নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, দুর্ভোগ চরমে

স্পন্দন ডেস্ক >
টানা ৬ দিনের বর্ষণে খুলনা বিভাগের ভবদহ ও উপকূল অঞ্চলের নিুাঞ্চল প্লাবিত হয়ে গেছে। এরমধ্যে যশোরের মণিরামপুরের ১১ইউনিয়নের শতাধিক গ্রাম ও অভয়নগরের লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। নিম্নাঞ্চলের জনবসতিরা তাদের বাড়ি-ঘর ছেড়ে আশ্রয় কেন্দ্রে উঠতে শুরু করেছেন। গবাদি পশু নিয়ে এসব মানুষ চরম বিপাকে রয়েছেন। ভেসে গেছে হাজার হাজার ঘের ও মাছের পুকুর। আমন ধানেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো বিস্তারিত খবর :
মণিরামপুর থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক আব্দুল মতিন জানান, মণিরামপুর উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের মধ্যে শ্যামকুড়, হরিহরনগর, মনোহরপুর, চালুয়াহাটী, মশ্মিমনগর, কুলটিয়া, ঝাঁপা, নেহালপুর, খানপুর, ও দূর্বাডাংগা ইউনিয়নের গ্রামগুলো তলিয়ে গেছে। অতি বর্ষণের ফলে নদী, খাল, মাছের ঘের, ফসলের ক্ষেত একাকার হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ অনেক পরিবার তাদের বাড়ি-ঘর ছাড়তে শুরু করেছে। টানা ৬ দিনের ভারী বর্ষণ, কপোতাক্ষ নদের উজানের পানি এবং ভবদহের সমস্যার কারণে স্থায়ী জলাবদ্ধতা রূপ নিতে চলেছে। এরফলে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের উপক্রমসহ নিম্নাঞ্চলের জনবসতিরা তাদের বাড়ি-ঘর ছেড়ে আশ্রয় কেন্দ্রে উঠতে শুরু করেছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইয়ারুল হক জানিয়েছেন, গত সোমবার পর্যন্ত ক্ষয়-ক্ষতির পরিমান ২০ কোটি টাকার উপর রেকর্ড করা হয়েছে। যা সরকারের সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের দপ্তরে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসার সুশান্ত কুমার তরফদার জানিয়েছেন, ৬ দিনের টানা বৃষ্টিপাতের ফলে ৩শ হেক্টর জমির বীজতলা সম্পূর্ণ নষ্ট হতে চলেছে। ১৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মৎস্য কর্মকর্তা আনোয়ার কবির জানিয়েছেন, ৩৮০ হেক্টর জমির মাছের ঘের তলিয়েছে। বিশেষ করে পান চাষিরা বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। হরিহরনগর ইউপি চেয়ারম্যান গাজী আব্দুর সাত্তার জানিয়েছেন, কপোতাক্ষের উজানের পানিতে তার ইউনিয়নের ৯/১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে পড়েছে। মশ্মিমনগর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেনও একই কথা বলেছেন। শ্যামকুড় ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনি জানিয়েছেন, টানা এ বর্ষণের ফলে এই ইউনিয়নটি সব চাইতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এই ইউনিয়নের চিনাটোলা, হাসাডাঙ্গা, শ্যামকুড় ও আমিনপুরসহ ৯/১০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় কষ্টের মধ্যে জীবনযাপন করছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) লিংকন বিশ্বাস জানিয়েছেন, গত ৬ দিনের বৃষ্টিপাতে প্রায় অর্ধশতাধিক কাচা-পাকা বাড়ি-ঘর ধসে পড়েছে। বাড়ি-ঘর ছাড়া শতাধিক পরিবার ২টি আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়াসহ যশোর-সাতক্ষীরা