বেনাপোল পৌর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি মন্টুকে র‌্যাব পরিচয়ে আটকের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

শেখ কাজিম উদ্দিন, বেনাপোল>
বেনাপোল পৌর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি জুলফিকার আলী মন্টুকে র‌্যাব পরিচয়ে সাদা পোশাকধারী কর্তৃক আটকের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগ। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার সময় উপজেলা মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে এক লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব নুরুজ্জামান বলেন, ফৌজদারীসহ কোনও মামলায় কারো বিরুদ্ধে এজাহার হলে, সে যদি আইনের আশ্রয় না নেয় বা জামিন গ্রহণ না করে এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়, এমতাবস্থায় ‘আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক দায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্তকারী সংস্থা সুনির্দিষ্ট গ্রেফতারি পরোয়ানাসহ নিকটস্থ থানার সহযোগিতায় নিজেদের পরিচয় এবং অভিযোগ উপস্থাপন করে আসামিকে আটক এবং আদালতে হাজির করে বিচারকের অনুমতি স্বাপেক্ষে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে। সেখানে কোন হীন উদ্দেশ্যে বেনাপোল পৌর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি জুলফিকার আলী মন্টুকে সাদা পোষাকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল প্রাথমিকভাবে এ সংক্রান্ত কারো বোধগম্য না হওয়ায় এবং সাবেক উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তারিকুল আলম তুহিন গুম’র কথা স্মরণ করে মানুষ হতবিহ্বল হয়ে শার্শার নাভারন বাজারে মন্টুর আটক অভিযানে অংশ নেওয়া মাইক্রোবাসটি আটক করে। এ সময় শার্শা থানার পুলিশ ও জনতার জিজ্ঞাসার মুখে তখন নিজেদের র‌্যাব পরিচয় দিয়ে মন্টুর বিরুদ্ধে মামলার অধিকতর জিজ্ঞাবাদের কথা আছে বলে নিয়ে যায়। যা আইনের সুস্পষ্ট লংঘন হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, সরকার যেখানে গণতন্ত্রকে সু প্রতিষ্ঠিত করে জনগণের কাছে শতভাগ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, সেখানে কার ইঙ্গিতে শার্শার সাবেক চেয়ারম্যান কামাল এবং বর্তমান চেয়ারম্যান সোহারাবের উপর গুলি বর্ষণ হয়। এছাড়া শার্শা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বেনাপোল পৌর প্যানেল মেয়র তারিকুল আলম তুহিনকে গুম করা হয়। কার নির্দেশে চেয়ারম্যান বকুলকে আটক এবং ভবারবেড় এলাকায় মন্ত্রীর অনুষ্ঠানে লাঞ্ছিত করা হয়। কার নির্দেশে বেনাপোল ইউপি চেয়ারম্যান বজলুর রহমানের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অনৈতিকভাবে তালাবদ্ধ করার অপপ্রয়াস চালানো হয়। শার্শা বাজারে অবস্থিত আওয়ামীলীগের দলীয় কার্যালয়ে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের বসার স্থল ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হয়। সর্বশেষ মেহেদী হাসানের উপর গুলিবর্ষন, লাঞ্ছিত, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তালাবদ্ধ করার অপপ্রয়াস চালানো হচ্ছে। এছাড়ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও দলীয় অফিস ভাংচুর করা হয় এবং সর্বশেষ গত ৩ জুন সন্ধ্যায় সাদা পোষাকে মন্টুকে বিনা গ্রেফতারি পরোয়ানায় তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। যার সবই শার্শাবাসীর কাছে সুষ্পষ্ট।
এ সময় তিনি প্রশাসনের সকল স্তরের দ্বায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের প্রতি ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, আমাদের সুস্পষ্ট এবং উদাত্ত আহবান কারো কথায় বা কোনভাবে প্ররোচিত হয়ে এ ধরণের অন্যায় সহযোগিতা না করা। যার মাধ্যমে সরকারের ভাবমূর্তি ও স্ব-স্ব প্রশাসনের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। তিনি এ ধরনের কাজের ধিক্কার ও নিন্দা জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যের আগে স্বাগত বক্তব্য দেন শার্শা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক মঞ্জু।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, যশোর জেলা পরিষদের সদস্য ও শার্শা উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ ইব্রাহীম খলিল, যশোর জেলা পরিষদের সদস্য ও শার্শা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি অহিদুজ্জামান অহিদ, শার্শা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান, বেনাপোল ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব বজলুর রহমান, বাগ আঁচড়া ইউপি চেয়ারম্যান ইলিয়াছ কবির বকুল, নিজামপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আযাদ, পুটখালী ইউপি চেয়ারম্যান হাদিউজ্জামান, কায়বা ইউপি চেয়ারম্যান সালেহ আহম্মেদ টিংকু, বাহাদুরপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, লক্ষণপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান কামাল হোসেন, শার্শা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুর রহিম সরদারসহ উপজেলার সকল ইউনিয়ন আওয়ামীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক, উপজেলা আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ এবং স্বেচ্ছাসেবকলীগের নেতা কর্মীরা।