সাংসদ শেখ আফিল উদ্দিনের গণসংবর্ধনা ঘিরে শার্শায় ব্যাপক প্রস্তুতি

বিল্লাল হোসেন, শার্শা থেকে ফিরে>
আগামী ৯ সেপ্টেম্বর শনিবার যশোর-১ (শার্শা) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ শেখ আফিল উদ্দিনের গণসংবর্ধনা উপলক্ষে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন। শেখ আফিল উদ্দিন বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষিপদকে ভূষিত হওয়ায় প্রিয় জনপ্রতিনিধির প্রতি বুকভরা ভালোবাসা উজাড় করে দিতেই এ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। এ আয়োজনকে বর্ণাঢ্য করতে তাদের বিশাল প্রস্তুতি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা সাংবাদিক নেতা ইকবাল সোবহান চৌধুরী। সংবর্ধনা ঘিরে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষের মাঝে চলছে উৎসাহ উদ্দীপনা। উপজেলাজুড়ে তোরণ, ব্যানার, বিলবোর্ড স্থাপনের পাশাপাশি নানা রঙের আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে। বাদ্যবাজনার সাথে প্রচারণাও চালানো হচ্ছে।
শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল হক মঞ্জু এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুজ্জামান জানান, ৯ সেপ্টেম্বর শার্শা স্টেডিয়াম মাঠে তাদের যোগ্য ও প্রাণপ্রিয় নেতার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের দিন। ৩৫ থেকে ৪০ হাজার মানুষের উপস্থিতিতে শেখ আফিল উদ্দিন এমপিকে দেয়া হবে সংবর্ধনা। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক জীবনে তিনি মানুষকে নানাভাবে উপকৃত করেছেন। কিন্তু জনপ্রিয় এ সংসদ সদস্যকে আমরা কিছুই দিতে পারিনি। তাই যোগ্য নেতাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত করার জন্যই গণসংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে।
সূত্রে জানা গেছে, গণসংবর্ধনার অনুষ্ঠানটি যথাযথভাবে সফল করার লক্ষ্যে শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে পৌরসভাসহ মোট ১১টি ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সাথে প্রতিনিয়ত মতবিনিময়সভা করা হচ্ছে। সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে অংশ নেবেন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে। উপজেলাকে সাজানো হয়েছে অপরূপ সাজে। সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।
শার্শা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুর রহিম সরদার জানান, প্রিয় নেতার সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপজেলার ১শ’৮৮ গ্রামের সকল ছাত্র অংশগ্রহণ করবে। তারা শোভাযাত্রা সহকারে অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হবে। ছাত্ররা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবেও কাজ করবে।
বেনাপোল পৌর স্বেচ্ছাসেবকলীগ সভাপতি জুলফিকার আলী মন্টু জানান, এ গণসংবর্ধনাকে গিরে স্বেচ্ছাসেবকলীগের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। তারা অনুষ্ঠান সফল করার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন।
উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক ওয়াহিদুজ্জামান জানান, গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে সফল করতে মোট ৫টি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। সেগুলো হলো সাজসজ্জা কমিটি, প্রচার কমিটি, দাওয়াতপত্র বিতরণ কমিটি, আপ্যায়ন কমিটি ও স্বেচ্ছাসেবক কমিটি। অনুষ্ঠানে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার মানুষের সমাগম হবে বলে তারা ধারণা করছেন। কেননা প্রাণপ্রিয় নেতাকে সংবর্ধনা জানানোর জন্য দলমত নির্বিশেষে মানুষ অংশগ্রহণ করবেন। নারীদের জন্য বসার আলাদা স্থান করা হবে। তাদের দেখভালের জন্য থাকবেন মেডিকেল টিমের সদস্যরা। সার্বিক নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করবেন পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।
এদিন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. আব্দুস সাত্তার, যশোর সরকারি এমএম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর এসএম ইবাদুল হক ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শাবান মাহমুদ। সভাপতিত্ব করবেন শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল হক মঞ্জু।
শার্শা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান জানান, শেখ আফিল উদ্দিন এমপি মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি নিজের স্বার্থের কথা কখনো ভাবেন না। তিনি সাধারণ মানুষের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদেরকে নানাভাবে সহায়তা করেন। যে কারণে তিনি আজ শার্শাবাসীর কাছে প্রাণপ্রিয় নেতা হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছেন। তাই গণসংবর্ধনার মধ্য দিয়েই সকল শ্রেণির মানুষ শেখ আফিল উদ্দিন এমপিকে ভালোবাসা ও সম্মান জানাবেন। অনুষ্ঠান জনসমুদ্রে পরিণত হবে।
এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার শার্শা স্টেডিয়াম মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, মঞ্চ সজানোর কাজ চলছে দ্রুত গতিতে। তোরণ, ব্যানার ও বিলবোর্ড দিয়ে সাজানো হয়েছে সড়কের দু’পাশ। আবার নানা রঙের আলোকসজ্জার ব্যবস্থা রয়েছে। বাদ্যযন্ত্রের সাথে চালানো হচ্ছে প্রচার প্রচারণা।
শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল হক মঞ্জু আরো জানান, ক্ষুধামুক্ত ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গঠনে কৃষি গবেষণা এবং কৃষি সম্প্রসারণসহ দেশের সামগ্রিক কৃষি খাতে বিশেষ অবদান রয়েছে শেখ আফিল উদ্দিন এমপির। উদাহরণ স্বরূপ তিনি বলেন, বিগত দিনে সোনামুখি বিলে জলাবদ্ধতার কারণে সেখানে ফসল আবাদ করতে পারতেন না চাষিরা। ২০১১ সালে শেখ আফিল উদ্দিন এমপি নিজস্ব উদ্যোগে আমড়াখালী খাল খননের পর সোনামুখি বিলে এখন আর বৃষ্টি হলেই পানি জমে না। যে কারণে সেখানকার জমিতে ধান ও পাটের আবাদ করছেন চাষিরা। এছাড়া মৎস্য চাষেও তার বিশেষ অবদান রয়েছে। এক্ষেত্রেও শেখ আফিল উদ্দিন এমপি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন।