শার্শায় নতুন এক ইতিহাস

নিজস্ব প্রতিবেদক>নতুন এক ইতিহাসের জন্ম হল যশোরের সীমান্তবর্তী শার্শা উপজেলায়। এ ইতিহাসের নায়ক একজন জনপ্রতিনিধি এবং ধারক হাজার হাজার জনতা। একজন প্রতিনিধিকে সংবর্ধনা দিতে এমন জনসমূদ্র এর আগে কোন জেলা বা উপজেলায় দেখা যায়নি, এমনটাই বললেন বক্তব্যে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শাবান মাহমুদ। এ অনুষ্ঠানে তিনি ছিলেন বিশেষ অতিথি।
কৃষিতে জাতীয় পদক পাওয়ায় গতকাল বিকেলে সংসদ সদস্য আলহাজ শেখ আফিল উদ্দিনকে উপজেলা আওয়ামী লীগ গণসংবর্ধনা দেয়। অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি শাবান মাহমুদের বক্তব্যে এ আয়োজনের বিশালতা ফুটে ওঠে। তিনি বলেন, ঢাকা থেকে যশোর পৌঁছে প্লেন থেকে নেমে খবরের কাগজে দেখতে পাই সাংসদ শেখ আফিল উদ্দিনকে গণসংবর্ধনা জানাতে সাজ সাজ রব। ভেবে ছিলাম একটু বাড়িয়ে লিখেছে। কিন্তু অনুষ্ঠানে এসে দেখলাম তার বাস্তবতা। হাতি ঘোড়া নিয়ে নানান সাজে সেজে মানুষ যেভাবে এ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছে,আসলেই তা সাজসাজ।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরীও এমন আয়োজনে মুগ্ধতা প্রকাশ করেন তার বক্তব্যে। তিনি বলেন, আমি যখন ঢাকা থেকে আসি তখন মনে করে ছিলাম আফিল উদ্দিন এমপিকে কোন এক মিলনায়তনে সংবর্ধনা দেয়া হবে। এসে দেখি একেবারে ভিন্ন। যাদের জন্য কাজ করেছেন আজ তারাই আফিল উদ্দিন এমপিকে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছেন এখানে। আমি ভাবতে পারিনি এতো মানুষ আফিল উদ্দিন এমপিকে ভালবাসে। আমি দেখেছি আফিল উদ্দিনের হাতে গড়া জুট মিল্স। যেখানে ৫হাজারেরও বেশি মহিলা কাজ করছেন। প্রধানমন্ত্রীর দেয়া প্রতিশ্রুতি শেখ আফিল উদ্দিন এখানেই রেখেছেন। আমি তার মৎস্য খামারে গিয়েছি, মুগ্ধ হয়েছি। তিনি দেশীয় বিরল প্রজাতির মাছকে বাচিয়ে রেখে দেশের উন্নয়ন করে চলেছেন। তাকে মৎস্য চাষে বিশেষ অবদান রাখার কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বারবার বিশেষ সম্মানে সম্মানিত করছেন। আসুন সকলে মিলে দেশের জন্য কাজ করি, দেশকে এগিয়ে নিতে। উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মেহেদি হাসান বলেন,কোন আয়োজনে এত বিশাল জনতার উপস্থিতি এর আগে শার্শায় ঘটেনি। হাজার হাজার মানুষ স্বেচ্ছায় এসেছেন নেতার কৃতিত্বে তাকে সংবর্ধনা জানাতে।বাস্তবিকই তাই। বিকেল চারটার মধ্যে শার্শা স্টেডিয়াম জনসমুদ্রে পরিণত হয়। তার আগে চারিপাশ থেকে শোভাযাত্রা সহকারে বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, মহিলালীগ অনুষ্ঠানে যোগ দেয়। ছিল শার্শার একটি প্রতিবন্ধী সংস্থাও। সাধারণ জনতার মিছিলতো আছেই!
সাংবাদিক কাজিম উদ্দিন বললেন, এত বিশাল জনতার উপস্থিতি স্বতষ্ফ’র্ত। শার্শার মানুষ মনে করে নিজ গুনে পদক পেয়েছেন সংসদ সদস্য। তিনি যেমন এ উপজেলার মানুষের জমি জলাবদ্ধতার কবল থেকে রক্ষা করে ফসল চাষের সুযোগ করে দিয়েছেন। তেমনি নিজে মাছের চাষ করে এলাকাসহ জেলার মাছের অভাব দূর করেছেন। তাও সাধারণ মাছ চাষ নয়। বিলুপ্ত প্রায় মাছের উৎপাদন করে তিনি নজির স্থাপন করেছেন। তাতে যেমন মাছের চাহিদা মিটেছে তেমনি কর্ম সংস্থান হয়েছে শত শত মানুষের। এমন উদ্যোগ অতিতের কোন সংসদ সদস্য নেননি শার্শার জন্য। সেই মানুষটিকে অবশ্য উপজেলার মানুষ স্বতস্ফূর্ততার সাথে সংবর্ধনা দেবে। সে কারণেই এমন জনসমূদ্রে পরিণত হয়েছে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। যা শার্শার জন্য ইতিহাস।