সংসদ নির্বাচনে ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা প্রধানমন্ত্রীর

স্পন্দন ডেস্ক>
একাদশ সংসদ নির্বাচনে ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইসি ঘোষিত রোডম্যাপ নিয়ে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের অতি উৎসাহী না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। গতকাল সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় সরকারের মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতাদের এ পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।
মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এমন একাধিক মন্ত্রী আলোকিত সময়কে জানান, মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্র হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তবে এ জন্য ভীত না হয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি।
ওই সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন (ইসি) যে রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে, সে বিষয়ে অতি উৎসাহী না হতে মন্ত্রীদের পরামর্শ দেন। মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘রোডম্যাপ ইসির বিষয়। এ রোডম্যাপ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে আপনারা কোনো মন্তব্য করবেন না।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আগামী নির্বাচন যাতে না হয়, সে জন্য নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্রের চেষ্টা হতে পারে। নির্বাচন বানচাল করতে আগে থেকেই নানা ষড়যন্ত্র হতে পারে। তবে এটা নিয়ে আমাদের ভয় পেলে হবে না। ভয়-ভীতির ঊর্ধ্বে থেকে চোখ-কান খোলা রেখে আমাদের কাজ করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সংবিধানের বিধি-বিধানের আওতায় আগামী নির্বাচন হবে। কীভাবে নির্বাচন হবে সেটা সংবিধানেই বলা আছে। এটা নিয়ে তো আর কোনো কথা বলার দরকার নেই। কিছু মানুষ আছে তারা চায় নির্বাচন না হোক। নির্বাচন না হলে আর অনির্বাচিতরা ক্ষমতায় এলে তারা ক্ষমতার ভাগ পায় তাই তারা নির্বাচন চায় না। সব রাজনৈতিক দল নির্বাচনে আসুক আমরা সেটা চাই। সব দল নির্বাচনে এলে ভালো হয়। কিন্তু কোনো দল যদি নির্বাচনে না আসে তাহলে তো কিছু করার নেই।
সূত্র আরও জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৬ জুলাই ইসির ইসি ঘোষিত নির্বাচনী রোডম্যাপ নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে কথা বলার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক আছেন, তিনি কথা বলবেন। নির্বাচন নিয়ে অন্যদের সতর্কভাবে কথা বলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘এই রোডম্যাপ বাস্তবায়ন ও কার্যকারিতা দেখতে হবে। এ জন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন। কাজেই আগে থেকে এ বিষয়টি নিয়ে কোনো ধরনের মন্তব্য করা ঠিক হবে না।’ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের আগাম বা অতিরিক্ত কোনো মন্তব্য না করার জন্যও নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীসহ কয়েকজন সিনিয়র মন্ত্রী এ আলোচনায় অংশ নেন।