সড়কের চিনাটোলা অঞ্চলে প্রধান সড়কের উপর টোং ঘর বেঁধে আশ্রয় নিয়েছেন। প্রকল্প কর্মকর্তা ইয়ারুল হক জানিয়েছেন, জমে থাকা পানি নিষ্কাশন না হওয়ার ফলে জনগণ আতংকিত হয়ে পড়েছেন। কুলটিয়া ইউপি চেয়ারম্যান শেখর চন্দ্র বলেন, তার ইউনিয়ন ভবদহ লাগোয়া ১৮টি গ্রামের মধ্যে ১০টি গ্রাম পানিতে প্লাবিত হয়ে পড়েছে। এ অঞ্চলের প্রায় অধিকাংশ মাছের ঘের বিলের জলের সাথে একাকার হয়ে গেছে। সরকারী হিসেবে টানা ৬দিনের বৃষ্টিপাতে ১১টি ইউনিয়নের সাড়ে ৪ হাজার পরিবার চরম ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন।

অভয়নগর প্রতিনিধি জানান, অভয়নগর উপজেলায় পানিবন্দি মানুষ ও গৃহপালিত পশু রাস্তায় আশ্রয় নিতে শুরু করেছে। জলাবদ্ধতার কারণে ১০ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ফসল ও মৎস্য ঘের তলিয়ে গিয়ে প্রায় ৬০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। টানা বর্ষণ ও জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় অভয়নগর উপজেলার প্রেমবাগ, সুন্দলী, চলিশিয়া ও পায়রা ইউনিয়নসহ নওযাপাড়া পৌরসভার ২, ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ভেঙে গেছে কাচা ঘরবাড়ি, ডুবে গেছে মৎস্য ঘের, ধান ও সবজি ক্ষেত। পানিবন্দি গৃহহীন মানুষ তাদের গৃহপালিত পশু নিয়ে রাস্তায় আশ্রয় নিতে শুরু করেছে। বাড়িঘরে হাটু পানি জমায় বিষধর সাপ ও পোকা-মাকড়ের ভয়ে রাস্তায় ছাপড়া ঘর বেঁধে শতশত পরিবারকে রাত্রী যাপন করতে দেখা গেছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার রিজিবুল ইসলাম বলেন, ৪ দিনের টানা বর্ষণে প্রেমবাগ ইউনিয়নের মাগুরা, জিয়াডাঙ্গা, বনগ্রাম, চেঙ্গুটিয়া ও বালিয়াডাঙ্গা গ্রাম, সুন্দলী ইউনিয়নের রাজাপুর, রামসরা, আড়পাড়া, হরিসপুর, ফুলেরগাতি, গবিন্দপুর, সড়াডাঙ্গ্া, ডহর মশিয়াহাটি ও ডাঙ্গা মশিয়াহাটি গ্রাম, পায়রা ইউনিয়নরে দিঘলিয়া, বারান্দি, আড়পাড়া, কোটা গ্রামসহ ৩১টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে পৌরসভার ৪টি ওয়ার্ডের ২০০ পরিবার, প্রেমবাগ ইউনিয়নে ৫৩০ পরিবার, সুন্দলী ইউনিয়নের ৫০ পরিবার, চলিশিয়া ইউনিয়নের ৪৩০ পরিবার এবং পায়রা ইউনিয়নের ৪৪০ পরিবার পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ১১ হাজার। কাচা বাড়িঘর ভেঙেছে ১৪০টি।
এছাড়া আউশ ধান ১ হাজার ৬’শ হেক্টর, আমন ধান ৭শ’ হেক্টর, আমন বীজতলা ৩শ’ ৪০ হেক্টর ও ৩শ’ ৫০ হেক্টর সবজী পানিতে তলিয়ে গেছে। উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার বিশ্বজিৎ কুমার দেব জানান, জলাবদ্ধ এলাকার সাড়ে চার হাজার মৎস্য ঘের তলিয়ে গেছে। যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫৬ কোটি টাক্।া উপজেলা কৃষি আফিসার গোলাম ছামদানী, ফসল ও সবজি ক্ষেতের বিষয়ে বলেন, প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকার ফসল নষ্ট হয়েছে। পানিতে তলিয়ে আছে অধিকাংশ সবজি ক্ষেত।
প্রেমবাগ ইউনিয়নের মাগুরা গ্রামের দেবাশীষ দাস নান্টু জানান, তাদের গ্রামের কাচা বাড়িঘর ভেঙে গেছে এবং মাগুরা মাধ্যমিক ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোমর অবধি পানি জমেছে। অধিকাংশ পরিবার তাদের গৃহপালিত পশু নিয়ে রাস্তা ও স্কুলের ছাদে আশ্রয় নিয়েছে। প্লাবিত গ্রামের মানুষেরা তাদের পরিবার ও গবাদি পশু নিয়ে টিনের ছাপড়া ঘর বানিয়ে বিভিন্ন পিচের রাস্তায় বসবাস করছে।
