যশোরে পৌর কাউন্সিলর হাজি সুমনের বিরুদ্ধে স্যাটেলাইট কেবল সংযোগ দখলের অভিযোগ

 নিজস্ব প্রতিবেদক>
যশোর পৌরসভার কাউন্সিলর আলমগীর কবীর সুমন ওরফে হাজী সুমনের বিরুদ্ধে সোনালী স্যাটেলাইট নামের একটি কেবল অপারেটর প্রতিষ্ঠানের ৮শ’-৯শ’ সংযোগ লাইন দখল করে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সাথে প্রতিষ্ঠানটির কর্মচারীদের মারপিট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক একে সিদ্দিকী রাজনকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন তিনি ও তার লোকজন। বৃহস্পতিবার প্রেসক্লাব যশোর মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন কেবল অপারেটর প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কর্মচারীরা।
লিখিত বক্তব্যে ব্যবস্থাপনা পরিচালক একে সিদ্দিকী রাজন বলেন, ১৯৯২ সাল থেকে আমার পিতা মিজানুর রহমান সকল প্রকার নিয়মনীতি মেনে যশোর শহরে সোনালী স্যাটেলাইট নামের প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করে আসছেন। গত দুই বছর আগে আলমগীর কবির সুমন ওরফে হাজী সুমন (বর্তমান কাউন্সিলর) জোরপূর্বক ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বাঁধা সৃষ্টি করে। ব্যবসা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে তার সাথে শর্ত সাপেক্ষে একটি ওয়ার্কিং পার্টনারশিপ চুক্তিনামা করা হয়। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী তাকে মাসিক ১০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা। কিন্তু কিছুদিন পর হাজী সুমন চুক্তির শর্ত অমান্য করে মাসিক ৩০ হাজার টাকা দাবি করলে আমরা দাবিকৃত টাকা দিতে বাধ্য হই। পর্যায়ক্রমে মাসিক ৩৫ হাজার ও ৪০ হাজার টাকা করে জোরপূর্বক আদায় করেন। সম্প্রতি তিনি ৬০ হাজার টাকা দাবি করেন। যা সম্পূর্ণ অবৈধ।
তিনি বলেন, তার দাবিকৃত টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় গত রোজার মাসে আমাদের প্রতিষ্ঠানের অর্ধেক (৮০০-৯০০জন) গ্রাহকের সংযোগ দখল করে নিয়েছেন। গত ৯ জুন আমাদের প্রতিষ্ঠানের লাইনম্যান ইসমাইল হোসেনকে হাজী সুমনের অফিসে তুলে নিয়ে মারপিট করা হয়। এসময় তার কাছে থাকা ১৬ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়া হয়। হাজী সুমন মোবাইল ফোনে আমাকে হত্যার হুমকি দেন। তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানের সংযোগ লাইন দখল করে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে ভিশন স্যাটেলাইট নাম দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা আদায় করছেন তিনি। এ ব্যাপারে প্রতিবাদ করায় আমাকে হত্যার হুমকির বিষয়টি র‌্যাব, জেলা গোয়েন্দা শাখায় অভিযোগ ও কোতয়ালী থানায় একটি জিডি করেছি। বর্তমানে আমি চরম নিরাপত্তহীনতায় ভূগছি। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ম্যানেজার তাপস কুমার অধিকারী, মোহাম্মাদ ইসলাম, ইসামইল হোসেন, মাহাবুবুর রহমান প্রমুখ।