স্পেনে হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪

নিউজ ডেস্ক>

সন্ত্রাসী হামলায় স্তব্ধ স্পেনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৪ জনে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে কাতালান জরুরি সেবা কর্তৃপক্ষ।

বার্সেলোনা থেকে ৭৫ মাইল দূরের ক্যামব্রিলস শহরে আহত এক নারী শুক্রবার মারা যাওয়ার পর দুই হামলা মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা মোট ১৪ জনে দাঁড়ায়।

ক্যামব্রিলস শহরে এদিন সকালের দিকে পুলিশ গুলি করে ৫ সন্ত্রাসীকে হত্যা করেছে।

সন্দেহভাজন হামলাকারীরা একটি গাড়ি নিয়ে লোকজনকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে গাড়ি উল্টে গেলে পুলিশ তাদের গুলি করে হত্যা করে।

বৃহস্পতিবার স্পেনের পর্যটন নগরী বার্সেলোনার লা রামব্লায় ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর ক্যামব্রিলস শহরে একইধরনের ওই হামলার চেষ্টা চলে। পুলিশের ধারণা, প্রথম হামলাটির সঙ্গে পরবর্তী হামলা চেষ্টার সম্পর্ক আছে।

দুই হামলায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এর মধ্যে আটক তিনজনের একজন মরোক্কান এবং একজন স্প্যানিশ।

লা রামব্লাতে ভ্যান হামলাকারীর খোঁজ চলছে। ক্যামব্রিলসে নিহত ৫ হামলাকারীর মধ্যে লা রামব্লার হামলাকারী রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

স্প্যানিশ গণমাধ্যম সন্দেহভাজন ওই হামলাকারীর নাম মুসা অওবাকির (১৮) বলে জানিয়েছে। সে ড্রিস অওবাকিরের ভাই। যার নামে হামলা চালানোর জন্য ভ্যানটি ভাড়া করা হয়েছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছে, ভ্যানটি ইচ্ছাকৃতভাবে মানুষ মারার উদ্দেশ্যেই চালানো হচ্ছিল।

ওই হামলায় ১৩ জন নিহত এবং ১শ’রও বেশি মানুষ আহত হয়। ঘটনার শিকার প্রথম জনই হচ্ছেন ইতালির নাগরিক ব্রুনো গুলোত্তা।

মিলানে বসবাসকারী ব্রুনো ছুটি কাটাতে সপরিবারে লা রামব্লাতে গিয়েছিলেন। ভ্যানের ধাক্কায় তিনি নিহত হন।

হামলায় লুকা রুসো নামের আরেক ইতালি নাগরিকও নিহত হয়েছেন বলে এক টুইটে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী।

ইতালিসহ মোট ৩৪ টি দেশের নাগরিক স্পেনের দুই স্থানে হামলায় হতাহত হয়েছে। স্থানীয় জরুরি সেবা কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে সিএনএন একথা জানিয়েছে।

এ দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে: আলজেরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, মরোক্কো, কানাডা, কলম্বিয়া, মিশর, হন্ডুরাস, হাঙ্গেরি, মৌরিতানিয়া, ডোমিনিকান রিপাবলিক, জার্মানি, আর্জেন্টিনা, অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, চীন, কলম্বিয়া, কিউবা, ইকুয়েডর, মিশর, স্পেন, যুক্তরাষ্ট্র, ফিলিপাইন, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, গ্রিস, নেদারল্যান্ডস, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, কুয়েত, মেসিডোনিয়া, পাকিস্তান, পেরু, রুমানিয়া, তাইওয়ান, তুরস্ক, ভেনেজুয়েলা।

বৃহস্পতিবারের হামলায় প্রাণ হারানোদের শেষ শ্রদ্ধা জানাতে শত শত মানুষ একযোগে রাস্তায় নেমে এসে শ্রদ্ধাঞ্জলি দিয়ে শোক প্রকাশ করেছে।

স্পেন-ফ্রান্স সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার

স্পেনের পুলিশ বার্সেলোনায় হামলাকারী ভ্যান চালকের সন্ধান চালানোয় ফ্রান্স স্পেন সীমান্তে কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ করছে বলে জানিয়েছে ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি এক টুইটে বলেছেন, “এক ব্যক্তি ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। আমরা পুলিশ এবং স্পেনের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আমাদের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার করছি।”

ইউরোপীয় নিরাপত্তা সম্মেলন চান নিসের মেয়র

ফ্রান্সের নিস শহরের মেয়র অন্যান্য ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসে বড় শহরগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নয়নের চেষ্টা চালাতে চান বলে জানিয়েছেন।

গত বছর ১৪ জুলাই ফ্রান্সের নিস শহরে বাস্তিল দিবসের উৎসবে যোগ দিতে আসা মানুষের ভিড়ে ট্রাক উঠিয়ে ৮৬ জনকে হত্যার এক বছরের মাথায় স্পেনেও একই ধরনের হামলা হল।

নিসের মেয়র চান ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা যাতে আর না হয় সেটি নিশ্চিত করার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হোক।

ইউরোপে প্রাণঘাতী গাড়ি হামলার ঘটনাক্রম:

>> প্যারিস, ৯ অগাস্ট ২০১৭: সেনাদের ওপর গাড়ি হামলায় ৬ জন আহত হয়।

>> লন্ডন, ১৯ জুন ২০১৭: ফিন্সবুরি পার্ক মসজিদের কাছে মুসল্লিদের ওপর ভ্যান হামলা।

>> লন্ডন ৩ জুন ২০১৭: লন্ডন ব্রিজে পথচারীদের ওপর জিহাদিদের ভ্যান ও ছুরি হামলায় ৮ জন নিহত হয়।

>> স্টকহোম, সুইডেন, ৭ এপ্রিল ২০১৭: একটি শপিং এলাকায় এক উজবেক হামলাকরীর লরি হামলায় ৫ জন নিহত হয়।

>> লন্ডন ২২ মার্চ ২০১৭: ওয়েস্টমিনস্টার ব্রিজে পথচারীদের ওপর গাড়ি হামলায় চারজন নিহত হয় এবং পরে চালকের ছুরিকাঘাতে এক পুলিশ নিহত হয়।

>> বার্লিন, জার্মানি ১৯ ডিসেম্বর ২০১৬: বড়দিনের বাজারে তিউনিসীয় হামলাকারী আনিস আমরির গাড়ি হামলায় ১২ জন নিহত হয়।

>> নিস, ফ্রান্স, ১৪ জুলাই ২০১৬: বাস্তিল দিবসের উৎসবে মানুষের ভিড়ে ট্রাক উঠিয়ে দেওয়ার ঘটনায় ৮৬ জন নিহত হয়।

>> ফ্রান্স, ডিসেম্বর ২০১৪: বড়দিনের বাজারে ভ্যান হামলায় ২০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়।