মনিরামপুরের লতিফের পাল্টা সংবাদ সম্মেলন, এসপিকে স্মারকলিপি দেয়ার সময় আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক>
মণিরামপুর উপজেলা বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফকে যশোর পুলিশ সুপার অফিস থেকে ডেকে নিয়ে আটক করা হয়েছে। তিনি প্রেসক্লাব যশোর থেকে সংবাদ সম্মেলন শেষে স্মারকলিপি দিতে গেলে মণিরামপুর থানা পুলিশ তাকে আটক করে নিয়ে যায় বলে নিশ্চিত করেন তার ভাই ফারুক হোসেন।
শনিবার প্রেসক্লাব যশোরে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল লতিফ বলেন, বিএনপির ক্যাডার আব্দুল হাই ও তার লোকজন আব্দুল লতিফকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছিল। তার বিরুদ্ধে থানায় কোন মামলা নেই। প্রতিপক্ষ আব্দুল হাইয়ের নামে থানায় নাশকতা, বিস্ফোরক, সরকারি গাছ চুরিসহ বেশকয়েকটি মামলা রয়েছে। তার স্ত্রী নার্গিস বেগম সংবাদ সম্মেলন করে সাংবাদিকদের যে তথ্য দিয়েছে তা সম্পূর্ন মিথ্যা ও বানোয়াট। ।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আব্দুল হাই এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী। সে ও তার সদস্যদের হাতে এলাকার মানুষ জিম্মি। তার নামে মণিরামপুর থানায় তিনটি নাশকতা ও বিস্ফোরক , সরকারি গাছ চুরি ও হত্যা চেষ্টার মামলা আছে। সব মামলার তদন্ত শেষে আব্দুল হাইকে অভিযুক্ত করা হয়েছে চার্জশিটে। ২০০৭ সালে আব্দুল হাই গ্রামীণ ফেনের টাওয়ারের ম্যাগনেট চুরি করে র‌্যাবের হাতে আটক হয়েছিল। আব্দুল হাইকে পুলিশ আটক করায় চালুয়াহাটি ইউনিয়নের মানুষের মাঝে শান্তি ফিরে এসেছে।
তিনি বলেন, ২০১৭ সালের ৮ মে সকালে আমি শ্বশুর বাড়ি থেকে বাড়ি আসছিলাম। গ্রামের মধ্যে পৌছালে আব্দুল হাইয়ের নেতৃত্বে তার লোকজন আমার গতিরোধ করে মারপিট শুরু করে। একপর্যায়ে তারা আমাকে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত ভেবে তাকে ফেলে চলে যায়। দীর্ঘদিন ঢাকায় চিকিৎসা শেষে আমি কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছি। এর মধ্যে গত ২০ জুলাই আব্দুল হাইেয়ের স্ত্রী নার্গিস বেগম আমাকে সন্ত্রাসী চাঁদাবাজ উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলন করেছে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি যে তথ্য সাংবাদিকদের দিয়েছেন তা সম্পূর্ন মিথ্যা ও বানোয়াট। আমি এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, আব্দুল হাই বাহিনী প্রধান সন্ত্রাসী বোমাবাজ। তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে রয়েছে চুরির অভিযোগ। তিনি শায়লা গ্রামের ফজলুর ঘর থেকে সোনার চেইন চুরি ও নেংগুড়া বাজরের বিল্লালের গার্মেন্টস থেকে থ্রিপিচ ও শাড়ি চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়েছিল। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে ইয়াবা ব্যবসার অভিযোগে আছে।
এদিকে আব্দুল লতিফের ভাই ফারুক হোসেন জানিয়েছেন, সংবাদ সম্মেলন শেষে গুরুতর অসুস্থ আব্দুল লতিফসহ বেশ কয়েকজন এসপি অফিসে স্মারকলিপি দিতে যায়। এসপি অফিসে বসে থাকা অবস্থায় মণিরামপুর থানার ওসি তদন্তের নেতৃত্বে একদল পুলিশ লতিফকে ডেকে নিয়ে তাদের গাড়িতে উঠায়। এসময় ওসি তদন্ত তাকে আটক করে নিয়ে যাচ্ছেন বলে জানায় তাদের। তার ভাই আব্দুল লতিফের বিরুদ্ধে থানায় কোন মামলা নেই।
মণিরামপুর থানার ওসি মোকাররম হোসেন আব্দুল লতিফকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তার বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ আছে। থানায় ৬ টি মামলা আছে। তাকে কোন মামলায় তাকে আটক করা হয়েছে তা পরে জানা যাবে বলে তিনি জানিয়েছেন।