নেট-পাটা-কারেন্ট জালে ছেয়ে গেছে ডুমুরিয়ার জলাশয়

সুব্রত কুমার ফৌজদার, ডুমুরিয়া >
ডুমুরিয়া উপজেলার বিভিন্ন নদী, খাল ও বিলগুলোতে নেট-পাটাসহ অবৈধ কারেন্ট জালে ছেয়ে গেছে। এতে সরকারি উদ্যোগে নদীতে অবমুক্ত করা মাছের পোনাসহ বর্ষায় উজানো দেশীয় প্রজাতির সকল মাছের পোনা আটকা পড়ে যাচ্ছে। এভাবে মাছ ধরা হলে নদী খালগুলোতে একদিন আর মাছ দেখা দেবে না।
বিভিন্ন নদী-খালে সরেজমিনে এবং উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ডুমুরিয়া উপজেলার মধ্যে মাগুরখালী নদী, সিংগার নদী, মির্জাপুর, মাড়–য়ার খাল, মুজারঘুটা খাল, কোদালকাটা খাল, হাতিটানা খাল, পাচপোতা ও পাচুড়িয়া বিলের খালসহ ছোট-বড় ১৫টি জলাশয়ে সরকারি উদ্যোগে মৎস্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির পোনা মাছ অবমুক্ত করা হয়ে আসছে। এছাড়াও এ উপজেলাতে আরো শতাধিক ছোট-বড় নদী নালা রয়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে খালে বিলে মাছ ধরতে একশ্রেণীর অসাধু মৎস্যজীবীরা খালগুলোতে নেট-পাটাসহ কারেন্ট জাল পেতে দেদারছে মাছ ধরার কাজে উঠে পড়ে লেগেছে। জালে দেশীয় প্রজাতির মাছের পোনা ধরা পড়ছে। গত ২৮ জুলাই থেকে শুরু হওয়া জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের বিভিন্ন কর্মসূচি আগামী ২৪ জুলাই শেষ হবে। কর্মসূচি অনুযায়ী নদী-খালের নেট-পাটা ও কারেন্ট জাল বিরোধী অভিযান চলছে। কারেন্টজালে মাছ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকা স্বত্বেও কিভাবে নদীতে কারেন্ট জাল পেতে মাছ ধরছে এনিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
শনিবার গুটুদিয়া মাগুরখালী নদীতে কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ ধরতে আসা শাহজাহান শেখ নামে এক মৎস্যজীবী বলেন, এখন আমার কারেন্ট জালগুলো উঠাইয়ে নিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু সারা নদীতে তো ৪০/৫০ হাতের মাথায় কারেন্ট জাল পাতা আছে। তাদেরকে কে কি বলবে ?
এ প্রসঙ্গে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সরোজ কুমার মিস্ত্রি বলেন, নদীতে কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ ধরা একেবারই জিরো টলারেন্স। খোঁজ নেয়া হচ্ছে এবং কারেন্টজাল ও নেট-পাটাধারীদের নামের তালিকা করা হচ্ছে। এদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়াও নদীখালে হঠাৎ প্রবেশ করে ভ্রাম্যমাণ অভিযান পরিচালনা করা হবে।

ডুমুরিয়ায় মাছ চাষ বিষয়ক
আলোচনা ও বিতর্ক
প্রতিযোগিতা

ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি
শনিবার জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের ৫ম দিনে উপজেলা মৎস্য বিভাগের আয়োজনে ডুমুরিয়া মহাবিদ্যালয়ে মাছ চাষ বিষয়ক আলোচনা সভা, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন এবং বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কলেজ অধ্যক্ষ হোসেন আরা খানমের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য চাষ প্রযুক্তি সেবা সম্প্রসারণ প্রকল্প খুলনা বিভাগীয় উপপরিচালক লুকাস সরকার। বিশেষ অতিথি ছিলেন সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সরোজ কুমার মিস্ত্রী।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ডুমুরিয়া মাছ ও চিংড়ি চাষের জন্য অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও সম্ভাবনাময় একটি উপজেলা। এখানে ১৮ হাজার ৪৮৪ টি গলদা ঘের এবং ৭ হাজার ৮৯টি বাগদা চিংড়ি ঘের রয়েছে। সবমিলে যার আয়তন প্রায় ১৭ হাজার ৮০৯ হেক্টর। এখানে বছরে প্রায় ১৫ হাজার ১৫৯ মে. টন মাছ এবং ১১ হাজার ১০৭ মে. টন চিংড়ি উৎপাদিত হয়। এছাড়া ডুমরিয়া উপজেলার নদী তীরবর্তী অঞ্চলগুলোতে কাঁকড়া চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। নদীর লবন পানিকে মূল্যবান সম্পদে পরিণত করে দারিদ্র বিমোচন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ রয়েছে। ব্যপক সম্ভাবনাময় এ উপকূলকে মাছ চাষে আরো সমৃদ্ধ করার জন্য বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহন করা জরুরি।
এ সময় কলেজের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে ‘‘মৎস্য সম্পদই বাংলাদেশের উন্নয়নের চাবিকাঠি’ শীর্ষক বির্তক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতায় আকাশ সরদার সেরা বক্তা এবং পক্ষ দল বিজয়ী হন।