জাতীয় অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে হলে গ্রাম্য অর্থনীতিকে মজবুত করতে হবে ……………..শেখ আফিল উদ্দিন এমপি

শেখ কাজিম উদ্দিন, বেনাপোল >
যশোর-১ (শার্শা) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শেখ আফিল উদ্দিন বলেন, জাতীয় অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে হলে গ্রাম্য অর্থনীতিকে মজবুত করতে হবে। যা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা অনুধাবনপূর্বক গ্রাম্য অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে দেশে কৃষিবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন। চাষিদের নানামুখি সুবিধা দিয়ে মৎস্য চাষে বিপ্লব ঘটিয়েছেন। যার দক্ষ মেধায় বিশ্বের বুকে মৎস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ চতুর্থ স্থানে অবস্থান করছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে প্রথম স্থান অলঙ্কৃত করবে বলে আমার বিশ্বাস। বুধবার দুুপুরে শার্শা উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধাণ অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন তিনি।
সংসদ সদস্য এসময় আরো বলেন, আমি শার্শার রাজনীতিতে এসে সবার আগে গ্রামের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের কথা ভেবেছি। এখানে স্থাপন করেছি আফিল জুট এন্ড উইভিং মিলস লিমিটেড। যেখানে হাজার হাজার বেকার মানুষসহ কর্মক্ষম সুযোগ বঞ্চিত অবহেলিত মহিলারা কাজ করে জীবিকা নির্বাহসহ কোমলমতি ছোট ছোট সোনামনিদের লেখাপড়া শেখাচ্ছেন। সেই সাথে শ’শ’ বিঘা জমিতে ঘের কেটে মৎস্য চাষে বিপ্লব ঘটানোসহ এলাকার মানুষের ভাগ্য বদলে মাছ চাষে উদ্বুদ্ধ করেছি। সফলতার দ্বার প্রান্তে পৌঁছাতে সক্ষম করেছি মৎস্য চাষিদের। এখন শার্শার মানুষের সর্বমোট প্রয়োজনীয় ৭ হাজার মেট্রিক টন মাছের চাহিদা মিটিয়ে ১৪ হাজার মেট্রিক টন মাছ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রপ্তানি করা হচ্ছে। সম্ভব হয়েছে বর্তমান প্রজন্মের উন্নত চিন্তাভাবনা সম্পন্ন মৎস্য কর্মকর্তাদের নিরলস পরিশ্রমের কারণে। যা আগামী বছরে বর্তমান ২১ হাজার মেট্রিক টন মৎস্য উৎপাদনকে বৃদ্ধি করে ২৮ হাজার মেট্রিক টন এবং পরবর্তীতে ৬০ হাজার মেট্রিক টনে রূপান্তরিত করা সম্ভব হবে বলে আমার বিশ্বাস। তিনি বলেন, দেশের হারিয়ে যাওয়া রাণী মাছকে ইতিমধ্যে শার্শায় নতুন রূপে জীবনদান করা হয়েছে। বৃদ্ধি করা হয়েছে সকল প্রজাতীর রাণী মাছ। যা দেশের সকল স্থানে প্রতিপালিত করলে হারানো এ মৎস্যকে আবারো ফেরত পাওয়া সম্ভব বলেও জানান তিনি।
জাতীয় মৎস্য দিবসের এ অনুষ্ঠানে শেখ আফিল উদ্দিন আওয়ামী লীগ সরকারের সকল সফলতার বর্ণনা দিয়ে বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর জীবদ্দশায় কেবল মানুষের উন্নয়নের কথা ভেবেছেন। চাষীদের উন্নয়নের কথা ভেবেছেন। মৎস্যজীবীদের জীবন বাসনা সচল করার জন্য তাদেরকে সমবায়ে উদ্বুদ্ধ করে রেজিস্টেশন দিয়েছেন। স্বপ্ন দেখেছেন মৎস্যজীবীদের সচল রাখতে পারলে বাংলার মানুষ মাছে ভাতে’র প্রথা ধরে রেখে দেশের মানুষের আমিষের চাহিদা মেটানোসহ মৎস্য চাষে বিপ্লব ঘটিয়ে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা বহন করবে। সে লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সূদূর চিন্তাভাবনা নিয়ে কাজ করছেন। যার ফল ইতিমধ্যেই আমরা পেতে শুরু করেছি।
এ সময় আফিল উদ্দিন এমপি আরো বলেন, দেশের বর্তমান যে উন্নয়ন তা বিএনপি-জামায়াতের ক্ষমতালোভীরা সহ্য করতে পারছে না। তাই তারা বারংবার দেশের এ উন্নয়নকে নস্যাৎ করতে বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্র করছে। তারা চাইছে গোপন জানালা দিয়ে ক্ষমতায় প্রবেশ করতে। কিন্তু তাদের সে স্বপ্ন বাংলার মানুষ আর কখনো বাস্তবায়ন হতে দেবে না। সকলেই চাইছে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাক। তাই আগামী জাতীয় নির্বাচনে শার্শা থেকেই আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে হবে। বঙ্গবন্ধু কন্যাকে আবারো প্রধানমন্ত্রী করে উন্নয়নের এ ধারা অব্যাহত রাখতে হবে।
আলোচনার আগে শার্শা উপজেলা প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে জাতীয় মৎস্য দিবসের এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। বাজার এলাকা প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা চত্বরের পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করে দিবসের সূচনা করেন সংসদ সদস্য।

শার্শা উপজেলা অডিটরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানের প্রধাণ অতিথি কৃষিতে জাতীয় বিপ্লব ঘটিয়ে ১৬ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদকে ভূষিত হওয়ায় গৌরবের মহিমায় উজ্জীবিত হয়ে শার্শা উপজেলা প্রশাসন শেখ আফিল উদ্দিন এমপিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানায়। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে ফুলের ডালি তুলে দেন অনুষ্ঠানের সভাপতি ও শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুস সালাম।
এসময় শার্শা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোজাফফর হোসেনের নেতৃত্বে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের মুক্তিযোদ্ধারা এমপি শেখ আফিল উদ্দিনকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আবুল হাসানের পরিচালনায় উৎসবমুখর এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা পরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ ইব্রাহিম খলিল, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হীরক কুমার সরকার, মৎস্য খামার ব্যবস্থাপক আওছাফুর রহমান, শার্শা উপজেলা সহকারি মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার গিয়াস উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদের, নূর মোহাম্মদ, সিরাজুল ইসলাম, শওকত আলী, শুকুর আলী, আলী কদর, ইসলাম সরদার, দীন ইসলাম দিনু, ইসলাম সরদার, আব্দুল লতিফ, ছামসুল হুদা, আলমগীর সিদ্দিক, আবুল হোসেন, নূর মোহাম্মদ, মোহর আলী, সাইদুর রহমান, আইজদ্দিন, আবুল কাশেম, খায়রুল হক, ছলেমান, আব্দুস সামাদ, আবুল কাশেম, আব্দুল হক, শাহালম হাওলাদার, ওয়াজেদ আলী খান, আব্দুল মান্নান, কালু প্রধানিয়া, বাবলু মন্ডল, নূর ইসলাম, শেখ মোহর আলী, উপজেলা প্রশাসনের সকল দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, মৎস্যজীবী, মৎস্য চাষি ও সূধীবৃন্দ। আলোচনা শেষে স্থানীয় সেরা মৎস্যচাষিদের ক্রেস্ট দিয়ে সংবর্ধনা জানানো হয়।