, আনিছুর রহমান, রেজাউল ইসলাম, নাসির হোসেনের নির্যাতনের কথা এলাকাবাসী ভোলেনি। তাদের মারপিটের শিকার আওয়ামী লীগ কর্মীরা এখনও ক্ষত বয়ে রেড়াচ্ছেন। তারা বিএনপি আমলে আওয়ামী লীগকে মেরেছে, আবার আওয়ামী লীগ আমলেও মারছে। এই এলাকার লোক তাহলে আওয়ামী লীগ করবে কেন? তারা আরো জানান, নেতাদের জানানো হয়েছে। পুলিশকে জানানো হয়েছে। এখনও পর্যন্ত একজন সন্ত্রাসীও গ্রেফতার হয়নি। পুলিশ মাঝে মাঝে টহল দিলেও পুলিশের ভূমিকা রহস্যজনক।