ডুমুরিয়ায় তিন গ্রামের রক্ষা বাঁধ বিলীন হচ্ছে তেলিগাতি নদী গর্ভে

সুব্রত কুমার ফৌজদার, ডুমুরিয়া >
ডুমুরিয়া উপজেলার বাগআচড়া, বাদুরগাছা ও মনোহরপুর এলাকার রক্ষাবাঁধটি ক্রমন্বয়ে তেলিগাতি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। যে কোন মুহূর্তে বড় ধরণের ক্ষতির আশংকা করছেন এলাকাবাসী।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ এক যুগ ধরে ক্রমন্বয় তেলিগাতী নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে শোভনা ও আটলিয়া ইউনিয়নের বাগআচড়া, বাদুরগাছা ও মনোহরপুর গ্রামের একমাত্র রক্ষাবাঁধটি। বাদুরগাছা ও বাগআচড়া পানি ব্যবস্থাপনা সমিতির এফসিডি প্রকল্পের আওতাধীন প্রায় ৩ কিলোমিটার এ ভাঙ্গনকবলিত রক্ষাবাঁধটি বর্তমানে রিং বেড়িবাঁধে পরিণত হয়েছে। ফলে উপকুলবর্তী মানুষেরা চলতি বর্ষা মৌসুমে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। নদীতে অস্বাভাবিকভাবে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি হওয়াতে মানুষের নির্ঘুম রাত কাটছে। তারা প্রতি রাতে জোয়ারের সময় ঘর ছেড়ে চলে আসছেন বাঁধের উপর। ইতিমধ্যে আতঙ্কিত মানুষের মধ্যে অনেকে ঘর ছেড়ে অন্যত্রে চলেও গেছেন। অনেকে বাড়ির গুরুত্বপূর্ন কাগজপত্রাদিসহ আসবাবপত্র সরিয়ে নিচ্ছেন। বাঁধটি ভেঙ্গে গেলে প্রায় ৫শ’ পরিবার ও ৩ শ’ পকেট ঘেরসহ অন্তত ৩২শ’ বিঘা সম্পত্তি জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়ে পড়বে। এতে সাধারণ মানুষের কয়েক’শ কোটি টাকার ক্ষতি হবে। বাগআচড়া গ্রামের মোকছেদ আলী গাজী, সিরাজ গাজীসহ অনেকেই বলেন, ‘বাঁধ ভাঙ্গার আতংকে আমাদের নির্ঘুমভাবে প্রতিরাত কাটছে। চেয়ারম্যান মেম্বররা বিভিন্ন সময় বাঁধ দেখতে আসছেন এবং আমাদেরকে খোঁজ খবর নিচ্ছেন, কিন্তু বাঁধ মেরামত না হওয়াতে আমাদের আতংক আরো বেড়ে যাচ্ছে। সামনেই ভাদ্র মাস। ওই মাসের পূর্ণিমা ও অমাবশ্যায় ভয়াবহ জোগার গোনে কি হবে বাঁধটির তা আমরা বুঝে উঠতে পারছিনে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য দেবব্রত সরদার বলেন, প্রতি ভাটায় গ্রামবাসীকে নিয়ে বাঁধে সংস্কার চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু বড় ধরনের বরাদ্দ না হলে রক্ষা করা খুবই কঠিন। বৃহস্পতিবার বিকালে ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। এসময়ে ইউপি চেয়ারম্যান সুরঞ্জিত কুমার বৈদ্য সাংবাদিকদের বলেন, ‘গত অর্থ বছরে ইউপি পরিষদ হতে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছি ভাঙ্গন মেরামত করতে। এছাড়া ৪০ দিনের কর্মসুচির লোকদিয়েও কাজ করা হয়েছে ওখানে। কিন্তু স্থায়ী সমাধান না হলে আতংক রয়ে যাবে।’ এ প্রসঙ্গে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ এমপি বলেন, ‘ভাঙ্গন এলাকায় পরিদর্শন করেছি। বাঁধটি ভাঙ্গলে এলাকায় বিরাট ধরনের একটা ক্ষতি হয়ে যাবে। বাঁধটি মেরামত করতে বড় ধরনের অর্থ বরাদ্দের প্রয়োজন। সামান্য দুই-পাচ লাখ টাকার কাজ নয়। আমি ইতিমধ্যে পর্যাপ্ত বরাদ্দ চেয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ে ডিও-লেটার দিয়েছি। এছাড়াও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তাদেরকে অবহিত করেছি। তবে সময় সাপেক্ষের ব্যাপার।’