ঝিকরগাছায় চোর অপবাদে নির্যাতনে ট্রাক চালকের মৃত্যুর অভিযোগ,প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ

নিজস্ব প্রতিবেদক>
যশোরের ঝিরকাগাছায় চোর অপবাদে সন্ত্রাসীদের নির্মম নির্যাতনের শিকার নিরীহ ট্রাক চালক আজিবর রহমানের (২৮) মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার ভোরে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। স্বজনরা জানিয়েছেন, কবিরাজের আয়না ভরণের কথা অনুযায়ী গত ৫ আগস্ট সন্ত্রাসীদের গডফাদার ইনামুল হাবিব জগলুর নেতৃত্বে তার ক্যাডাররা আজিবরকে মারিপটের পাশাপাশি ব্যাপক নির্যাতন করেছিলো। নিহত আজিবর ঝিকরগাছা উপজেলার কৃত্তিপুর হঠাৎড়ার হাশেম আলীর ছেলে। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ যানবাহন শ্রমিকেরা যশোর- বেনাপোল সড়ক অবরোধ করে রাখে। পরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ঝিকরগাছা, শার্শা, বেনাপোল ও বাগআঁচড়া ট্রাক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুছা মাহমুদ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ ও পুলিশের হস্তক্ষেপে তারা সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়। এর আগে বিক্ষুব্ধরা জগলু সেলিম ও তার ক্যাডারদের আটকের দাবি জানান। স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ আগস্ট রাতে কৃষ্ণনগর গ্রামের মাঠপাড়ার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ইনামুল হাবিব জগলুর ট্রাকের টায়ার ও ব্যাটারি চুরি হয়ে যায়। ট্রাকটি ঝিকরগাছা ট্রাক টার্মিনাল এলাকায় রাখা ছিলো। কে বা কারা ট্রাকের টায়ার ও ব্যাটারি চুরি করে নিয়ে যায়। কিন্তু চোর হিসেবে সন্দেহ করা হয় আরেকটি ট্রাকের চালক আজিবর রহমানকে। ফলে তাকে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়া হয়। নিহতের পিতা হাশেম আলী জানান, ৫ আগস্ট সকালে তাদেরকে জানানো হয় জগলু কবিরাজের আয়না ভারণের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন ট্রাকের টায়ার ও ব্যাটরি চুরি করেছে আজিবর। ওইদিন সকালে জগলু সেলিমসহ আরো কয়েকজন আজিবরকে বাড়ির সামনে থেকে ধরে নিয়ে যায়। প্রথমে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় মণিরামপুর উপজেলার রোহিতা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের পাশে। সেখানকার নির্জনস্থানে তাকে ব্যাপক মারপিট করা হয়। পরে তাকে আনা হয় জগলুর বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত ভবনে। সেখানে আটকে রেখে দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আজিবরের উপর নির্মম নির্যাতন চালানো হয়। নির্যাতনের সময় জগলু ও সেলিমের ক্যাডাররা বলে শিকার করবি যে তুই ট্রাকের টায়ার ও ব্যাটারি চুরি করেছিস। না বলতেই আজিবরের উপর নির্যাতন বাড়িয়ে দেয়া হয়। হাশেম আলী আরো জানান, ওই দিন সন্ধ্যায় মারাত্মক অবস্থায় আজিবরকে স্বজনদের হাতে তুলে দেয় জগলু ও সেলিম। প্রথমে তাকে উপজেলা আওয়ামী লীগ অফিসে ও পরে নিয়ে যাওয়া হয় ঝিকরগাছা থানায়। পুলিশের সহযোগিতায় ওই ট্রাক চালককে ভর্তি করা হয় ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। তিন দিন চিকিৎসা চলার পর বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় ট্রাক চালক আজিবরকে। নিহতের স্ত্রী জোসনা খাতুন জানান, ২২ আগস্ট মঙ্গলবার তার স্বামী আজিবরের অবস্থা গুরুতর হলে ওই দিন তাকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল শুক্রবার ভোরে মারা যান আজিবর। নিহতের পিতা হাশেশ আলী মা সুখচাঁন বেগমসহ অন্য স্বজনেরা অভিযোগ করেছেন নিরীহ ট্রাক চালক আজিবরকে মিথ্যা চোর অপবাদে জগলু, সেলিম ও তার ক্যাডাররা নির্মন নির্যাতনের কাণে তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার সঠিক বিচার দাবি করেছেন তারা। এদিকে, ট্রাক চালক আজিবরের মৃত্যুর ঘটনায় বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে যানবাহন শ্রমিকেরা। তারা ঘটনার সাথে জড়িত জগলু সেলিমসহ অন্য সন্ত্রাসীদের আটকের দাবি জানিয়ে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত যশোর বেনাপোল সড়ক অবরোধ করে রাখে। খবর শুনে ঘটনাস্থলে যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ঝিকরগাছা শার্শা বেনাপোল ও বাগআঁচড়া ট্রাক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুছা মাহমুদ, সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মিজানুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক শওকত আলীসহ ঝিকরগাছা থানা পুলিশ। নেতৃবৃন্দ ট্রাক চালক আজিবরকে হত্যার আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে সকল প্রকার সহযোগিতার আশ্বাস দিলে বিক্ষুব্ধরা সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়। বিষয়টি নিয়ে কথা হয় ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু সালেহ মাসুদ করিমের সাথে। তিনি দৈনিক স্পন্দনকে জানিয়েছেন, পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে আজিবরকে চোর অপবাদে নির্যাতন করেছে জগলু, সেলিমসহ আরো কয়েকজন। নির্যাতনের জের ধরে নাকি তার মৃত্যু হয়েছে। তবে কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আর ময়না তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে আজিবরের মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এব্যাপারে বক্তব্য নেয়ার জন্য ইনামুল হাবিব জগলুর ০১৮৭৮০৩৯১৭৫ নম্বরে মুঠোফোনে কল দেয়া হয়। কিন্তু রাত ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।