যশোরে সংবাদ সম্মেলনে দাবি> শেখহাটিতে সার্জেন্ট শরিফুল প্রভাব খাটিয়ে প্রতিবেশি ও স্বজনদের হয়রানি করছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক>
যশোর শহরতলীর ছোট শেখহাটি এলাকার সেনাবাহিনীর সার্জেন্ট শরিফুল ইসলাম প্রভাব খাটিয়ে তার প্রতিবেশি এবং আত্মীয় স্বজনদের নানা ভাবে হয়রানি করে থাকেন । এমনকি প্রতিবেশির তিন শতক জমি দখল করে নেয়ার ষড়যন্ত্র করে আসছেন তিনি। শিশুদের মারামারিতেও তিনি যোগ দিয়ে সংগ্রাম নামে এক যুবককে র‌্যাব দিয়ে উঠিয়ে নির্যাতন করিয়েছেন।
মঙ্গলবার সকালে প্রেসক্লাব যশোরে এক সংবাদ সম্মেলনে তার প্রতিবেশিরা এবং নির্যাতিত যুবক এ অভিযোগ করেন।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শরিফুলের স্ত্রী আফরোজা সুলতানা কাজল এবং র‌্যাব-৬ যশোর ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর শোয়েব।
কাজলের দাবি, শামীম পূর্ব পরিকল্পিতভাবে সার্জেন্ট শরিফুলকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়েছে। বর্তমানে শরিফুল সিএমএইচএর আইসিইউতে ভর্তি রয়েছেন।
আর ধরে নিয়ে যাওয়া যুবককে (সংগ্রাম) জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তাকে মারপিট করা হয়নি। এমনকি তাকে আটকের সময় নারী পুরুষ শিশুকে মারপিটের যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা মিথ্যা বলে জানান মেজর শোয়েব।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সার্জেন্ট শরিফুল ছুটিতে বাড়িতে আসলেই একটা না একটা ঝামেলা বাঁধাবেন। তিনি তার প্রতিবেশি সংগ্রামের তিনশতক জমি দখলের জন্য নানাভাবে পায়তারা করে আসছেন। বাড়ি করার সময় জমি না মেপে বাড়ির পানি নিষ্কাশনের পাইপ অন্যের জায়গায় বসিয়েছেন। তাকে কেউ কিছু করতে পারবে না বলে শাসিয়ে দেন শরিফুল।
গত সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে চারজন লোক দুইটি মোটরসাইকেলে করে ছোট শেখহাটি এলাকায় যায় শামীম সরদারকে ধরতে। এর আগে শামীমের শিশু সন্তান এবং শরিফুলের সন্তানদের মধ্যে গন্ডগোল বাঁধলে শরিফুল হুমকি দেন শামীমকে। শামীমকে না পেয়ে তার ভাইরাভাই সংগ্রামকে ধরে নিয়ে যায় ওই চার ব্যক্তি। আটকের সময় সেখানে উপস্থিত নারী পুরুষ ও শিশুকে মারপিট করে ওই চার ব্যক্তি। পরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারেন সংগ্রামকে র‌্যাব-৬ যশোর ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরে অবশ্য রাত সাড়ে নয়টার দিকে সংগ্রামকে ছেড়ে দেয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে-র‌্যাব ক্যাম্পে সংগ্রামের খোঁজ নিতে গিয়ে তার দুই স্বজনকেও পিটিয়েছে র‌্যাব। মঙ্গলবারের সংবাদ সম্মেলনে সংগ্রামের প্রতিবেশি এবং আত্মীয় স্বজনরা সার্জেন্ট শরিফুলের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ছোট শেখহাটি জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি মফিজুর রহমান, অভিযুক্ত শরিফুলের চাচা আলাউদ্দিন বাবুও বক্তব্য দেন।
এই বিষয়ে মোবাইল ফোনে কথা হয় শরিফুল ইসলামের স্ত্রী আফরোজা সুলতানা কাজলের সাথে। তিনি বলেছেন, সংবাদ সম্মেলনের দেয়া সব তথ্য মিথ্যা। গত বৃহস্পতিবার শরিফুল এক মাসের ছুটি নিয়ে বাড়িতে আসেন। সোমবার দুপুরে তিনি ও সার্জেন্ট শরিফুল বাজার করে বাড়ি ফিরছিলেন। সকাল ১১টার দিকে বাড়ির সামনে পৌছালে তার সামনে শামীম একটি বড় চাকু নিয়ে তার স্বামী শরিফুলকে আঘাত করে। শরিফুলের বুকে দুই স্থানে ছুরি মারে। তিনি ঠেকাতে গিয়ে জখম হন। শরিফুলের রক্তে তার হাত রঞ্জিত হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে যশোর সিএমএইচ এ ভর্তি করা হয়। তার অবস্থা আশংকাজনক। বর্তমানে তিনি আইসিইউতে ভর্তি রয়েছেন। এই ঘটনায় একটি অভিযোগ দেয়া হলে র‌্যাব সদস্যরা শামীমকে খুঁজতে ছোট শেখহাটিতে যায়। ঘটনাটি ভিন্নখাতে নিতে ওই এলাকার লোকজনকে জড়ো করে শামীমের পরিবার মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে। প্রকৃত ঘটনা জানার জন্য তিনি সাংবাদিকদের ছোট শেখহাটিতে যাওয়ার অনুরোধ করেন। তবে সংগ্রাম নিরাপরাধ বলে তিনি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে র‌্যাব-৬ যশোর ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর শোয়েব জানিয়েছেন, সার্জেন্ট শরিফুলকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে এমন অভিযোগ পাওয়ার পর ছোট শেখহাটি গ্রামে দুইজনকে পাঠানো হয়েছিল অভিযুক্ত শামীমকে আটকের জন্য। কিন্তু তাকে না পেয়ে তার ভাইরাভাই সংগ্রামকে র‌্যাব অফিসে নিয়ে আসা হয়েছিল শামীমের খোঁজ জানার জন্য। পরে সংগ্রামকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। সে যেহেতু অপরাধী না তাই তাকে আটকে রাখার কোন মানেই হয় না। তবে আসামি আটক করার সময় মারপিটের ঘটনা মিথ্যা বলে মেজর শোয়েব দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, র‌্যাব অফিসেও সংগ্রাম বা তার খোঁজ নিতে যাওয়া কোন যুবককে মারপিট করা হয়নি। সার্জেন্ট শরিফুল সিএমএইচএ ভর্তি আছেন বলে তিনি জানিয়েছেন।