সড়ক দুর্ঘটনায় শিশু নিলয়ের আইটি কর্মকর্তা নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক>
যশোরে বাসের ধাক্কায় বেসরকারি সংস্থা শিশু নিলয়ের আইটি কর্মকর্তা সোহেল রানা (২৮) নিহত ও যবিপ্রবি’র কর্মচারী সুজন ( ৩০) গুরুতর আহত হয়েছেন। তারা দুইজন মোটরসাইকেলে ছিলেন। গতকাল শনিবার সকাল ৮টার দিকে সদর উপজেলার বারীনগর সাতমাইল বাজারে দুর্ঘটনাটি ঘটে। একটি কুকুরকে রক্ষা করতে গিয়ে বাসের চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ওই মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। সোহেল রানা যশোর সদর উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের ডহেরপাড়া গ্রামের খাইরুল আলমের একমাত্র ছেলে ও দৈনিক স্পন্দন পত্রিকার বার্তা সম্পাদক শিকদার খালিদের শ্যালক। তিনি শিশু নিলয় ফাউন্ডেশনের যশোর কার্যালয়ের কম্পিউটার ও অটোমেশন সেকশনে কর্মরত ছিলেন। গুরুতর আহত সুজন ললিতাদহ গ্রামের গনেশ হালদারের ছেলে। তাকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তির পর ঢাকায় স্থানান্তর করেছেন চিকিৎসকরা।
হাসপাতাল, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন সকালে সোহেল রানা ও সুজন হালদার মোটরসাইকেলে করে কর্মস্থলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। মোটরসাইকেলের চালক ছিলেন সোহেল রানা। আর পিছনে বসেছিলেন সুজন হালদার। তিনি যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইলেকট্রিশিয়ান পদে কর্মরত রয়েছেন। তাদের বহনকারী মোটরসাইকেলটি বারীনগর সাতমাইলের সবজি বাজারের প্রবেশমুখে আসলে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জগামী শাপলা পরিবহনের একটি বাস ধাক্কা দেয়। এতে তারা দু’জন সড়কের উপর ছিটকে পড়ে মাথা বুকসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে। তাদের উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সোহেল রানার মৃত্যু হয়। হাসপাতালের সার্জারী বিভাগের চিকিৎসক মনিরুজ্জামান লর্ড জানান, সোহেলের মাথা ও বুকে প্রচণ্ড আঘাত লেগেছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হতে পারে। আহত সুজন হালদারের মাথার আঘাতটি গুরুতর। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। তার অবস্থা আশংকাজনক। স্থানীয়রা জানান, তাদের বহনকারী মোটরসাইকেলের অল্প পরিমাণে গতি ছিলো। কিন্তু রাস্তার উপর দিয়ে যাওয়া একটি কুকুরকে রক্ষা করতে গিয়ে বাসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে চালক। এ সময় বাসটি ভুল পাশে গিয়ে সামনে থেকে আসা মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয়। দুর্ঘটনায় এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
এদিকে সোহেল রানার মৃত্যুতে তার পরিবার ও স্বজনদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাদের আহাজারিতে হাসপাতাল এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। আর একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে শোকে কাতর হয়ে পড়েছেন তার পিতামাতা। তারা যেন তরতাজা ছেলের অকালমৃত্যু কোনোভাবে মেনে নিতে পারছেন না। হাসপাতাল মর্গে দায়িত্বরত এসআই আনোয়ার হোসেন জানান, স্থানীয়রা যাত্রীবাহী বাসটি আটক করলেও চালক ও তার সহকারীরা পালিয়ে গেছে। বাসটি পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। এঘটনায় মামলা করা হবে।
সোহেল রানার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন দৈনিক স্পন্দন পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক আলহাজ শেখ আফিল উদ্দিন এমপি, নির্বাহী সম্পাদক মাহবুব আলম লাবলুসহ স্পন্দন পরিবার।