পুলিশের চাকরিতে যোগ দেয়া হলো না তুলীপের

নিজস্ব প্রতিবেদক>
বাবা দুধ বিক্রি করে ছোট ছেলে তুলীপ ঘোষকে (১৮) লেখাপড়া শিখিয়েছেন ভাল একটি চাকরির আশায়। সরকারি চাকরিও পেয়েছিল তুলীপ। আগামীকাল ৮ জুলাই যশোর পুলিশের রিজার্ভ অফিসে যোগ দিয়ে ওই দিন থেকে পুলিশ কনস্টেবল পদে (টিআরসি)তে ট্রেনিং শুরুর কথা ছিল। কিন্তু বাবার সে আশা পূর্ণ হলো না। তুলীপ বাড়িতে বিদ্যুতের ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে গিয়ে চলে গেলেন না ফেরার দেশে। ঘটনাটি ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার সকালে যশোর সদর উপজেলার লেবুতলা ইউনিয়নের তেজরোল গ্রামে।
তুলীপের চাচাতো ভাই লিটন ঘোষ বলেছেন, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে তুলীপ বাড়িতে পানির মটরে বৈদ্যুতিক লাইনের কাজ করছিল। বাড়ির মধ্যে গোয়াল ঘরের কাছে কর্দোমাক্ত স্থানে কাজ করার সময় অসাবধান বসত ইলেকট্রিক লাইন তার শরীর স্পর্শ করে। সে সময় তুলীপ পাশে শক্ত স্থানে পড়ে গেলে মাথায় আঘাত লাগে। বাড়ির মধ্যে থাকা অন্যান্য লোকজন তাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করে। কিন্তু হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. কল্লোল কুমার সাহা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
লিটন আরো জানিয়েছেন, ঘটনার পরপরই তার মুত্যু হয়েছিল বলে ডাক্তার জানিয়েছেন। বাড়ির লোকজনও বুঝতে পেরেছিল। কিন্তু তারপরও বাঁচানো সম্ভব হতে পারে এই আশায় হাসপাতালে নেয়া হয়। তুলীপরা তিন ভাই । সে সবার ছোট। বাবা গ্রামে দুধ বিক্রি করে সংসার চালান। সে পুলিশে চাকরি পেয়েছিল। ৮ জুলাই যশোর পুলিশ লাইনে যোগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু চাকরিতে যোগ দেয়া হলো না। বাবার আশা শেষ হয়ে গেল।
কোতয়ালি থানার ডিউটি অফিসার এসআই খাদিজা খাতুন জানিয়েছেন, এই ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।