আওয়ামী লীগ সবসময় নির্বাচনে বিশ্বাসী: প্রধানমন্ত্রী

স্পন্দন ডেস্ক>
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশব্যাপী চলমান মেগা প্রকল্পগুলো সম্পন্ন করতে আওয়ামী লীগকে আরো এক মেয়াদ ক্ষমতায় রাখতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপিত হবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করবে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েই এই সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপিত হবে এবং দল ক্ষমতায় থেকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়ে তুলবে।
আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার বিকেলে তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে সূচনা বক্তব্যে এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দানকারী আওয়ামী লীগ ২০২১ সালে ক্ষমতায় থেকে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করতে চায়। আমি চাই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থেকে ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী পালন হোক। আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ক্ষমতায় এসে যেসব কাজ হাতে নিয়েছি, তার অনেক বাস্তবায়ন করেছি। কিন্তু মেগা প্রকল্পগুলো এখনও বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এজন্য আরও এক টার্ম ক্ষমতায় থাকা প্রয়োজন। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ক্ষমতায় এলে দেশের উন্নয়ন করি। এটাই আওয়ামী লীগের নীতি।
এছাড়া যারা ক্ষমতায় আসে, তারা লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করে। তাই দেশের মানুষকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা কাকে চান।
জনগণকে ভোটের মালিক উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব- এ স্লোগান আমরাই জনপ্রিয় করেছিলাম। আওয়ামী লীগ সবসময় নির্বাচনে বিশ্বাসী। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের মানুষ আবারও আওয়ামী লীগের ওপর আস্থা রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি। দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করতে হবে। বিএনপি দেশ শাসন করতে নয়, ভোগ করতে, লুটপাট করতে ক্ষমতায় আসে- এটাও জনগণের কাছে তুলে ধরতে হবে। আর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে দেশের উন্নয়ন করে, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখে- এটা প্রমাণিত।
বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, নির্বাচন এলে তারা বিভিন্ন রকম টালবাহানা শুরু করে। আমাদের সরকার হাওয়া ভবন খুলে খাওয়া ভবন তৈরি করেনি বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ইশতেহার হাতে নিয়ে বাজেট প্রণয়ন করি। এ বাজেট বাস্তবায়ন করতে পারলে ২০১৯ সালে আরও বড় আকারে বাজেট দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী আওয়ামী লীগ উদযাপন করবে, এ লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করি। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থেকে পালন করবে- আমি এটা চাই। তিনি বলেন, সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় ছিল বলে উন্নয়নের সুফল জনগণের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে পেরেছি। সরকারের ধারাবাহিকতা না থাকলে এটা সম্ভব হতো না। ২০১৪ সালের নির্বাচনের প্রতি ইঙ্গিত করে শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচনী আইনে আছে, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় বিজয়ী হওয়া যায়।
এ আইন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও আছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সারাদেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপরে যে অত্যাচার-নির্যাতন হয়েছে, তার তথ্য সংগ্রহ করার ও এসব তথ্য জনগণের কাছে তুলে ধরার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এমন কোনো জেলা নেই, যেখানে আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করার জন্য অত্যাচার-নির্যাতন করে নাই বিএনপি। তাদের অন্যায়-অত্যাচার-জুলুম ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। এসব অত্যাচার-নির্যাতন ভুলে গেলে চলবে না। জনগণের কাছে এসব বারবার তুলে ধরতে হবে। তারা যে পরিমাণ অত্যাচার করেছে আমরা ক্ষমতায় এসে তার কিছুই তো করলাম না। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে দেশের রাজনৈতিক পটভূমিতে অস্বাভাবিক পরিবর্তনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা স্বাধীনতার বিরোধিতা করল, মানুষ মারল, গণহত্যা করল, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর তারাই ক্ষমতায় এলো। বেঈমান খন্দকার মোশতাককে ক্ষমতায় বসাল। কিন্তু বেশি দিন রাখল না। তাকেও সরিয়ে দিল যারা বেঈমানি করিয়েছে তারাই।
তিনি আরও বলেন, এরপর জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এলেন। তার ক্ষমতা গ্রহণের মধ্য দিয়ে অপশক্তি রাষ্ট্র পরিচালনায় আসে। দেশ দুর্ভিক্ষের মধ্যে পড়ে। দুর্নীতি-লুটতরাজ শুরু হয়। অন্য স্বৈরশাসকদের মতো তিনিও এলিট শ্রেণি তৈরি করে ক্ষমতায় টিকে থাকার চেষ্টা করেন। আইয়ুব খানও এমনই করেছিলেন। এভাবে ২১ বছর দেশ অন্ধকারে ছিল। শেখ হাসিনা বলেন, ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আমরা ক্ষমতায় এসে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন শুরু করি। জনগণের জীবনমান যেন উন্নত হয়, সে লক্ষ্যে আমরা কাজ শুরু করি। জাতির জনকের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার কাজে মনোনিবেশ করি। সে কাজের সুফল মানুষ এখন পাচ্ছে। দেশে এখন খাদ্যের অভাবে হাহাকার নেই। একসময় মঙ্গাপীড়িত এলাকায় মঙ্গা নেই, দুর্ভিক্ষ নেই। মানুষ পেট ভরে খেতে পারে। বেকারত্বের হার কমে গেছে। আর্থসামাজিক উন্নয়ন দৃশ্যমান হয়েছে।