ভারতে সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা

বিডিনিউজ>
ভারতে হিন্দুত্ববাদের কট্টর সমালোচক এক সাংবাদিককে তার বাড়ির সামনে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
৫৫ বছর বয়সী গৌরি লঙ্কেশ বাম ঘরানার ‘লঙ্কেশ পত্রিকার’ সম্পাদক ছিলেন। তার বাবা চল্লিশ বছর আগে এই পত্রিকাটি চালু করেছিলেন।
মঙ্গলবার রাতে ব্যাঙ্গালোরে নিজ বাড়ির সামনেই গৌরির লাশ পাওয়া যায় বলে কর্নাটক পুলিশের বরাত দিয়ে জানায় বিবিসি।
ব্যাঙ্গালোরের পুলিশ কমিশনার সুনীল কুমার জানান, রাতে গৌরি যখন বাড়ি ফিরছিলেন, তখন বাড়ির সামনেই মোটর সাইকেল আরোহী হামলাকারীরা তার মাথা ও বুকে গুলি চালায়।
কী কারণে গৌরিকে হত্যা করে হয়েছে তা নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
ভারতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ কয়েকজন সাংবাদিক উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের আক্রমণের শিকার হয়েছেন।
গৌরি লঙ্কেশ তার পত্রিকার মাধ্যমে ‘কমিউনাল হারমনি ফোরাম’ নামে একটি গোষ্ঠীকে সমর্থন দিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি, যারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সপক্ষে দক্ষিণপন্থী হিন্দুত্ববাদের বিরুদ্ধে কাজ করে আসছে।
২০০৮ সালে লঙ্কেশ পত্রিকায় ছাপা হওয়া কয়েকটি লেখার জন্য গৌরির বিরুদ্ধে মানহানির মামলাও হয়েছিল।
বিজেপি-র সাংসদ প্রহ্লাদ যোশীর করা সেই মামলায় গৌরির ছয় মাসের জেলও হয়েছিল।সম্প্রতি তিনি জামিনে মুক্তি পান।
গৌরি ভারতের জাতীয় পুরষ্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র নির্মাতা কবিতা লঙ্কেশের বোন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন দলের নেতা এবং সাংস্কৃতিক কর্মীরা গৌরি হত্যাকান্ডের নিন্দা জানিয়েছেন।
“হত্যার খবরটা সাংঘাতিক। সাংবাদিকদের ওপরে যে কোনো ধরণের হামলার নিন্দা জানাচ্ছি,” গৌরি হত্যার খবর পেয়ে টুইটারে এমনটাই বলেন ভারতের ক্রীড়া মন্ত্রী রাজ্যবর্ধন সিং রাঠোর।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “খুবই দুর্ভাগ্যজনক। খুবই ভীতিকর। আমরা বিচার চাই।”
কবি জাভেদ আখতার লিখেছেন, “দাভোলকর, পানসারে, কালবুর্গি, এবং এখন গৌরী লঙ্কেশ। যদি পর পর একই ধরণের মানুষ নিহত হতে থাকেন, তাহলে হত্যাকারীরা কারা?”
কর্নাটকের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও এস ইয়েদুরাপ্পা এ হত্যাকা-ের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “নাগরিক সমাজের মাথা হেঁট হয়ে যাচ্ছে এটা দেখে..। রাজ্য সরকারের কাছে আর্জি জানাচ্ছি হত্যাকারীদের খুঁজে বের করতে চেষ্টার যেন ত্রুটি না হয়।”