চেক জালিয়াতি প্রমাণিত হওয়ায় চৌগাছায় অফিস সহকারী বরখাস্ত

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি>
চেক জালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে প্রেষণে কর্মরত অফিস সহকারী আনোয়ারুল ইসলামকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। ১৩ জুন যশোরের জেলা প্রশাসক ড.হুমায়ুন কবীর স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়।
চাকরিচ্যুত হওয়ার ফলে তিনি অবসরকালীন কোন সুযোগ সুবিধা পাবেন না। এ আদেশের বিরুদ্ধে চাকরিচ্যুত কর্মচারী আনোয়ারুল ইসলাম উচ্চ আদালতে রিট করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ওই কর্মচারী প্রেষণে চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৪ সালের জুন মাসে উপজেলা পরিষদের সভাসহ অন্যান্য আপ্যায়ন বাবদ ৫ হাজার টাকা বরাদ্দ ছিল। ৬ শতাংশ ভ্যাটের টাকা কর্তন করে রাজস্ব তহবিল থেকে উত্তোলনের জন্য ৪,৭০০ টাকার একটি চেক (যার নং গগ/১০০ নং৮৭৩৬৮৮১ তারিখ ৩০.০৬.২০১৪, সোনালী ব্যাংক, চৌগাছা শাখা) জাকির হোসেনের অনুকুলে প্রস্তুত করে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুষমা সুলতানা এবং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম হাবিবুর রহমানের স্বাক্ষর নেন। পরে তিনি নিজেই চেকটি নিয়ে সোনালী ব্যাংক চৌগাছা শাখায় নিয়ে গিয়ে ৪,৭০০/- লেখা সংখ্যার আগে ৪০ ও কথায় চার লাখ লিখে নগদায়নের জন্য ক্যাশ কাউন্টারে জমা দেন। বিষয়টি ব্যাংক কর্মকর্তাদের সন্দেহ হলে বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুষমা সুলতানাকে জানান। সেসময় জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন নিজেই অসৎ উদ্দেশ্যে অনৈতিকভাবে টাকা অর্জনের জন্য তিনি একাজ করেছেন। তখন তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ০১/২০১৫ মামলা রুজু করে অভিযোগনামা ও অভিযোগবিবরণী গঠন করে সরকারী কর্মচারী (শৃংখলা ও আপীল) বিধিমালা ১৯৮৫ এর ৩(বি) ধারায় অভিযুক্ত করে কারন দর্শানো নোটিশ দেয়া হয়।
তার কারন দর্শানোর জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় ব্যক্তিগত শুনানি গ্রহণ করা হয়। শুনানিকালেও তার বক্তব্য গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় অতিরিক্ত জেলা প্রসাশক (সার্বিক) সাবিনা ইয়াসমিনকে বিষয়টি তদন্তের ভার দেয়া হয়। তদন্ত পূর্বক ‘অভিযোগ সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে’ বলে তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদন দেন। প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ফলে তার বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবেনা সেমর্মে সরকারি কর্মচারী (শৃংখলা ও আপীল) বিধি, ১৯৮৫ এর ৭(৬) বিধি মোতাবেক তাকে দ্বিতীয় কারণ দর্শানো নোটিশ প্রদান করা হয়। সে নোটিশেরও তিনি সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি।
সে কারণে জেলা প্রশাসক, যশোর কার্যালয়ের সংস্থাপন শাখার অফিস সহকারী মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম (চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসে প্রেষণে কর্মরত) কে সরকারি কর্মচারী (শৃংখলা ও আপীল) বিধিমালা ১৯৮৫ এর ৩(বি) বিধিতে “আসাদাচরণ” এর অপরাধ সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হওয়ায় একই বিধির ৪(৩)(ডি) বিধি অনুযায়ী শাস্তি হিসেবে ১৪ জুন’২০১৭ খ্রিঃ তারিখ হতে তাকে চাকুরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তের ফলে তিনি অবসরকালীন কোন সুযোগ সুবিধা নিতে পারবেন না।
চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার নার্গিস পারভীন বলেন, ‘সরকারী কর্মচারীদের শৃংখলা ও সদাচরণের বিষয়ে প্রশাসন সবসময়ই স্বচ্ছ এবং সোচ্চার। তিনি বলেন, কোন সরকারি কর্মচারীই অপরাধ করে পার পাবেননা। বর্তমান সরকার এই নীতিতেই বিশ্বাসী। আনোয়ারুল ইসলামের চাকরিচ্যুতি সেটিই আবার প্রমাণিত হলো।