সততার দৃষ্টান্ত পুলিশ সদস্য গণির

নিজস্ব প্রতিবেদক>
সততার অন্যন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন যশোরের চাঁচড়া পুলিশ ফাঁড়ির কনস্টেবল (কং নম্বর-৪১৮) আব্দুল গণি। আব্দুর রহিম নামে এক ব্যক্তির হারিয়ে যাওয়া নগদ এক লাখ টাকা পেয়ে তাকে ফেরৎ দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। গতকাল বুধবার তিনি কোতয়ালি থানায় অন্যান্য পুলিশের উপস্থিতিতে এটাকা ফেরত দেন।
আব্দুর রহিম নড়াইল শহরের কুড়িগ্রাম এলাকার মুন্নু শেখের ছেলে। তিনি নড়াইল রেজিষ্ট্রি অফিসের দলিল লেখক। গত মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে তিনি যশোর শহরের আসেন একটি পুরনো মোটরসাইকেল কেনার জন্য। তার প্যান্টের কোমরে গোজা ছিল নগদ এক লাখ টাকা। রেলরোড টিবি ক্লিনিক মোড়ের অমলের মোটরসাইকেল গ্যারেজের সামনে তিনি একটি মোটরসাইকেল দেখার সময় তার কোমর থেকে ওই টাকা পড়ে যায়। টাকা গুলো একটি ছোট পলিথিন ব্যাগের মধ্যে রাখা ছিল। হঠাৎ তিনি বুঝতে পারেন তার কোমরে টাকা নেই। পরে তিনি দিকবিদিক ছোটাছুটি করতে থাকেন। এবং ওই অমলের গ্যারেজে গিয়ে খোঁজ করতে থাকেন। তার খোঁজা দেখে আশেপাশের দোকানদাররাও খোঁজাখুঁজি করেন। পরে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা কনস্টেবল গণি তাকে জিজ্ঞাসা করেন কত টাকা হারিয়েছেন। রহিম এক লাখ টাকার কথা বলেন। গণি তখন ওই টাকা পেয়েছেন বলে জানান এবং উপযুক্ত প্রমাণ দিতে বলেন। রহিম টাকার বিবরণ দিলে তা সঠিক হয় এবং তাকে ফেরৎ দেয়ার জন্য মানসিক ভাবে প্রস্তুতি নেন। কনস্টেবল গণি বিষয়টি জেলা পুলিশ সুপার আনিসুর রহমানকে অবহিত করেন। পুলিশ সুপার প্রমাণ সাপেক্ষ ওই টাকা ফেরৎ দেয়ার নির্দেশ দেন।
কনস্টেবল আব্দুল গণি বলেছেন, তিনি গ্যারেজের সামনে রাস্তার ওপর একটি ছোট পলিথিন ব্যাগ দেখতে পান এবং তার মধ্যে একলাখ টাকা ছিল। ওই এলাকার লোকজন কী যেন খোঁজাখুঁজি করছে দেখে তিনি এগিয়ে যান এবং একলাখ টাকা হারিয়ে গেছে বলে জানতে পারেন। তখন তিনি আব্দুর রহিমকে প্রমাণ দিতে বলেন এবং টাকা ফেরৎ দেবেন বলে আশ্বাস্থ করেন।
বুধবার বিকেলে কোতয়ালি থানায় বসে ওই টাকা আব্দুর রহিমকে হস্তান্তর করেন কনস্টেবল আব্দুল গণি। এ সময় কোতয়ালি থানার ইন্সপেক্টর (অপারশেন) সামসুদ্দোহা, উপপরিদর্শক মঞ্জুরুল ইসলামসহ অন্যান্য অফিসার উপস্থিত ছিলেন।