ইছালী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জের বিরুদ্ধে অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ> যশোরে যুবলীগ নেতাকে হত্যা চেষ্টায় আটক তিন সন্ত্রাসীকে ১৫১ ধারায় চালান !

নিজস্ব প্রতিবেদক>
যশোর সদর উপজেলার রামকৃঞ্চপুর গ্রামে যুবলীগ নেতা মাজাহারুল ইসলাম খোকা হত্যা চেষ্টার অভিযোগে তিন সন্ত্রাসীকে আটকের কথা অস্বীকার করলেও শুক্রবার তিনজনকে ১৫১ ধারায় আটক দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এরা হলো একই গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে সুজন, মৃত ধলা মিয়ার ছেলে টিটো এবং দুলাল মিয়ার ছেলে মামুন। অবশ্য এর পেছনে ইছালী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মিলন সরকার বড় অংকের অর্থ বাণিজ্য করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও অর্থ বাণিজ্যের কথা অস্বীকার করেছেন তিনি।
এলাকার একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ১৩ জুলাই সন্ধ্যার দিকে ওই গ্রামের বাসিন্দা সদও উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক মাজাহারুল ইসলামকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার ওপর হামলা করতে ওই তিন সন্ত্রাসীসহ ৭/৮জন জড়ো হয়। এলাকার লোকজন তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক হওয়ায় তিনজনকে ধরে গণপিটুনি দিয়ে ইছালী পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এই সময় মোটরসাইকেলযোগে অন্যরা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ওই এলাকার উত্তেজনা বিরাজ করে।
এ ঘটনার পর ওই এলাকা থেকে সাংবাদিকদের কাছে ফোন করে ঘটনাটি জানানো হয়। সাংবাদিকরা বিষয়টি জানার জন্য ইছালী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মিলন সরকারের কাছে মোবাইল ফোন করে তিনজনকে আটক বা পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে কি-না জানতে চান। কিন্তু তিনি সরাসরি আটকের কথা অস্বীকার করেন। এর আগেও সন্ত্রাসীরা মাজাহারুল ইসলামের বাড়িতে বোমা হামলা চালিয়েছিল বলে জানাগেছে। মূলত অর্থ বাণিজ্যের জন্য পুলিশ কর্মকর্তা বিষয়টি সাংবাদিকদের কাছে চেপে যান।
সূত্রটি জানিয়েছে, তিন সন্ত্রাসী আটকের পর তাদের পরিবারে লোকজন ছাড়াতে তদবির শুরু করেন। পুলিশকে দেড়লাখ টাকা দিতে রাজি হন। কিন্তু মিলন সরকারের দাবি ছিল দুই লাখ টাকা। পরে রাতে ব্যাপক দেনদরবার করে কোতয়ালি থানায় চালান দেয়া হয়। কিন্তু রাতে কোতয়ালি থানায়ও তাদের পাওয়া যায়নি। তাদের নাম ঠিকানা হাজত রেজিস্টারে অন্তর্ভূক্ত ছিল না। কিন্তু শুক্রবার সকালে তাদের ১৫১ ধারায় আদালতে চালান দেয়া হয় বলে জানা গেছে।
এই বিষয়ে শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে এসআই মিলন সরকারের কাছে জানতে চাওয়া হলে বলেছেন, আসামি আটকের কথা জানানো নিষেধ ছিল। তাদের রাতে হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে থানায় নেয়া হয়। তিনি ওসি একেএম আজমল হুদার নাম ভাঙিয়ে বলেন, ওসি সাহেবের নির্দেশে তাদের আটকের কথা অস্বীকার করা হয়েছিল। এবং তিনি ১৫১ ধারায় তিনজনকে আদালতে চালান দিয়েছেন বলে মিলন সরকার জানিয়েছেন। আর টাকা নেয়ার ঘটনা সঠিক নয় বলে তিনি জানান।
এ ব্যাপারে মাজাহরুল ইসলাম জানিয়েছেন, একই সন্ত্রাসীরা ঈদের পর আমাকে মোবাইল ফোন করে হত্যার হুমকি দিয়েছিল। সেই ঘটনায় কোতয়ালি থানায় একটি জিডি করা হয়। আমার রাজনৈতিক এক প্রতিদ্বন্দ্বী আমাকে হত্যার জন্য বহু চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার তার পোষ্য সন্ত্রাসীরা আমাকে মারার পরিকল্পনা করে। সাধারণ মানুষ তাদের মধ্যে তিনজনকে আটক করে পুলিশে দেয়। কিন্তু কোন লাভ হলো না। তারা ছাড়া পেয়েছে। একারনে এখন তিনি আতংকে আছেন বলে জানিয়েছেন।