ভবদহ ২১ ভেল্ট স্লুইচ গেটে দেখা গেছে, নদীর পানি বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এবার সরকার ভবদহের সকল স্লুইচ গেটে অতিরিক্ত শ্রমিক দিয়েছেন। যাদের কাজ জোয়ার-ভাটার সময় গেটের কপাট বন্ধ ও খুলে দেয়া। স্থানীয়রা জানান, স্লুইচ গেটের কপাট নিয়ম মেনে নিয়ন্ত্রণ করলে পূর্বের তুলনায় জলাবদ্ধতা অনেক কম হবে। তাদের অভিযোগ সরকারি নিয়ম না মেনে নদীগুলোর খনন কাজ করা হয়েছে। নদী পাড়ে স্তুপকৃত খননের মাটি টানা বর্ষণে পূণরায় নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিতে হবে, সাথে সাথে দুর্গতদের জন্য ত্রাণ সামগ্রী সরবরাহ করতে না পারলে সরকারের সকল সফলতা পানিতে ডুবে যাবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মনদীপ ঘরাই জানান, উপজেলার সকল বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সমন্বয়ে ইউনিয়ন ও পৌরসভার ওয়ার্ড ওয়ারী একটি করে টিম গঠন করা হয়েছে এবং এমার্জেন্সি মোবাইল নম্বার প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভায় টানিয়ে দেয়া হয়েছে। আমি নিজে প্রতিদিন পানিবন্দি এলাকা মনিটরিং করছি।

ফকিরহাট থেকে সুমন কর্মকার জানান, বাগেরহাটের ফকিরহটে কয়েকদিন ধরে অবিরাম ভারী ও প্রবল বৃষ্টির ফলে শতশত পরিবার, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ পাকা সড়ক ও কাচা রাস্তা পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি অনেক মৎস্য ঘের, পুকুর ও পানের বরজসহ কৃষি ফসল তলিয়ে গেছে। যার ফলে নেটের দোকান গুলোতে ভীড় বেড়েছে। ঘের মালিক ও মৎস্য চাষীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। অনেক পরিবার রয়েছে যারা ঘরের খাটের উপর বসে সংসারের সব কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ভৈরব নদ দীর্ঘদিন খনন না হওয়ায় ও বিভিন্ন খাল পরিস্কার না থাকায় পানি নিষ্কাশনে চরম প্রতিবন্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় এ অবস্থা বিরাজ করছে।
উপজেলার আট্টাকা পাকা সড়ক, নলধার দোহাজারী পাকা সড়ক, মানসা বাজারের দুইটি পাকা সড়কের উপর পানি রয়েছে। শিরিন হক প্রাথমিক বিদ্যালয়, নওয়াপাড়া স্কুল, মৌভোগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাহিরদিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বহু প্রতিষ্ঠান পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ শরিফুল কামাল কারিম ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহানাজ পারভীনসহ বিভিন্ন কর্মকর্তা পানিতে নিমজ্জিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। পানি নিষ্কাশনের ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানান, ভৈরব নদী পলি জমে এবং খননের অভাবে পানি নিস্কাশনে বাধাগ্রস্থ হয়ে পড়েছে। যার ফলে বিভিন্ন অঞ্চল পানিতে ডুবে যাচ্ছে।

