সিআইডি কর্মকর্তার স্ত্রীর লাশ নিয়ে মিছিল, পুলিশের দাবি আত্মহত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক>
যশোরে সিআইডি কর্মকর্তা আজিজুর রহমানের স্ত্রী মরিয়ম বেগম পারুল আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে পুলিশ। তবে প্রকৃত ঘটনা জানতে ময়নাতদন্ত রির্পোটের অপেক্ষা করতে হচ্ছে পুলিশকে।
এদিকে নিহতের স্বজনরা বিষয়টি হত্যাকান্ড বলে দাবি করেছে। তারা অবিলম্বে অভিযুক্ত পারুলের স্বামী সিআইডির হেড কোয়ার্টারে কর্মরত এসআই আজিজুর রহমানের আটক এবং ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ শহরে মিছিল করেছে।
পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে আজিজুর রহমান কোতয়ালি থানায় গিয়ে পুলিশের সাথে কথা বলেন। তার স্ত্রীর আত্মহত্যার বিষয়টি পুলিশ খতিয়ে দেখেছে। এই বিষয়ে আজিজুরের ছেলে প্রান্তর সাথে কথা বলেছে।
প্রান্ত পুলিশকে জানিয়েছেন, ঘটনার সময় সে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরে দেখে তার বাবা আজিজুর বাইরে থেকে ঘরে যাওয়ার চেষ্টা করছে এবং চিৎকার করছে। কিন্তু ঘরের ভেতর থেকে আটকানো ছিল দরজা। তার মা ছিল ঘরের মধ্যে তার মায়ের নাম বলে খুলতে বলছে। কিন্তু খুলছে না। সে সময় তিনি ঘরের পেছন দিক দিয়ে জানালার কাছে যান এবং দেখেন উড়না দিয়ে ফ্যানের সাথে বাঁধা হচ্ছে। প্রান্তও তার বাবা সাথে গিয়ে দেখে তার মা গলাই ফাঁস লাগাচ্ছে। সে সময় তার বাবা জানালার গ্রিল ভেঙ্গে তাকে ঘরের মধ্যে ঢুকায়। সে ঘরের মধ্যে ঢুকে দরজা খুলে দেয় এবং তার পিতা গিয়ে পা উচু করে ধরে। এরপর তার মাকে নামিয়ে তারা বাবা হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু তার মাকে বাঁচানো যায়নি। পুলিশ প্রান্তর প্রাথমিক জবানবন্দি নিয়েছে।
তবে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, আজিজুরের নামে আত্মহত্যা প্ররোচনার অভিযোগ আসতে পারে। ঘটনার সময় তিনি তার স্ত্রীর সাথে চরম দুর্ব্যবহার করছিলেন। এমন পর্যায়ে তার স্ত্রীকে সে বাধ্য করেছে আত্মহত্যা করতে। এমনিতেই আজিজুর মাদক সেবী। তিনি যশোর সিআইডিতে কর্মরত ছিলেন। তিনি বিভিন্ন প্রকার মাদকে আসক্ত হওয়ায় তার স্ত্রী পুলিশ সুপারের কাছে একটি অভিযোগ দেন। সে কারণে তাকে ঢাকাস্থ হেডকোয়ার্টারে বদলি করা হয়েছিল। এই নিয়ে স্ত্রীর সাথে তার মনমালিন্য চলছিল।
এদিকে পারুলের স্বজনরা তার স্বামী আজিজুলের আটক এবং ফাঁসির দাবি করেছেন। শুক্রবার সকালে নিহতের স্বজনরা হাসপাতাল থেকে লাশ নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় বিক্ষোভ মিছিল করেছে। নিহতের মামা মাসুদুর রহমানের দাবি বুহস্পতিবার দুপুরে সদর উপজেলার রঘুরামপুর গ্রামের বাড়িতে আজিজুর তার স্ত্রীকে হত্যা করে লাশ ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা বলে প্রচার করেছে। এই ঘটনায় তার আটক দাবি করছি।
এই বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ‘ক’ সার্কেল নাইমুর রহমান জানিয়েছেন, আজিজুরের স্ত্রী আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিক ভাবে জানতে পেরেছি। তবে পোর্স্টমর্টেম রিপোর্ট ছাড়া এখনই কিছু বলা যাবেনা।