বঞ্চিতা সভাপতি রানুকে নির্যাতন> যশোর আইনজীবী সমিতি থেকে বরখাস্ত সেই আমির, আটক হচ্ছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক>
৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া নারী নির্যাতনকারী সেই আইনজীবী আমির হোসেনকে যশোর জেলা আইনজীবী সমিতি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমএ গফুর জানিয়েছেন, আমির হোসেনের বিরুদ্ধে কোতয়ালি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা, অভিযোগকারীর সমিতিতে আবেদন, কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব সময়মত না দেয়া, যশোরের পত্রপত্রিকায় তাকে জড়িয়ে সংবাদ প্রকাশে সংগঠনের সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষুন্ন হওয়ার কারণে তাকে সংগঠন থেকে বহিস্কার করা হয়েছে । এখন থেকে আমির হোসেন সব আদালতে আইনজীবী হিসাবে সকল প্রকার কার্যক্রম থেকে বিরত থাকবেন।
এ দিকে আমির হোসেন প্রকাশ্যে থাকলেও তাকে আটক করছে না পুলিশ। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন মামলার আসামি হয়েও দিব্বি আদালতে গিয়ে তিনি মামলা পরিচালনা করছেন। এমন কি আইনজীবীদের বিভিন্ন আন্দোলনে তিনি প্রকাশ্যে অংশ গ্রহণ করছেন। তবু তিনি আটক হচ্ছেন না।
বঞ্চিতা মহিলা ও শিশু উন্নয়ন সমাজ কল্যাণ সংস্থার যশোরের সভাপতি নুর নাহার রানুর দাবি, ৫ বছর আগে ইসলামী শরিয়া মোতাবেক আমির হোসেনের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা শহরের বাবুবাজার ঝালাইপট্টি এলাকায় রানুর দোতলা বাড়িতে বসবাস করতেন। বিয়ের কাগজপত্র আমির হোসেন তার নিজের হেফাজতে রাখেন। ঘরসংসার করাকালীন আমির কাশিমপুর ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হন। নির্বাচনী ব্যয়ের জন্য তিনি রানুর কাছ থেকে নগদ ১০ লাখ টাকা এবং বিভিন্ন সময়ে আরো ২০ লাখ মোট ৩০ লাখ টাকা নেন। এছাড়া ৫ ভরি ওজনের একটি সোনার হার (চেইন) তার কাছ থেকে হাতিয়ে নেন আমির।
অভিযোগে আরো জানাগেছে, গত ১৪ জুলাই রাত নয়টার দিকে আমির যৌতুকের জন্য আরো ৫ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকার করায় তার গলা চেপে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা চালায়। পরে তিনি (রানু) চিৎকার দিলে আশেপাশের লোকজন ওই বাড়িতে আসতে থাকলে আমির দ্রুত সটকে পড়েন।
ওই ঘটনার পর থেকে আমির আর তার সাথে যোগাযোগ করেন না। ঘোপ সেন্ট্রাল রোডের তার ভাই ভাবির বাড়িতে থাকেন। গত ৪ আগস্ট আমির মোবাইল ফোনের মাধ্যমে রানুকে ডেকে ঘোপের খসরু মিয়ার বাড়িতে যেতে বলেন। রানু সরল বিশ্বাসে সেখানে গেলে আমির তার কাছে ফের ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকার করায় আমির একটি লোহার পাইপ দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেধড়ক মারপিট করেন। সে সময় আমিরের ভাবি ফতে বেগম এবং তার ভাইপো রাব্বীও

ফাইল ফটো>আসামি ফতে

মারপিট করে। তিনি সে সময় চিৎকার চেঁচামেচি করলে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসে। আমির সে সময় স্বামী হিসাবে দাবি না করার জন্য রানুকে শাসিয়ে দেন। পরদিন তিনি এই বিষয়ে কোতয়ালি থানায় অভিযোগ দিলে পুলিশ তা মামলা হিসাবে নথিভূক্ত করে। কিন্তু মামলা নথিভূক্ত হওয়ার সপ্তাহ পার হলেও আসামি আমির হোসেন পুলিশের কাছে আটক হননি।
মামলা নথিভূক্ত হওয়ার পর আমির হোসেন আদালতে আইনজীবী হিসাবে ঘুরে বেড়িয়েছেন। যশোরে আইনজীবীদের সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর বিষয়ে উচ্চ আদালতের রায়ের বিপক্ষে করা আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। কিন্তু পুলিশ তাকে খুঁজে পাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন।
এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতয়ালি থানার এসআই হাসানুর রহমান জানিয়েছেন, শুনেছি আমির হোসেন প্রকাশ্যে কিন্তু সংবাদ পেয়ে সেখান হাজির হয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তাকে আটকের জন্য চেষ্টা চলছে।