কয়রা থেকে অরবিন্দ কুমার মন্ডল জানান, সুন্দরবন সংলগ্ন কয়রার প্রত্যন্ত জনপদ দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১৩-১৪/১ পোল্ডারের জোড়শিং, আংটিহারা, গোলখালি, ঘড়িলাল, মাটিয়াভাঙ্গা, মেদেরচর এলাকার ১৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কপোতাক্ষ ও শাকবাড়ীয়া নদী বেষ্ঠিত দক্ষিণ বেদকাশীর সাড়ে ২৭ কিলোমিটার পাউবোর বেড়িবাঁধ টানা বর্ষণে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে নাজুক অবস্থায় পরিণত হয়েছে। এরমধ্যে ১৫ কিলোমিটার বাঁধ খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। যে কোন মুহূর্তে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে পুরো দক্ষিণ বেদকাশী লোনা পানিতে নিমজ্জিত হতে পারে। দক্ষিণ বেদকাশী ইউপি চেয়ারম্যান জিএম কবি শামসুর রহমান জানিয়েছেন, তার ইউনিয়নের সাড়ে ২৭ কিলোমিটার ওয়াপদা বাঁধের মধ্যে ১৫ কিলোমিটার বাঁধের অবস্থা একেবারে নাজুক। জোড়শিং, মাটিয়াভাঙ্গা, আংটিহারা ও ঘড়িলালের বাঁধ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ । বেড়িবাঁধ সংস্কারের বিষয়টি এ বছরের শুস্ক মৌসুম থেকে জোরালোভাবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের খুলনাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী, তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, সাতক্ষীরার নির্বাহী প্রকৌশলী, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীকে একাধিকবার জানানো সত্বেও কোন কাজ হচ্ছে না। এ ব্যাপারে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী অপূর্ব কুমার ভৌমিক বলেন, ক্ষতিগ্রস্থ বেড়িবাঁধ মেরামতে নকশা তৈরি করে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে। অনুমোদন সাপেক্ষ বরাদ্দ মিললে বাঁধের কাজ করা যাবে বলে জানান তিনি।
আশাশুনি (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি জানান, আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নের গাজীপুর পাউবো’র বেড়িবাঁধ ভেঙে ৩টি গ্রাম ও হাজার বিঘা মৎস্য ঘের প্লাবিত হয়েছে। সোমবার দুপুরে জোয়ারের সময় গাজীপুর গ্রামে গলঘেষিয়া নদীর প্রবল ¯্রােতের চাপে বাঁধটি ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ইউপি চেয়ারম্যান আবু হেনা সাকিল, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সেলিম খান ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রচন্ড জোয়ারের পানির চাপে বাঁধের প্রায় ২০হাতের মত বেড়ি ভেঙে যায়। এতে গাজীপুর, কাকড়াবুনিয়া ও বলাডাঙ্গা গ্রামের হাজারও পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। অসংখ্যা ঘরবাড়ি জলমগ্ন হয়ে পড়ে। এছাড়া দেড় হাজার বিঘা জমির মাছের ঘের প্লাবিত হয়ে বিপুল পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতিসহ ২ শতাধিক বিঘা জমির ধানের বীজতলা লোনা পানিতে ডুবে নষ্ট হয়েছে। শ্রীউলা ইউপি চেয়ারম্যান আবু হেনা সাকিল শতাধিক লোক নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে বেড়িবাঁধটি মেরামত করছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া কোলা, হিজলিয়া, হাজরাখালী বেড়িবাঁধের অবস্থা খুবই নাজুক। এসব এলাকার বাঁধগুলো সংস্কার করা না গেলে যেকোন সময় জোয়ারের পানিতে ভেঙে গ্রামের পর গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।