গরু আসুক, রাখাল যেন মারা না যায়: বিজিবি প্রধান

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, বিডিনিউজ >

সীমান্ত পথে ভারতীয় গরু আনার সময় প্রাণক্ষয় এড়াতে নিয়মের মধ্যে থেকে তা করার পরামর্শ দিয়েছেন বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন।

বুধবার এক সংবাদ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমরা বলেছি দুই দেশের রাখাল করিডোর দিয়ে জিরো লাইন পর্যন্ত যাক। ওরা (ভারতীয়রা) জিরো লাইনে গরু দিয়ে যাক, আর এরা জিরো লাইন থেকে গরু নিয়ে আসুক।”

সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে গরু বাণিজ্যই প্রধানত জড়িত। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়, গরু আনতে গিয়েই বাংলাদেশি রাখালরা গুলি খেয়ে মারা যান।

বিজিবি প্রধান বলেন, “সীমান্ত হত্যা কমেছে। তবে এটা সাস্টেইনেবল না। যেকোনো সময় বাড়তে পারে, আবারও আরও কমতে পারে। আমরা চাই না একজন মানুষও সীমান্তে খুন হোক।”

সীমান্তে হত্যাকাণ্ড শূন্যে নামিয়ে আনতে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষা বাহিনী বিএসএফের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন সময় গরু বাণিজ্যকে বৈধতা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

ভারতের আইনে গরু রপ্তানির সুযোগ না থাকলেও দেশটি থেকে গরু অনেকটা অবাধেই আসছে বাংলাদেশে। সীমান্ত পেরোনোর পর বিজিবির সায় নিয়ে এই গরু বাংলাদেশে বৈধতা পেয়ে যায়।

বাংলাদেশে গরু পাঠাতে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের আগ্রহের বিষয়টি তুলে ধরে বিজিবি প্রধান হোসেন বলেন, “ওখানে (ভারত)একটা সমস্যা আছে। গরু জবাই দিতে পারে না, ঘাসের সমস্যা। ওরা বেশি পাগল থাকে আমাদের দেশে গরু পাঠানোর জন্য।”

সেই গরু নিতে আপত্তি না থাকার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “গরু আসুক, গরু আসা কোনো সমস্যা না।আমাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে করিডোরে যেন কোনো রাখাল মারা না যায়।

“বৈধভাবে করিডোর দিয়ে ব্যবসা সবাই করুক, দুই দেশের ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করুক।তবে আমাদের কন্ডিশনের মধ্যে আসতে হবে।”

ভারতীয় গরুর উপর নির্ভরতা কমে আসায় সীমান্ত পথে গরু অবাধে আসার বিরোধী বাংলাদেশের খামারিরা।

সাংবাদিকরা এই বিষয়টি তুলে ধরলে বিজিবি প্রধান সমস্যার সমাধান বাজারের উপরই ছেড়ে দেন।

দেশীয় গরুর বণ্টন দেশের সব স্থানে সমান না বলে ধারণা তার।

“ডিস্ট্রিবিউশন ঠিকমতো করতে পারলে আমার মনে হয় মানুষ দেশীয় গরুই কিনবে। তাদের (ভারত) গরু কিনবে না।ওদের (ভারত) ব্যবসা তখন মার খাবে।”

বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে গরুর আড়ালে অস্ত্র ঢোকার কোনো আশঙ্কা করছেন কিনা- প্রশ্ন করলে মেজর জেনারেল হোসেন বলেন, “দুই-একটা অস্ত্র আসতে পারে,তবে বড় চালান আসেনি। মোস্টলি দেশীয় অস্ত্র আসছে। আমরা চাই, দেশীয় অস্ত্র যাতে না আসে।”

অস্ত্র চোরাচালান হতে পারে- সীমান্তে এমন ‘৮-১০টি’ স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে জানিয়ে সে সব স্থানে নজরদারি বাড়ানোর কথাও বলেন বিজিবি প্রধান।

“রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, শিবগঞ্জ এলাকাটা একটু সেনসেটিভ। কিছু কিছু মৌসুম আছে, যেখান দিয়ে অস্ত্র আসার সুযোগ থাকে। ভবিষ্যতে নির্বাচন হবে ও হওয়ার পরিকল্পনা আছে। এই মৌসুমে অস্ত্র আসার বা বেচা-কেনার সুযোগ থাকে। যাতে অস্ত্রগুলো না আসতে পারে, আমরা চেষ্টা করছি।”

মিয়ানমার সীমান্ত এলাকার রামুতে একটা রিজিয়ন স্থাপনের অনুমতি সরকার দিয়েছে জানিয়ে বিজিবি প্রধান বলেন,“মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের ২৭১ কিলোমিটার সীমান্তে যৌথবাহিনী করে মাদক, অস্ত্র ও মানবপাচারের বিরুদ্ধে কাজ করার উদ্যোগ নিয়েছি।”

বিজিবির বর্তমান ৫০ হাজার জনবল আরও ১৫ হাজার বাড়াতে একটি প্রস্তাবে সরকারের মৌখিক সম্মতি মিলেছে বলে জানান তিনি।

বিজিবি ‘বর্ডার ট্যুরিজম’ গঠন করেছে জানিয়ে আবুল হোসেন বলেন, “একটি ওয়েবসাইট রয়েছে। এখানে বিজিবির ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার বর্ডার সংলগ্ন সব দর্শনীয় স্থানের নাম-ঠিকানা থাকবে। ট্যুর প্যাকেজ দেওয়া থাকবে। সেসব জায়গায় যেকেউ নিরাপদে ঘুরতে পারবেন।”