কাজে আসছে না রাজবংশীপাড়ার মুক্তেশ্বরী নদীর উপর নির্মিত সেতু

জাকির হোসেন, কুয়াদা>
যশোরের সতীঘাটার রাজবংশীপাড়া’র মুক্তেশ্বরী নদীর উপর সম্প্রতি দায়সারা সেতু নির্মাণের ফলে কোনো কাজে আসছে না। বরং জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। নদীর প্রস্থ অনুযায়ী উচু ও লম্বা সেতু নির্মাণ হওয়ার কথা। কিন্তু সেটি না হয়ে, হয়েছে তার উল্টোটি। যে কারনে পথচারীদের যাতায়াতসহ পানি নিষ্কাশনে মারাত্মক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, যশোর সদরের রামনগর ইউনিয়নের সতীঘাটাস্থ রাজবংশীপাড়া’র মুক্তেশ্বরী নদীর উপর ব্রিটিশ আমলে একটি ব্রিজ নির্মিত ছিল। বর্ণিত ব্রিজটি কালে-কালে নষ্ট হওয়ার পর, সেখানে লোকজন বাঁশের সাঁকো দিয়ে অতিকষ্টে নদী পারাপার হত। ফলে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষ নতুন ব্রিজ স্থাপনের জন্য দাবি করে আসছিল। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে পড়ে। একপর্যায়ে বাংলাদেশ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সেতু/কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্প কর্মসূচি নদীর উপর সেতু নির্মাণের উদ্যেগ গ্রহণ করেন। ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে বাস্তবায়নও করা হয়। সেতুটি বাস্তবায়ন হলেও বাস্তবে দ্বায়সারা বলে সাধারন মানুষের মন্তব্য। কেননা প্রকৃতপক্ষে নদী অনুযায়ী সেতুর দৈর্ঘ্য কমপক্ষে ১’শ ফুট এবং উচ্চতা বেশি হওয়ার কথা। কিন্তু ১’শ ফুট দৈর্ঘ্যতো দূরের কথা, সেখানে উচ্চতাও কম এবং মাত্র ৬০ ফুট দৈর্ঘ্যে সেতু নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।
যশোরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এসএস ট্রেডার্স রামনগর ইউনিয়নের সতীঘাটা কামালপুর-তোলাগোলদারপাড়া রাজবংশীপাড়া’র খালের উপর ৫৬ লাখ ৮৮ হাজার টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করে। স্থানীয়রা জানান, সেতু নির্মাণকালে মাটির নিচেই দেবদারু ও মেহগনি গাছের বল্লি পুতে ঢালাইকাজ সম্পন্ন করে। তাছাড়া নদীর দু’পাশ খালি রেখে মাঝামাঝি (অর্ধেক) স্থানে সেতুটি নির্মাণের পর হতে পথচারীদের দুর্ভোগ আরো চরমে উঠেছে। এদিকে সেতুর দুরত্ব কম হওয়ায় এবং দু’পাশে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে। তাছাড়া উচ্চতা কম হওয়ার ফলে সেতুর উপর পানি ওঠাসহ পানি নিষ্কাশনে মারাত্মক ব্যঘাত দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে রামনগর ্ইউনিয়নের কয়েকজন নির্বাচিত প্রতিনিধির সাথে কথা হলে তারা বলেন, সত্যিই দ্বায়সারা ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে, যা জনগনের কোন উপকারে আসছে না, বরং সাধারণ মানুষ চরম ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন এলাকার সচেতন মহল।