যশোরে কিশোর খুন , মামাতো ভাই আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক>
যশোরে কিশোর আনোয়ারুল ইসলাম আনার (১৫) খুন হয়েছে।  বুধবার দুপুর ১২টার দিকে সদর উপজেলার কৃষ্ণবাটি এলাকার মুক্তেশ্বরী নদী থেকে নিখোঁজ ওই কিশোরের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। দুইদিন আগে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল মামাতো ভাই মিজান।
নিহত আনার চাঁচড়া ইউনিয়নের তফসীডাঙ্গা এলাকার মোহাম্মদ আলমের একমাত্র ছেলে। ওই এলাকার একটি কাঠের অটো মিলে কাজ করতো সে।
পুলিশ এই ঘটনায় নিহতের মামাতো ভাই মিজানকে আটক করেছে। মিজান কৃষ্ণবাটি এলাকার শফিকুল ইসলাম ওরফে চক্করের ছেলে।
নিহতের পিতা আলম জানিয়েছেন, গত সোমবার রাতে মিজান বাড়ি থেকে তার ছেলেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তাকে আর পাওয়া যায়নি। মঙ্গলবার রাতে তিনি এই বিষয়ে কোতয়ালি থানায় একটি অভিযোগ দেন। ওই দিনই মিজান বিষপান করার অভিনয় করে হাসপাতালে ভর্তি হয়। বিষয়টি সন্দেহ হলে পুলিশকে জানালে পুলিশ তাকে হাসপাতাল থেকে আটক করে। বুধবার সকালে মিজানের স্ত্রী আন্নার কাছ থেকে পুলিশ নিহতের মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও টাকা উদ্ধার করেছে। অটোমিলে কাজ করে আনার কিছু টাকা জমিয়েছিল। ওই টাকা নেয়ার জন্য তার ছেলেকে খুন করা হয়েছে। মিজানের সাথে আরো অনেকে থাকতে পারে।
নিহতের মা ফিরোজা বেগম ওরফে আদুরী জানিয়েছেন, সোমবার রাতে মিজান তার ছেলে আনারকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর তাকে আর পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোনটিও বন্ধ ছিল। মঙ্গলবার বিকেলে আনারের বোন তানিয়া নিহত আনারের নম্বরে ফোন দেয়। সে সময় মিজানের স্ত্রী আন্না ফোন রিসিভ করেন। পরে ফোনে আন্নার সাথে তানিয়ার তর্কতর্কি হয়। কিন্তু আন্না যে মিজানের স্ত্রী এইটা তানিয়া বুঝতে পারেনি। পরে জানতে পেরে তিনি (আদুরী) বিকেলে মিজানের বাড়িতে যান। এবং আনার মোবাইল ফোনের সংবাদ তিনি জানতে পারেন। সে সময়ই নিহতের মা অনুমান করেন তার ছেলের খোঁজ মিজানই জানে।
মিজানের স্ত্রী আন্না জানিয়েছেন, সোমবার গভীর রাতে মিজান বাড়িতে নেশা করে ফেরে। সে সময় তার পরনে স্যান্ডো গেঞ্জি এবং জিন্সের ভেজা প্যান্ট ছিল। তার হাতে মোট তিনটি মোবাইল ফোন, ৫শ টাকা এবং একটি মানিব্যাগ রাখতে দেয়। মোবাইল ফোন তিনটি বন্ধ ছিল। ফোন সচল করতে তার স্বামী নিষেধ করেন। মঙ্গলবার বিকেলে তিনি কৌতুহল বসত একটি বন্ধ মোবাইল ফোন সচল করেন। সে সময় একটি ফোন আসে। ফোনদাতা বলে এটি তার ভাইয়ের নম্বর। পরে জানতে পারেন একটি তার দেবর আনারের। এর পর মিজান বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। তাকে সন্ধ্যার দিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তির আগে তিনি মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেন। পরে আনারের পরিবারের লোকজন থানায় সংবাদ দিলে পুলিশ তাকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আটক করে। এরপর ভয়ে তিনি নিহতের বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় দেন। কারণ তার কারণে লাশের সন্ধান পাওয়া গেছে।
নিহতের মামা রবিউল ইসলাম জানিয়েছেন, তিনি লোক মারফত বুধবার সকালে জানতে পরেন; ঘটনার দিন রাতে ওই এলাকার লোকাজন মিজানকে মুক্তেশ্বরী নদীর পাশে মহাসিন মাস্টারের ফার্মের মধ্যে ঢুকতে দেখেন। এবং মিজান ওই এলাকার এক নৈশ প্রহরীর কাছ থেকে একটি টর্চ লাইট নেয়। এতে তাদের সন্দেহ হয় যে, আনারকে ওই ফার্মের মধ্যে নিয়ে হত্যা করা হতে পারে। সকালে ওই এলাকার ৩০ থেকে ৪০জন লোককে নিয়ে তিনি ফার্মের মধ্যে ঢোকেন। ফার্মের পাশের মুক্তেশ্বরী নদীর পাড়ে প্যান্ট, ঘড়ি, চাবি, স্যান্ডেল দেখতে পান। পরে খোঁজ করে নদীর কচুরিপানার মধ্যে লাশের সন্ধান পান এবং পুলিশে সংবাদ দেন। আর নিহত মিজান শরীরে বিষ ঢেলে আত্মহত্যা করার অভিনয় করে।
বুধবার সকালে সংবাদ পেয়ে কোতয়ালি থানার এসআই সুকুমার কুন্ড ঘটানস্থলে পৌছে লাশ উদ্ধার করেন এবং যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠান। সেখান থেকে উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে। পরে লাশের ময়নাতদন্ত হয়েছে বলে তিনি জানান। তিনি বলেছেন, নিহতের গলায় দাগ রয়েছে। ধারনা করা হচ্ছে তার গলায় বেল্ট দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আর লাশ অর্ধেক পচে গেছে। সে কারনে আর কোন আঘাতের চিহ্ন আছে কি-না তা বোঝা যাচ্ছে না। এই ঘটনায় মিজান নামে একজনকে আটক করা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
চাঁচড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মুজিবর রহমান জানিয়েছেন, নিহত আনার খুব ভাল ছেলে ছিল। সে ওই এলাকার একটি কাঠের অটো মিলে কাজ করে। কী কারণে তাকে হত্যা করা হলো তা জানতে পারেননি তিনি। এই মন্তব্য করছেন নিহতের প্রতিবেশি আব্দুস সামাদ। ঘটনাস্থলে নিহতের লাশ দেখতে হাজির হয় শ’শ’ নারী পুরুষ। তারা এই হত্যার সাথে জড়িত মিজানের ফাঁসির দাবি জানান।