আসামি আটক না হওয়ায় পিতার ক্ষোভ> যবিপ্রবি’র ছাত্র রিয়াদ হত্যাবার্ষিকী আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক>
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ছাত্র নাঈমুল ইসলাম রিয়াদ হত্যার তিন বছর পূর্তি আজ শুক্রবার। এসময়ে হত্যার সাথে জড়িত একজন বাদে বাকি কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। একমাত্র আটক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি সুব্রত বিশ্বাস বর্তমানে জামিনে মুক্ত আছেন। এই মামলায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১১ জনকে অভিযুক্ত করে দেয়া চার্জশিটের ওপর শুনানীও চলছে। আগামী ৮ আগস্ট পরবর্তী শুনানীর দিন ধার্য আছে। এদিকে, আসামি আটক না হওয়ায় পুলিশের ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রিয়াদের পিতা মনিরুল ইসলাম।
২০১৪ সালের ১৪ জুলাই দুপুরে যবিপ্রবি ছাত্রলীগের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষের জের ধরে পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র নাঈমুল ইসলাম রিয়াদকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় নিহতের মামা রফিকুল ইসলাম রাজু বাদি হয়ে ছাত্রলীগের জেলা শাখার তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুলসহ ১২জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। ঘটনার পরের বছর ৪ সেপ্টেম্বর সিআইডি যশোর জোনের ইন্সপেক্টর মুনতাজুল হক এই মামলার চার্জশিট দেন।
তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুলসহ ৩ জনকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছিল। একই সাথে নতুন করে দুইজনকে চার্জশিটে অর্ন্তভূক্ত করা হয়েছিল।
চার্জশিটে অভিযুক্তরা হলেন, যবিপ্রবি ছাত্রলীগের সভাপতি ও মাস্টার্স ফিশারিজ অ্যান্ড বায়ো সায়েন্স বিভাগের ছাত্র সুব্রত বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক ও জিইবিটি বিভাগের ছাত্র শামীম হাসান, ইএসটি বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র ফয়সাল তানভীর, পিইএসএস বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র আজিজুল ইসলাম, যশোর শহরের পুরাতন কসবা এলাকার আজিজুল হক খোকনের ছেলে সজিবুর রহমান, কাজীপাড়া তেঁতুলতলা এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে এবং বর্তমানে জেলা ছাত্রলীগের নবনির্বাচিত সভাপতি রওশন ইকবাল শাহী, শহরের মিশনপাড়ার হাফিজ আহমেদের ছেলে জেলা ছাত্রলীগের নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ছালছাবিল ইসলাম জিসান, পুরাতন কসবা কাজীপাড়া এলাকার মৃত আবদুল খালেকের ছেলে ইয়াসিন মোহাম্মদ কাজল, ঝুমঝুমপুর চান্দের মোড়ের এসএম নাসির উদ্দিন ওরফে চান কসাইয়ের ছেলে এসএম জাবেদ উদ্দিন, শহরের খড়কি কামার দিঘিরপাড় এলাকার মতিয়ার রহমানের ছেলে কামরুজ্জামান ওরফে ডিকু ও কারবালা এলাকার মফিজুল ইসলামের ছেলে ভুট্ট।
চার্জশিটে আসামিদের মধ্যে আজিজুল ইসলাম, সজীবুর রহমান ওরফে সজীব, রওশন ইকবাল শাহী, ছালছাবিল আহমেদ জিসান, ইয়াসিন মোহাম্মদ কাজল, এসএম জাবেদ উদ্দিনকে পলাতক দেখানো হয়েছিল। বাকিরা আদালতে আত্মসমর্পন করে জামিনে মুক্ত পান।
জানাগেছে, ২০১৫ সালের ১১ অক্টোবর চার্জশিটটি আদালতে নথিভূক্ত হয়। এবং চার্জশিটের উপর শুনানী শেষে ২০১৬ সালের ২ অক্টোবর আদালত চার্জশিটটি গ্রহণ করেন এবং পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। তারা হলেন, আজিজুল ইসলাম, সজিবুর রহমান, রওশন ইকবাল শাহী, ছালছাবিল ইসলাম জিসান এবং এসএম জাভেদ উদ্দিন। তাদের গ্রেফতারি পরোয়ানা কোতয়ালি থানায় পৌছালেও আজঅব্দি তারা আটক হননি। অবাক বিষয় হলো গ্রেফতারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে রওশন ইকবাল শাহী এবং ছালছাবিল ইসলাম জিসান প্রকাশ্যে নির্বাচন করে যথাক্রমে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। গত ২২ মে এই মামলার আসামিদের আদালতে উপস্থিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় আদালত মামলার পরবর্তী দিন ধার্য করেন আগামী ৮ আগস্ট। এই দিনেও আসামিরা হাজির হবে কি-না তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন নিহত রিয়াদের পিতা মনিরুল ইসলাম।
তিনি জানিয়েছেন, এই মামলায় পুলিশের কোন সহযোগিতা পাননি। আসামিরা প্রকাশ্যে থাকলেও তাদের আটক করেনি। এখন ছেলে হত্যার বিচার চেয়ে আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা ছাড়া আর কিছু করার নেই বলে জানিয়েছেন মনিরুল ইসলাম।
