পেয়ারা চাষে দিদার শেখের সাফল্য

এস আলম তুহিন ,মাগুরা>
থাই পেয়ারার চাষ করে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছেন মাগুরা সদর উপজেলার শিবরামপুর গ্রামের যুবক দিদার শেখ। তার বাগানে উৎপাদিত থাই পেয়ারা বর্তমানে স্থানীয় বাজারে বিক্রির পাশাপাশি ঢাকাসহ আশপাশের জেলাগুলোতে সরবরাহ করা হচ্ছে।
৮ একর জমির উপর গড়ে তোলা এ পেয়ার বাগান থেকে চলতি মৌসুমে প্রায় ৬ লাখ টাকা মুনাফা অর্জনের প্রত্যাশা করছেন তিনি। কৃষি বিভাগের কমকর্তারা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন গ্রামের লোকজন প্রায় প্রতিদিনই তার পেয়ারা ক্ষেত দেখতে যান।
দিদার শেখ জানান, পৈত্রিক ১৬ একর জমিতে দীর্ঘদিন ধরে তিনি পেঁপে, আম, লিচুসহ নানা ধরনের ফলের চাষ করে আসছেন। বিভিন্ন ধরণের ফল চাষের এই ধারাবাহিকতায় তিনি দু’বছর আগে পেয়ারা চাষ শুরু করেন। নাটোর থেকে ২৩শ’ থাই পেয়ারার চারা এনে নিজ গ্রাম ও পার্শ্ববর্তী গ্রাম নড়িহাটির মাঠে ৮ একর জমিতে পেয়ারা বাগান গড়ে তোলেন। গাছ লাগানোর পর প্রথম বছর মোটামুটি ফলন হয়। চলতি মৌসুমে তার বাগানে পেয়ারার ভালো ফলন হয়েছে।
তিনি জানান, গত দুই মাস ধরে তিনি স্থানীয় বাজারে বিক্রির পাশাপাশি সপ্তাহে দু’দিন ঢাকার কারওয়ান বাজারে প্রতি চালানে ৪৫ থেকে ৫০ মণ করে পেয়ারা বিক্রি করছেন। আগে একটু বেশি দাম পাওয়া গেলেও বর্তমানে প্রতি কেজি থাই পেয়ারার পাইকারী বাজার দর ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। তার বাগানের পেয়ারা সম্পুর্ণ কীটনাশক মুক্ত হওয়ায় ক্রেতাদের কাছে এর চাহিদা তুলনামূলক বেশি।
তিনি আরও বলেন, থাই পেয়ারার আবাদ যথেষ্ট লাভজনক। প্রতি একর জমিতে থাই পেয়ারা চাষে খরচ হয় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা। এক একর জমিতে উৎপাদিত পেয়ারা বিক্রি হয় কমপক্ষে ৮৫ থেকে ৯৫ হাজার টাকা। ৮ একর জমিতে এ মৌসুমে উৎপাদিত পেয়ারা থেকে তিনি প্রায় ছয় লক্ষ টাকা বিক্রি হবে বলে আশা করছেন। তিনি আরো বলেন, পেয়ারা চাষ করে তিনি শুধু নিজে লাভবান হচ্ছেন না। তার এ চাষের ফলে এলাকার অনেক গরীব মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে। এটি লাভজনক হওয়ায় এলাকার অনেক কৃষকই থাই পেয়ারা চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।
মাগুরা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুহুল আমিন জানান, শিবরামপুর গ্রামের দিদার শেখ পেয়ারা চাষ করে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন। মাগুরা সদরের শিবরামপুর, বাটিকাডাঙ্গাসহ পাশ্ববর্তী হাজরাপুর ইউনিয়নের মাটি পেয়ারা চাষের জন্য উপযোগী। পেয়ারাসহ অন্যান্য ফলের চাষ লাভজন হওয়ায় কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।