ঝিকরগাছার উজ্জ্বলপুর শহীদ মুক্তিযোদ্ধা দাখিল মাদ্রাসা জাতীয়করণের দাবি

এম আলমগীর, বাঁকড়া (ঝিকরগাছা) >
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়ায় উজ্জ্বলপুর মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ৫ জন বীর সেনার স্মৃতি রক্ষায় প্রতিষ্ঠিত উজ্জলপুর শহীদ মুক্তিযোদ্ধা দাখিল মাদ্রাসাটি জাতীয়করণের দাবি উঠেছে। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, শহীদদের সহযোদ্ধা, ঝিকরগাছা, মনিরামপুর, কেশবপুর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবার দেশে একমাত্র শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি রক্ষায় প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসাটি জাতীয়করণের পক্ষে মত দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর আবেদন জানিয়েছেন। বিষয়টি বাস্তবায়নে জনমত ও সরকারের নজরে আনার লক্ষ্যে মাঠে নামতে যাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত একটি গ্রাম যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার উজ্জলপুর । মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালের ১৩ নভেম্বর ভয়াল রাত্রে কপোতাক্ষ তীর ঘেষা মাছনা মাঠে এদেশীয় রাজাকার ও পাক সেনাদের সাথে সস্মুখ যুদ্ধে পাঁচজন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। তৎকালীন সেই ভয়াবহ মূহুর্তে গণপরিষদ সদস্য, মুক্তিযুদ্ধে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সংগঠক আবুল ইসলামের নেতৃত্বে ও নির্দেশনায় লে.কর্নেল সফিউল্লাহ (বীর প্রতিক) ও মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন ফজলুর রহমান, এলাকার মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হোচেন আলি, মুক্তিযোদ্ধাদের উপস্থিতে উজ্জলপুর গ্রামে এক বাশ বাগানে পাশাপাশি শহীদদের সমাহিত করেন। সমাহিত শহীদ মুক্তিযোদ্ধারা হলেন মনিরামপুর উপজেলার গৌরিপুর গ্রামের হোসেন আলি খাঁনের পুত্র শহীদ জামাল উদ্দীন খাঁন, হানুয়ার গ্রামের মহাতাব উদ্দীনের পুত্র জামশেদ হোসেন, হানুয়ার গ্রামের নিজাম উদ্দীনের পুত্র শহীদ আব্দুর রাজ্জাক ও জলকা রোহিতা গ্রামের মহিদ নুরুল ইসলাম এবং কেশবপুরের মঙ্গলকোট গ্রামের সোনাই মোড়লের পুত্র শহীদ আব্দুল খালেক। যুদ্ধপরবর্তী সময়ে ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের স্বপরিবারে নিহত হওয়ার পর পাঁচ শহীদদের ইতিহাস তলিয়ে যেতে বসেছিল। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতার আসার পর তাদের স্মৃতি রক্ষা প্রবীন আওয়ামীলীগ নেতা মরুহুম হোচেন আলী নেতৃত্বে এলাকার কয়েক জন মুক্তিযোদ্ধারা মিলে শহীদদের সমাধির পাশে অখন্ড ১ একর ১৮ শতক জমির উপর প্রতিষ্ঠা করেন উজ্জলপুর শহীদ মুক্তিযোদ্ধা দাখিল মাদ্রাসা। মাদ্রাসাটি তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার সদ্য বছরে এমপিওভুক্ত করেন। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ মাদ্রাসার গতানুগতিক শিক্ষার বাইরে দেশের ভাষা, স্বাধীনতা ও বিজয় দিবস সহ জাতীয় দিবসগুলো জাঁকজমকভাবে পালন করে। এ সমস্ত দিবসে শহীদ পরিবারের স্বজনরাসহ এলাকার সর্বস্তরের মুক্তিযোদ্ধারা সমেবেত হয় এবং শহীদদের কবর জিয়ারত ও তাদের প্রতি সকল প্রজন্মের মানুষ শ্রন্ধা জানান।
এদিকে বর্তমান যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. মনিরুল ইসলাম মনির উজ্জলপুর একটি রাস্তা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মাদ্রাসা অঙ্গনে একটি কমপ্লেক্স নির্মানের একটি পরিকলল্পনার কথা জানান। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে ১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকার বরাদ্দের প্রস্তাবনা করা হয়েছে। যা অচিরে বাস্তবায়ন হবে। এদিকে চলতি বছরে মাদ্রাসায় এক অনুষ্ঠানে মাদ্রসাটি জাতীয়করনের জোর দাবী উঠেছে। দাবীর পক্ষে ঝিকরগাছা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমা-ার ওলিয়ার রহমান, কেশবপুর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার আনিছুর রহমান খাঁন, মনিরামপুর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ডেপুটি কমান্ডার এসএম কওসার আহম্মেদ, বাঁকড়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার শ্রী রবীন্দ্রনাথ নন্দী পৃথক ভাবে স্বস্ব প্যাডে প্রধানমন্ত্রী বরাবর মাদ্রাসাটি জাতিকরণের দাবি করেছেন। এছাড়া শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবার, সহযোদ্ধারা, বীর মুক্তিযোদ্ধা কওছার আলী, দ্বীন মোহাম্মদ, শহর আলী, আব্দুল কাদের, আব্দুস ছাত্তার, আব্দুল মজিদ, আব্দুল কাদের, চাঁদ আলী, কমান্ডার আলহাজ্ব আব্দুল আজিজ, রবিউল ইসলাম, মতিয়ার রহমান, বাবর আলী, আবু তাহের প্রমুখ মুক্তিযোদ্ধারা দাবীর সাথে সহমত দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে কথা হয় মাদ্রাসার সুপার মাওলানা বায়জিদ বোস্তামির সাথে। তিনি জানান, মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে এলাকায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী মানুষরা পাঁচ শহীদ ঘুমিয়ে থাকা মাদ্রাসা অঙ্গনে আসেন লেঃ কর্ণেল শফিউল্লাহ, কাপ্টেন ফজলুর রহমান, কমরেড আবু দাউত, শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পবিবার, উজ্জ্বলপুর ট্রাজেডির আহত মুক্তিযোদ্ধা সহ সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে বিজয় ও স্বাধীনতা দিবসে। আমরা শুরু থেকে বিজ্ঞান শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার মান উন্নয়নে সর্বদা কাজ করে যাচ্ছি। এলাকার মানুষের প্রাণের দাবিতে পরিনত হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির সরকারীকরণে স্থানীয় মাননীয় সংসদ সদস্য অ্যাড. মনিরুল ইসলাম মনির আমদের আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা এলাকার গণমানুষের এ দাবির বিষয়ে সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।
উজ্জ্বলপুর ট্রাজেডিতে ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া আহত মুক্তিযোদ্ধা মণিরামপুরের ঝাঁপা গ্রামের জালালউদ্দীন জানান, শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে নির্মিত মাদ্রাসাটি মহান মুক্তিযুদ্ধে উজ্জ্বলপুর ট্রাজেডিকে আজীবন বাঁচিয়ে রাখবে এবং এলাকার মানুষের মাঝে মুক্তিযুদ্ধে চেতনা উজ্জীবিত থাকবে। তিনি আরো জানান, বর্তমান মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আছে। তাই এই মাদ্রাসাটি সরকারীকরণ করার এখনই মক্ষম সময় এসেছে।