আসামি আটক না হওয়ায় পিতার ক্ষোভ
যবিপ্রবি’র ছাত্র রিয়াদ হত্যাবার্ষিকী আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ছাত্র নাঈমুল ইসলাম রিয়াদ হত্যার তিন বছর পূর্তি আজ। এসময়ে হত্যার সাথে জড়িত একজন বাদে বাকি কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। একমাত্র আটক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি সুব্রত বিশ্বাস বর্তমানে জামিনে মুক্ত আছেন। এই মামলায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১১ জনকে অভিযুক্ত করে দেয়া চার্জশিটের ওপর শুনানীও চলছে। আগামী ৮ আগস্ট পরবর্তী শুনানীর দিন ধার্য আছে। এদিকে, আসামি আটক না হওয়ায় পুলিশের ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রিয়াদের পিতা মনিরুল ইসলাম।
২০১৪ সালের ১৪ জুলাই দুপুরে যবিপ্রবি ছাত্রলীগের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষের জের ধরে পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র নাঈমুল ইসলাম রিয়াদকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় নিহতের মামা রফিকুল ইসলাম রাজু বাদি হয়ে ছাত্রলীগের জেলা শাখার তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুলসহ ১২জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। ঘটনার পরের বছর ৪ সেপ্টেম্বর সিআইডি যশোর জোনের ইন্সপেক্টর মুনতাজুল হক এই মামলার চার্জশিট দেন।
তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুলসহ ৩ জনকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছিল। একই সাথে নতুন করে দুইজনকে চার্জশিটে অর্ন্তভূক্ত করা হয়েছিল।
চার্জশিটে অভিযুক্তরা হলেন, যবিপ্রবি ছাত্রলীগের সভাপতি ও মাস্টার্স ফিশারিজ অ্যান্ড বায়ো সায়েন্স বিভাগের ছাত্র সুব্রত বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক ও জিইবিটি বিভাগের ছাত্র শামীম হাসান, ইএসটি বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র ফয়সাল তানভীর, পিইএসএস বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র আজিজুল ইসলাম, যশোর শহরের পুরাতন কসবা এলাকার আজিজুল হক খোকনের ছেলে সজিবুর রহমান, কাজীপাড়া তেঁতুলতলা এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে এবং বর্তমানে জেলা ছাত্রলীগের নবনির্বাচিত সভাপতি রওশন ইকবাল শাহী, শহরের মিশনপাড়ার হাফিজ আহমেদের ছেলে জেলা ছাত্রলীগের নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ছালছাবিল ইসলাম জিসান, পুরাতন কসবা কাজীপাড়া এলাকার মৃত আবদুল খালেকের ছেলে ইয়াসিন মোহাম্মদ কাজল, ঝুমঝুমপুর চান্দের মোড়ের এসএম নাসির উদ্দিন ওরফে চান কসাইয়ের ছেলে এসএম জাবেদ উদ্দিন, শহরের খড়কি কামার দিঘিরপাড় এলাকার মতিয়ার রহমানের ছেলে কামরুজ্জামান ওরফে ডিকু ও কারবালা এলাকার মফিজুল ইসলামের ছেলে ভুট্ট।
চার্জশিটে আসামিদের মধ্যে আজিজুল ইসলাম, সজীবুর রহমান ওরফে সজীব, রওশন ইকবাল শাহী, ছালছাবিল আহমেদ জিসান, ইয়াসিন মোহাম্মদ কাজল, এসএম জাবেদ উদ্দিনকে পলাতক দেখানো হয়েছিল। বাকিরা আদালতে আত্মসমর্পন করে জামিনে মুক্ত পান।
জানাগেছে, ২০১৫ সালের ১১ অক্টোবর চার্জশিটটি আদালতে নথিভূক্ত হয়। এবং চার্জশিটের উপর শুনানী শেষে ২০১৬ সালের ২ অক্টোবর আদালত চার্জশিটটি গ্রহণ করেন এবং পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। তারা হলেন, আজিজুল ইসলাম, সজিবুর রহমান, রওশন ইকবাল শাহী, ছালছাবিল ইসলাম জিসান এবং এসএম জাভেদ উদ্দিন। তাদের গ্রেফতারি পরোয়ানা কোতয়ালি থানায় পৌছালেও আজঅব্দি তারা আটক হননি। অবাক বিষয় হলো গ্রেফতারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে রওশন ইকবাল শাহী এবং ছালছাবিল ইসলাম জিসান প্রকাশ্যে নির্বাচন করে যথাক্রমে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। গত ২২ মে এই মামলার আসামিদের আদালতে উপস্থিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় আদালত মামলার পরবর্তী দিন ধার্য করেন আগামী ৮ আগস্ট। এই দিনেও আসামিরা হাজির হবে কি-না তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন নিহত রিয়াদের পিতা মনিরুল ইসলাম।
তিনি জানিয়েছেন, এই মামলায় পুলিশের কোন সহযোগিতা পাননি। আসামিরা প্রকাশ্যে থাকলেও তাদের আটক করেনি। এখন ছেলে হত্যার বিচার চেয়ে আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা ছাড়া আর কিছু করার নেই বলে জানিয়েছেন মনিরুল ইসলাম।