সম্প্রীতি ও সাম্যের ঈদ উল আযহা শনিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক>
শনিবার পবিত্র ঈদ উল আযহা। এ পবিত্র দিনটিকে মুসলমানরা ঈদগাহে গিয়ে একসাথে নামাজ শেষ করে যার যার সামার্থ অনুযায়ী পশু কুরবানি দিবেন। এতে সম্প্রতি ও সাম্যের মনভঙ্গি গড়ে উঠে। ধনি দরিদ্র নির্বিশেষে সকল বয়সের মুসলমান এক ভাবগম্ভীর পরিবেশে নামাজ আদায় করেন এবং পরস্পর কুশলাদী বিনিময়ের সঙ্গে কোলাকুলি করেন। বয়সে কনিষ্ঠ যারা তারা মুরব্বিদের কদমবুসি করেন। ঈদগাহে সমাগত সকল মুসল্লির আল্লাহর পাকের দরবারে মোনাজাত করেন। পার্থিব এবং পরলৌকিক কল্যাণের আশায়। মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য দুই ঈদই অশেষ সংহতি ও সম্প্রতি বয়ে আনে। কুরবানির মাংসের একটি অংশ দরিদ্র মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়। এতে ঈদের আনন্দ একটি ভিন্নতর মাত্রা পায়। এমনিতেই বাঙালি মুসলমান অনুষ্ঠান এবং পর্ব অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যে পালন করে থাকেন।
হযরত ইব্রাহিম (আ.) যে উদাহরণ স”ষ্টি করে গেছেন সেটাকেই মর্যাদা দিয়ে বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায় ঈদ উল আযহা পালন করে আসছে। মূলত পশু কুরবানির মধ্যদিয়ে আত্মউৎসর্গের এক পরম মহিমার নজির স্থাপন করে গেছেন হযরত ইব্রাহিম (আ.)। শরীয়াতের বিধান অনুসারে কুরবানির পশুর মাংস তিন ভাগ করে এক ভাগ নিজে এক ভাগ আত্মীয় স্বজন এবং এক ভাগ দরিদ্রদের মাঝে বিলি করার নির্দেশ রয়েছে। ইসলাম ধর্ম শুরু থেকেই সাম্য ভ্রাতৃত্ববোধ এবং পরোপকারিতার উপর গুরুত্ব আরোপ করেছে। এছাড়া কঠোরভাগে নিষিদ্ধ করা হয়েছে লোক দেখানোর ইবাদতকে। পরিতাপের বিষয়, ইসলামের সঠিক বিধিনিষেধকে আমরা অনেকে গুরুত্ব না দিয়ে অবাঞ্চিত প্রতিযোগিতায় নেমে পড়ি। মানুষের মধ্যে বিদ্যমান পশু প্রবৃত্তি, কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, পরনিন্দা-এ ধরণের যাবতীয় নেতিবাচক প্রবৃত্তিকে সরিয়ে ফেলে সহজ সরল মানবিক গুণাবলী অর্জন করাই হচ্ছে ঈদ উল আযহার প্রধান বৈশিষ্ট্য। ইদানিং ইসলামের মতো সর্বত্তোম বিধানের ভুল ব্যাখ্যা করে এবং রসুলেপাকের জীবনাদর্শ থেকে দূরে সরে গিয়ে কতিপয় স্বার্থপর এবং লোভী বাংলাদেশের সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতিকে ভেঙে গুড়িয়ে দিতে তৎপর। পবিত্র ঈদ উল আযহায় আমাদের প্রার্থনা-আল্লাহপাক যেন বাংলাদেশ এবং তার জাতীয় জীবনকে মর্যাদাশীল করে রাখেন। সকলের জীবন আনন্দময় হোক। ঈদ মোবারক।