সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্যে আন্তর্জাতিক মানের স্কুল নির্মাণের উদ্যোগ বাঁচতে শেখার

নিজস্ব প্রতিবেদক>
পিছিয়ি পড়া জনগোষ্ঠীর সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্যে আন্তর্জাতিক মানের স্কুল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে উন্নয়ন সংস্থা যশোরের বাঁচতে শেখা ও ভারতের কিস ফাউন্ডেশন। যশোর সদর উপজেলার হৈবতপুর গ্রামে বাঁচাতে শেখার ২২ বিঘা জমির উপর ‘কিস অ্যাঞ্জেলা গোমেজ রেসিডেন্সিয়াল স্কুল’ নামে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলা হবে। স্কুলে প্রথম ধাপে সাড়ে ৩’শ শিক্ষার্থী লেখাপড়ার সুযোগ পাবে। সোমবার দুপুরে বাঁচতে শেখা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা বাঁচতে শেখার কোষাধ্যক্ষ খন্দকার মুকছুদুল হক জানান, ১৩ জুলাই বাঁচতে শেখা ও ভারতের উড়িষ্যার কিস ফাউন্ডেশনের মধ্যে কিস অ্যাঞ্জেলা গমেজ রেসিডেন্সিয়াল স্কুল প্রতিষ্ঠার সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। স্মারকে কিস ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ড. অচ্যুত সামন্ত ও বাঁচতে শেখার প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ড. অ্যাঞ্জেলা গমেজ স্বাক্ষর করেন। চুক্তি অনুযায়ী যশোর শহর থেকে হৈবতপুর গ্রামে বাঁচতে শেখার ২২ বিঘা জমির উপর একটি বিশ্বমানের আবাসিক স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হবে। স্কুলটিতে প্রথম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রাথমিকভাবে প্রথম থেকে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত কার্যক্রম শুরু হবে। প্রত্যেক শ্রেণিতে ৫০জন শিক্ষার্থী থাকবে। সব মিলিয়ে ৩৫০জন শিক্ষার্থী থাকবে প্রথম ধাপে। ২০১৮ সালের জুলাইয়ের মধ্যে অবকাঠামো স্থাপন এবং ১৯সালের জানুয়ারি থেকে শিক্ষা কার্যক্রম চালু হবে। প্রতিষ্ঠানে হতদরিদ্র, সুবিধাবঞ্চিত কন্যা শিশুরা লেখাপড়া করার সুযোগ পাবে। তবে অনগ্রসর আদিবাসী জনগোষ্ঠীর কন্যা শিশুরা অগ্রাধিকার পাবে। শিশুদের থাকা, খাওয়া, চিকিৎসা এবং পোশাকসহ যাবতীয় ব্যয় বহন করবে স্কুল কর্তৃপক্ষ। পর্যায়ক্রমে স্কুলটি দ্বাদশ শ্রেণিতে রূপান্তরিত হবে। প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি এখানে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করা হবে। প্রতিষ্ঠানটির মূল উদ্দেশ্য শিক্ষার মাধ্যমে দারিদ্রদূরীকরণ ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
বাঁচতে শেখার নির্বাহী পরিচালক অ্যাঞ্জেলা গমেজ বলেন, অনেক দিনের স্বপ্ন ছিল একটি স্কুল করার। সেই স্বপ্ন দেরিতে হলেও পূরণ হতে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানের এই স্কুলে অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর শিশুরা লেখাপড়ার সুযোগ পাবে।
বাঁচতে শেখার সদস্য শাহজান মিয়া, বাঁচতে শেখার পরিচালক পলাশ কিউবার্ট গমেজ, পরিচালক অনুপ কুমার সাহা, প্রশাসনিক প্রধান হিমেল সঞ্জিব কিসকু, সমন্বয়কারী মাহবুবুর রহমানসহ অন্যান্ন কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।