যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে বাঁশ দিয়ে ঠেকিয়ে রাখা সেই ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

বিল্লাল হোসেন>
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে বাঁশ দিয়ে ঠেকিয়ে রাখা সেই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন গণপূর্ত বিভাগ। গতকাল এ সংক্রান্ত একটি চিঠি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন গণপূর্ত বিভাগ যশোর কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম। ইতোমধ্যে ভবনের ৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২টি ওয়ার্ডের রোগীদের অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এদিকে, গতকাল মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় পরিচালক ডা. রওশন আনোয়ার ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি পরিদর্শন করেছেন। পরে তিনি বিষয়টি নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনায় বসেন।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ জুলাই সরকারি এ হাসপাতালের দ্বিতীয় ভবনের ছাদে এবং ওয়ালে ফাটল দেখা দেয়। এছাড়া গ্রিলের একাংশ বসে যায়। বিষয়টি নিয়ে হাসপাতালে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. একেএম কামরুল ইসলাম বেনু বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে গণপূর্ত বিভাগকে লিখিতভাবে জানান। পাশাপাশি তিনি মুঠোফোনের মাধ্যমে বিষয়টির তাগাদা দেয়া শুরু করেন। পরের দিন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি পরিদর্শনে আসেন গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা। সেখানে দুর্ঘটনা এড়াতে গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা হাসপাতালের ওই ভবনের ছাদ ঠেকাতে বাঁশের খুঁটি দেয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে দৈনিক স্পন্দনসহ বিভিন্ন পত্রিকায় খবর প্রকাশ হলে ব্যাপক তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়। গণপূর্ত বিভাগ যশোর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী ফ্রান্সিস আশিষ ডি কষ্ট জানান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কাজী ওয়াসিম আহমেদ ওই ভবনটি মঙ্গলবার সকালে পরিদর্শনে যান। তিনি ভবনটি ঘুরে দেখার পর সেটি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যদি ওই ভবনে রোগী ও স্বজনদের থাকার সুযোগ দেন বা পরে যদি কোনো প্রকার দুর্ঘটনা ঘটে তার দায় গণপূর্ত বিভাগ বহন করবেনা। তিনি আরো জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি ব্যবহার না করার জন্য সর্তক বার্তাও ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ঝুঁকিপূর্ণ ওই দ্বিতল ভবনে মোট ৪টি ওয়ার্ড রয়েছে। সেগুলো হলো পুরুষ সার্জারি, অর্থোপেডিক, গাইনী ও মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ড। ৪টি ওয়ার্ডে ১০০টি শয্যা রয়েছে। কিন্তু সেখানে দ্বিগুণের বেশি রোগী থেকে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। তাদের সাথে বসবাস করেন স্বজনেরা। হঠাৎ করে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় রোগী নিয়ে বিপাকে রয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ওয়াহিদুজ্জামান ভিটু জানান, ভবন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার চিঠি পাওয়ার পর সন্ধ্যায় মহিলা মেডিসিন ও অর্থোপেডিক ওয়ার্ডের রোগীদের সরিয়ে নেয়া হয়েছে। অর্থোপেডিক ওয়ার্ডের রোগীদের পুরুষ সার্জারী ওয়ার্ড ও মডেল ওয়ার্ডে পাঠানো হয়েছে। আর মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডের রোগীদের আরএমও কোয়ার্টার এবং মহিলা পেইং ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. একেএম কামরুল ইসলাম বেনু জানান, কক্ষ সংকটের কারণে আপাতত ২টি ওয়ার্ডের রোগী সরিয়ে নেয়া হয়েছে। অন্য দুটি ওয়ার্ডের রোগীদের নিয়েও তারা ভাবছেন। গণপূর্ত বিভাগ যশোর কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী (হাসপাতালে দায়িত্বরত) তরিকুল ইসলাম জানান, বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। আগামী শনিবার অথবা রোববার ঢাকা থেকে ডিজাইন বিশেষজ্ঞ টিম এসে ওই ভবনটি পরিদর্শন করবেন। তাদের মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে ভবনটির ব্যাপারে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় পরিচালক ডা. রওশন আনোয়ার বলেন, ভবনটির ভগ্নদশার চিত্রটি দেখলাম। বিষয়টি তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজিকে লিখিতভাবে জানাবেন।