অবশেষে বন্ধ বেনাপোলের গ্রামীণ শিল্প ও বাণিজ্য মেলার অবৈধ লটারি

নিজস্ব প্রতিবেদক>
লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে অবশেষে বন্ধ করা হলো বেনাপোল বলফিল্ডে আয়োজিত গ্রামীণ শিল্প ও বাণিজ্য মেলার আড়ালে চলা অবৈধ লটারি। এর ফলে রক্ষা পেল যশোরের মানুষ। বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি অপূর্ব হাসান সোমবার রাতে বলেন, মঙ্গলবার থেকে মেলার লটারির নামে জুয়া খেলা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সালাহ উদ্দিন শিকদার বলেন, লটারির নামে জুয়া খেলা বন্ধের প্রক্রিয়া চলছে।
সোমবার রাতে মেলা প্রাঙ্গনে লটারির ঘোষক শফিকুল ইসলাম শামীম মাইকে ঘোষণা দেন, আজ রাতেই লটারি খেলা শেষ। মঙ্গলবার থেকে আর লটারি চলবে না।
বেনাপোল পৌর মেয়র আশরাফুল আলম লিটনের আয়োজনে গত ৯ জুলাই স্থানীয় বলফিল্ডে শুরু হয় মাসব্যাপী গ্রামীণ শিল্প ও বাণিজ্যমেলা। সেখানে শুরুর দিন থেকেই এ মেলাকে কেন্দ্র করে চলে রমরমা জুয়ার ব্যবসা। ভোল পাল্টে এর মূল বিষয় হয়ে ওঠে র‌্যাফেল ড্র নামে লটারি। যার নাম দেওয়া হয় ‘দৈনিক উল্লাস র‌্যাফেল ড্র। প্রতিদিন লাখ লাখ টিকিট বিক্রি করা হয়। প্রতিটি টিকিটের দাম ছিল ২০ টাকা। যদিও মেলায় স্থান পেয়েছিল প্রায় দেড় শতাধিক বিভিন্ন পণ্যের স্টল। শিশুদের জন্য কয়েকটি রাইড। তবে এই মেলা হয়ে ওঠে মূলত লটারি কেন্দ্রিক। লাটারির টিকিট বিক্রি করে হাতিয়ে নেয়া হয় লাখ লাখ টাকা।
খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, একজন দিনমজুর সারাদিনের কষ্টার্জিত আয়ের টাকা দিয়ে ‘দৈনিক উল্লাস’ নামে লটারির টিকিট কেটে রাতে ফতুর হয়ে ক্লান্তিভরা শরীর নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। গ্রামের নারীরা হাঁস মুরগী চালসহ নানা ধরণের জিনিসপত্র বিক্রি করে উল্লাসের টিকিট কিনেছেন। কোমলমতি শিশুরাও ঝুঁকেছে জুয়াবাজির খেলায় উল্লাসের টিকিট কেটে রজনীর ভাগ্য লটারিতে। রাতে ছেলে মেয়েরা পড়ার টেবিলে লেখাপড়া না করে বসেছিল টেলিভিশনের পর্দায় ভাগ্য খেলা দেখতে। যা দৈনিক স্পন্দনসহ বিভিন্ন পত্রিকা, অনলাইন পত্রিকা ও ফেসবুকে ছবিসহ মেলার নামে নোংরামি বন্ধের আহবান জানিয়ে লেখালিখি হয়। এতে দেরিতে হলেও টনক নড়ে প্রশাসনসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের। প্রশাসনের নির্দেশে লটারির মঞ্চে দাঁড়িয়ে মাইকে লটারি বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়। বলা হয় আগস্ট মাস শোকের মাস হওয়ায় বেনাপোল পৌর মেয়র আশরাফুল আলম লিটন ভাইয়ের নির্দেশে সোমবার রাতে উল্লাস র‌্যাফেল ড্র’র শেষ রজনী।
স্থানীয়রা বলেছেন, বেনাপোল পৌর মেয়র ও তার সহযোগীরা স্থানীয় বলফিল্ডে গ্রামীণ শিল্প ও বাণিজ্য মেলার নামে লটারি নামের জুয়ার ফাঁদ পেতে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। যার টিকিট বিক্রি হয়েছে গ্রাম-গঞ্জ, হাট-বাজারে।
স্থানীয় এক শ্রমিক জানান, এ জুয়ার টানে গচ্ছিত অর্থ হারিয়েছে গ্রামের সাধারণ মানুষ। যা আগামী ঈদে হাট-বাজারে খুবই প্রভাব ফেলবে। সেই সাথে এখনই যদি এ লটারি নামের জুয়া খেলা বন্ধ না হতো, যদি এক মাস ধরে চলতো তাহলে এলাকার নিম্ন আয়ের লোকজন নিঃস্ব হয়ে যেতো। বিপদগামী হয়ে জুয়ার দিকে আসক্ত হতো স্কুল কলেজের কোমলমতী ছেলে-মেয়েরা।
দৈনিক উল্লাস র‌্যাফেল ড্র’র পরিচালক সৈকত মিয়া দাবি করেছেন, তারা স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় লটারি পরিচালনা করেছেন। লটারি পরিচালনা ছাড়া এ মেলার ব্যয়ভার বহণ করা সম্ভব না।