পুলিশে চাকরি অন্যের সনদ ও নাম-ঠিকানায়!

স্পন্দন ডেস্ক: খুলনায় ভুয়া সনদ ও নাম-পরিচয় ব্যবহার করে শাহাজুল ইসলাম ওরফে শাকিল নামের এক ব্যক্তি পুলিশে চাকরি করছেন। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে বিষয়টি লিখিতভাবে জানালেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উল্টো গাড়িচালক থেকে পদোন্নতি দিয়ে তাঁকে সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) করা হয়েছে।


পুলিশে চাকরি অন্যের সনদ ও নাম-ঠিকানায়!এই পুলিশ সদস্য হলেন খুলনার পাইকগাছা থানার হরিঢালী ক্যাম্পের এএসআই শাহাজুল ইসলাম। তাঁর মূল নাম শাকিল হাওলাদার। তিনি বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার বারইখালী গ্রামের বাধ্যতামূলক অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কনস্টেবল সরোয়ার হাওলাদারের ছেলে।

অবশ্য শাহাজুল ওরফে শাকিল তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ স্বীকার করে বলেছেন, ‘এসব লিখে বা অভিযোগ দিয়ে কোনো কাজ হবে না। যাচাই-বাছাই করেই আমার চাকরি হয়েছে। ’

বিভিন্ন দপ্তরে মোরেলগঞ্জের বারইখালী গ্রামের বাসিন্দাদের দেওয়া অভিযোগ সূত্রে ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১৫ বছর আগে এই শাকিল হাওলাদার মেহেরপুর সদরের বুড়িপোতা গ্রামের মো. শাহাজুল ইসলামের এসএসসি সমমানের মাদরাসা সার্টিফিকেট নিয়ে পুলিশে চাকরি নেন। সার্টিফিকেটধারী শাহাজুল ইসলাম বর্তমানে সিঙ্গাপুরে প্রবাসী। গত ৭ আগস্ট মেহেরপুরের ২ নম্বর বুড়িপোতা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান এ মর্মে প্রত্যয়নপত্র দিয়েছেন।
এর আগে ৫ আগস্ট আমঝুপি আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মাদ মাহবুব উল আজমের দেওয়া প্রত্যয়নপত্রের মাধ্যমে জানা গেছে, ২০০১ সালে শাহাজুল ইসলাম জিপিএ ২.১৭ পেয়ে দাখিল পাস করেন। তাঁর রোল নম্বর ছিল ১৮৬৩১৪। রেজিস্ট্রেশন নম্বর ছিল ৮৫৬৮৭০/৯৯।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ওই মাদরাসার অফিস সহকারী রেশমা খাতুন বলেন, ২০০১ সালে দাখিল পাস করা শাহাজুল ইসলামের মূল সনদপত্র এখনো মাদরাসায় জমা রয়েছে।

বুড়িপোতা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান বলেন, বর্তমানে পুলিশে কর্মরত শাহাজুল ইসলাম বুড়িপোতা গ্রামের বাসিন্দা নন। শাহাজুল ইসলাম সিঙ্গাপুরে অবস্থান করছেন। তাঁর বাবার নাম ছয়রুদ্দীন।

এদিকে পুলিশের এএসআই শাহাজুলের জীবনবৃত্তান্তে জন্ম তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ২৫ আগস্ট ১৯৮৪। তাঁর বাবা সরোয়ার হাওলাদার পুলিশে চাকরি নিয়েছেন ১৯৮৫ সালে। তখন তিনি অবিবাহিত ছিলেন।

মোরেলগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারের (এএসপি) দপ্তরে গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে একটি আবেদন করেন এএসআই শাহাজুলের মা শিরিনা বেগম। ওই আবেদনে তিনি ছেলের নাম উল্লেখ করেন শাকিল হাওলাদার।

মোরেলগঞ্জের বারইখালী গ্রামের বাসিন্দা মো. জামাল শেখসহ আরো কয়েকজন জানান, পুলিশে লোক নিয়োগের কথা বলে অর্থ গ্রহণের অভিযোগে শাকিলের (শাহাজুল) বাবা সরোয়ার হাওলাদারকে (কনস্টেবল ব্যাচ নম্বর ১৬৫১) বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়। তাঁদের অত্যাচারে গ্রামের মানুষ অতিষ্ঠ। বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েও তাঁরা কোনো ফল পাননি।

জামাল শেখ বলেন, ২০১৬ সালের ১৩ মার্চ রাত সাড়ে ১০টার দিকে সরোয়ার হাওলাদারের নেতৃত্বে তাঁর ছেলে রিপন হাওলাদার, গোলাম মোস্তফাসহ ১২-১৩ জন তাঁর মেয়েকে ধরে নিয়ে যায়। পরের দিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে খালের পাশ থেকে মেয়ের লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় মামলা করে এখন তিনি এক প্রকার পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তিনি আকুতি জানিয়ে বলেন, ‘আমরা ওদের হাত থেকে বাঁচতে চাই। ’

অভিযোগ প্রসঙ্গে এএসআই শাহাজুল ইসলাম ওরফে শাকিল হাওলাদার সাংবাদিকদের বলেন, ‘এলাকার লোকজন আমার বিরুদ্ধে পুলিশের বিভিন্ন দপ্তরে দরখাস্ত করেছে। তদন্তও হয়েছে। কিন্তু আমার চাকরির কোনো ক্ষতি হয়নি। আর হবেও না। সরকারি চাকরি হওয়া যত কঠিন, তার চেয়ে বেশি কঠিন চাকরি যাওয়া। কী নামে চাকরি করছি, বাড়ি কোথায় ছিল বা এখন কোথায় থাকি। বাবার কী নাম, বাবার কী নাম দিয়েছি তা চাকরি নেওয়ার সময় পুলিশ বিভাগ যাচাই-বাছাই করেছে। যদি ভুয়া নামে, ভুয়া ঠিকানায় চাকরি নিয়ে থাকি, সেটা দেখার বিষয় ছিল যাচাই-বাছাই কর্মকর্তার। এখন ওসব নিয়ে প্রশ্ন করে কোনো লাভ নেই। আপনারা যত লিখবেন আমার জন্য তত ভালো হবে। ’

তথ্যসূত্র : কালেরকন্ঠ