রবের বাড়িতে মধ্যরাতের বৈঠকে পুলিশের বাগড়া

বিডিনিউজ >
জেএসডি নেতা আ স ম রবের বাড়িতে উত্তরায় এক হয়েছিলেন রাজনীতিক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, আবদুল কাদের সিদ্দিকী, মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ কয়েকজন; কিন্তু পুলিশের বাগড়ায় তাদের উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর উত্তরায় রবের বাড়িতে এক হয়েছিলেন তারা। একে চা চক্র বলছেন জেএসডির নেতারা।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি সাইফুল হক, গণফোরামের সভাপতিম-লীর সদস্য সুব্রত চৌধুরী ও আ ও ম শফিউল্লাহ, বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান ও বজলুর রশীদ ফিরোজ, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, বিকল্পধারার যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি চৌধুরীর পাশাপাশি নাগরিক সংগঠন সুজনের সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারও সেখানে ছিলেন বলে জানা গেছে।
রবের দাওয়াতে রাত ৮টার দিকে ওই বাসায় গিয়েছিলেন জানিয়ে বদিউল আলম মজুমদার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, পুলিশ আসার পর রাত ১১টার দিকে তারা খাওয়া-দাওয়া সেরে যার যার মতো করে চলে যান।
“হঠাৎ করে পুলিশ আসায় আমি বিস্মিত হয়েছি। একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে আমরা খাওয়া-দাওয়া করেছি। পুলিশ এসে বলেছে, সভা করতে হলে অনুমতি নিতে হবে, পুলিশকে আগে অবগত করতে হবে।”
ওই আয়োজনকে ঈদ পরবর্তী পুনর্মিলনী দাবি করে বদিউল আলম বলেন, “এ অনুষ্ঠানে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হব ভাবিনি।”
রবের দল জেএসডির যুগ্ম সম্পাদক পরিচয় দিয়ে জুয়েল নামে একজন সাংবাদিকদের বলেন, রাত ৮টায় ওই বাসায় অনুষ্ঠান শুরুর পর থেকেই সাদা পোশাকে পুলিশ বাড়িটি ঘিরে রাখে।
বৈঠকে অংশ নেয়া এক নেতা বলেন, “এটি একেবারে চা-চক্র। সেটা রাজনীতিবিদদের চা-চক্র বলে রাজনীতি ও দেশের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা উঠে এসেছে। পাশাপাশি বন্যা পরিস্থিতি, রাজধানীর জলাবদ্ধতা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, গুম-খুন-বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-, ফরহাদ মজহার অপহরণ ঘটনা নিয়েও কথা হয়েছিল।”
রবের বাড়িতে অনুষ্ঠানে বাগড়া দেওয়ার বিষয়ে পুলিশের কোনো কর্মকর্তা মুখ খুলতে চাননি।
সামরিক শাসক এইচ এম এরশাদের ঘনিষ্ঠজন থেকে পরে শেখ হাসিনার ১৯৯৬ সালের সরকারের মন্ত্রী রব, বিএনপি ছেড়ে আসা বি চৌধুরী এবং আওয়ামী লীগ ছেড়ে আসা কাদের সিদ্দিকী নিজ নিজ দল নিয়ে ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন করে এনডিএফ জোট গঠন করেছিল। বিএনপির মতো তারাও ওই নির্বাচন বর্জন করে।
গত কয়েক বছর ধরে তারা আওয়ামী লীগ-বিএনপির বাইরে ‘বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি’ গড়ে তোলার কথা বলছেন। তাদের সঙ্গে একই কথা বলছেন জাসদ থেকে আওয়ামী লীগ হয়ে এখন নাগরিক ঐক্য নিয়ে সক্রিয় মান্না।
খালেকুজ্জামান নেতৃত্বাধীন বাসদ আরেকটি কমিউনিস্ট দল সিপিবির সঙ্গে জোটবদ্ধ রয়েছে। সাইফুল হকের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি এখন রয়েছে গণসংহতির সঙ্গে গণতান্ত্রিক বাম মোর্চায়।

হালনাগাদে নারী ভোটার
বাড়াতে ইসির নির্দেশনা
বিডিনিউজ
আসন্ন ভোটার তালিকা হালনাগাদে মহিলা ভোটার অন্তর্ভুক্তির হার ‘উল্লেখযোগ্যভাবে’ যেন কম না হয় সে বিষয়ে মাঠ কর্মকর্তাদের বিশেষ নজর দিতে বলেছে নির্বাচন কমিশন।
ইসির সহকারী সচিব মো. মোশাররফ হোসেন বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে মাঠ কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে ইসির নির্দেশনা পাঠান।
আগামী ২৫ জুলাই থেকে ৯ অগাস্ট পর্যন্ত দেশজুড়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারযোগ্যদের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি যাদের বয়স ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী হবে তাদের তথ্য নেওয়া হবে এবার।

ইতোপূর্বে হালনাগাদে নারী ভোটারদের আশাব্যঞ্জক সাড়া না পাওয়ায় উদ্বেগ রয়েছে কমিশনের। বাংলাদেশের মোট ১০ কোটি ১৮ লাখের বেশি ভোটারের মধ্যে নারীর চেয়ে পুরুষের সংখ্যা বেশি। শতকরা হিসাবে পুরুষ ভোটার ৫১ জনের বিপরীতে নারী ৪৯ জন।

তবে সর্বশেষ হালনাগাদে পুরুষ ভোটারের চেয়ে নারী ভোটার প্রায় ৬ শতাংশ কম। হালনাগাদের পর নারী-পুরুষের ব্যবধানও কমে আসবে বলে ধারণা করছেন ইসি সচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ।

বিগত ভোটার তালিকায় মহিলা ভোটার কম হওয়ার জন্য আটটি কারণের কথা বলা হয়েছে কমিশনের নির্দেশনায়।

নির্ধারিত ফি দিয়ে জন্মনিবন্ধন সনদ সংগ্রহে অনীহা, হিন্দু বিবাহিত মেয়েদের পিত্রালয়ে নিবন্ধনে অনীহা, অবিবাহিত মেয়েদের ভোটার হতে অনীহা, বাবা-মা’র জাতীয় পরিচয়পত্র দিতে ব্যর্থ হওয়া, রেজিস্ট্রেশন কেন্দ্র দূরে হওয়া, আবহাওয়া অনুকূল না থাকা, ধর্মীয় অজুহাতে ছবি তুলতে অনীহা ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে মহিলাদের অসচেতনতা সঠিক নারী ভোটার না হওয়ার অন্যতম কারণ।

বিষয়গুলো মাথায় রেখে হালনাগাদ কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সমন্বয় কমিটিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।
সেই সঙ্গে হালনাগাদের সময় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য, দফাদার ও গ্রাম পুলিশকেও রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।