মণিরামপুরে জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি ভয়াবহ রাস্তায় আশ্রয় নিয়েছে কয়েক’শ পরিবার

নূরুল হক,মণিরামপুর>সপ্তাহব্যাপী লাগাতার বৃষ্টি ও উজানের ঢলে যশোর জেলার মণিরামপুর উপজেলার কপোতাক্ষ, হরিহর, মুক্তেশ্বরী, টেকা ও শ্রী নদীর উপচে পড়া ঢলে-পানি জনবসতি এলাকায় ঢুকে জলাবদ্ধ ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে গড়িয়ে গেছে । বন্য কবলিত এলাকায় সরকারিভাবে ক্ষয়-ক্ষতি নিরূপণ করেছে স্থানীয় সরকারী দপ্তর সমূহ। উপজেলার জলাবদ্ধতায় আক্রান্ত চালুয়াহাটি, মনোহরপুর, শ্যামকুড়, দূর্বাডাঙ্গা, নেহালপুর, হরিদাসকাটি, ঢাকুরিয়া ও কুলটিয়া ইউনিয়নের কয়েক’শ গ্রাম এবং ওই এলাকার হাট-বাজার, তৎসংলগ্ন রাস্তাঘাট ঢুকে পড়াসহ যশোর-সাতক্ষীরা প্রধান সড়কের উপর দিয়া বন্যার পানি প্রভাহিত হচ্ছে। নিরুপায় হয়ে জলাবদ্ধ পরিবারের সদস্যরা বাড়ির আসবাবপত্র, গরু ছাগল, হাস-মুরগী নিয়ে সড়কের ধারে ঝুপড়ি ঘর করে আশ্রয় নিয়েছেন। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে শতাধিক পরিবার এই অবস্থার শিকারে মানবেতর জীবনযাপন করছে। বন্যার পানি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শ্রেণি কক্ষে ঢুকে পড়ায় কর্তৃপক্ষ ওই সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি মন্ডলীর সদস্য অ্যাড. পিযুষকান্তি ভট্টাচার্য্য ও সাবেক সাংসদ অ্যাড. খান টিপু সুলতানসহ প্রশাসনের উদ্ধর্তন কর্মকর্তারা এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
জলাবদ্ধ পরিস্থিতি পরিদর্শনে আসেন আওয়ামীলীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য সাবেক সংসদ অ্যাড. পিযুষ কান্তি ভট্টাচার্য্য ক্ষতিগ্রস্থ বানভাসিদের কথা শুনে সহযোগিতার আশ^াস দিয়েছেন। এ সময়ে তার সাথে ছিলেন ছাত্রলীগের আহবায়ক মুরাদুজ্জামান মুরাদ, যুগ্ম-আহবায়ক ফজলুর রহমানসহ উপজেলা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ। এদিকে একই দিনে আরেক সাবেক সংসদ অ্যাড. খান টিপু সুলতান ক্ষতিগ্রস্থ হরিদাসকাটি ও কুলটিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেন। এ সময়ে তার সাথে ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মিকাইল হোসেন, উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি দেবাশিষ সরকার বাবু, শ্রমিক সাবেক সভাপতি বিল্লাল হোসেন মিন্টু, যুবলীগ নেতা অরুবন্দু হাজারা, সেলিম হোসেন, শহিদুল ইসলাম প্রমুখ।
সময় যত বাড়ছে রাস্তায় আশ্রয় নেয়া লোকের সংখ্যা ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে। জলাবদ্ধতায় এই পর্যন্ত কারও মৃত্যুর খবর না পাওয়া গেলেও বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেয়া ভূক্তভোগি মানুষগুলো গত কয়েকদিন পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করলেও ত্রান সামগ্রি তাদের কাছে যথেষ্ট পরিমাণ পৌঁছায়নি। তবে গত বৃহস্পতিবার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ শ্যামকুড় ইউনিয়নে বানবাসিদের মাঝে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মাজেদুর রহমান খানের উপস্থিতিতে ১০০ পরিবারের মধ্যে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করেছেন। এছাড়া গতবুধবার স্থানীয় সংসদ সদস্য স্বপন ভট্টাচার্য্য ৩০০ পরিবারের মধ্যে নগদ অর্থ বিতরণ করেছেন।