হত্যার অভিযোগ নিহতের পরিবারের> যশোরে সিআইডি পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, পালিয়েছেন তিনি

নিজস্ব প্রতিবেদক>যশোরে এক সিআইডি পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। নিহতের পরিবার দাবি করেছে স্ত্রী মরিয়ম বেগম পারুল (২৯)কে হত্যা করে ঘরের জানালা ভেঙ্গে পালিয়েছেন আজিজুর রহমান সবুজ নামের সিআইডির ওই উপপরিদর্শক। তার কর্মস্থল ঢাকায়। তিনি সম্প্রতি ছুটিতে বাড়ি আসেন। তার বিরুদ্ধে এর আগে যশোরের পুলিশ সুপারের কাছে মাদকাসক্তির অভিযোগ করেছিলেন স্ত্রী পারুল।
ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার দুপুরে যশোর সদর উপজেলার রঘুরামপুর গ্রামের বাড়িতে।
আজিজুুল ইসলাম সবুজ সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা এলাকার আনারুল ইসলাম ছেলে। তিনি বর্তমানে সিআইডির হেড কোয়ার্টারে কর্মরত।
নিহত পারুলের মামা মাসুদুর রহমান ও খালাতো ভাই রবিউল ইসলাম অভিযোগ করেছেন, এসআই আজিজুল ইসলাম যশোরে কর্মরতকালীন ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ফেনসিডিলে আসক্ত হয়ে পড়েন। এ ছাড়া পরকীয়ার সম্পর্ক আছে অন্য নারীর সাথে। ঘন্টার পর ঘন্টা মোবাইল ফোনে নারীদের সাথে কথা বলতেন। এই নিয়ে তাদের স্বামী স্ত্রীর মধ্যে মনমালিন্য চলছিল। এছাড়া পারুলের পিতা যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে ১৪ শতকের দুইটি প্লট পারুলের নামে ১৮ লাখ টাকায় কিনে দিয়েছেন। ওই জমি আজিজুল তার নিজের নামে লিখে দেয়ার জন্য পারুলকে চাপ দিতেন। কিন্তু পারুল ওই জমি কোন ভাবে আজিজুলকে লিখে দিতে রাজি ছিলেন না। এই নিয়ে দুইজনের মধ্যে প্রায় ব্যাপক ঝগড়া হতো। আজিজুল প্রায় পারুলকে শারীরিক নির্যাতন করতেন।
পারুলের বাবার বাড়ি সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের চৌঘাটা গ্রামে। তাদের দুইটি সন্তান আছে।
নিহতের ভাই জিয়াউর রহমানের অভিযোগ- সপ্তাহখানেক আগে আজিজুল ঢাকা থেকে ছুটি নিয়ে বাড়িতে আসেন। এবং এই নিয়ে দুইজনের মধ্যে ব্যাপক বাকবিতন্ডা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে তাদের ছেলে প্রান্ত এবং মেয়ে লাবিবা স্কুলে ছিল। এই সময় ঝগড়ার এক পর্যায়ে আজিজুল ঘরের ভেতর থেকে দরজা বন্ধ ব্যাপক মারপিট করে পারুলকে। পরে তার গলাটিপে শ্বাসরোধে হত্যা করে। ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নেয়ার জন্য আজিজুল তড়িঘড়ি করে মরদেহ ঘরের ভেতর ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রেখে জানালা ভেঙ্গে পালিয়ে যান।
দুপুরে তার ছেলে প্রান্ত স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে দেখে ঘরের দরজা বন্ধ। সে জানালা দিয়ে দেখে তার মায়ের লাশ ফ্যানের সাথে ঝুলছে। তার চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এসে লাশ উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সংবাদ পেয়ে তারাও হাসপাতালে গিয়ে পারুলের মরদেহ দেখতে পান। এই ব্যাপারে তারা থানায় হত্যা মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন।
হাসপাতলের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা.আব্দুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, হাসপাতালে নেয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার আজিজুলের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বরে (০১৭২৪-৬২৪০৬৯) যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সংযোগ বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এঘটনায় তার অভিমত জানা সম্ভব হয়নি।
আজিজুলের সাবেক এক সহকর্মী জানিয়েছেন, যশোরে কর্মরতকালীন আজিজুলে মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ার অভিযোগ তার স্ত্রী যশোরের পুলিশ সুপারে কাছে করেছিলেন। আজিজুল সিআইডির হেড কোয়ার্টারে বদলি হয়েছিলেন। এছাড়া মাদক সেবন নিয়ে তার স্ত্রীর সাথে মনমালিন্য চলছিল বলে তিনি জানান। বৃহস্পতিবার তিনি আজিজুলের স্ত্রীর মৃত্যুর খবর শুনে বিস্ময় প্রকাশ করেন।
যশোর কোতয়ালি থানার ওসি একেএম আজমল হুদা জানিয়েছেন, একজন গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছে বলে জানতে পেরেছি। সে একজন সিআইডি পুলিশের কর্মকর্তার স্ত্রী। নিহতের স্বজনরা এখনো এই বিষয়ে কোন অভিযোগ থানায় করেননি। আজিজুলের পালিয়ে যাওয়ার সংবাদটিও তাদের জানানো হয়নি বলে জানান ওসি।
তিনি আরো বলেছেন, অভিযোগ দিলে তদন্ত করে দেখা হবে। তবে লাশের ময়না তদন্ত করা হলে রির্পোটের পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।