রোহিঙ্গা নির্যাতন : একতারার সুর আর বিপ্লবী গানে বাউল শিল্পী জলিলের প্রতিবাদ যাত্রা

নিজস্ব প্রতিবেদক>
মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতনের ভয়াবহতা দেখে মুখ বন্ধ করে থাকতে পারেননি বাউল শিল্পী আব্দুল জলিল। অন্য উপায়েও তিনি এই অমানবিকতা রুখতে পারছেন না। কিন্তু এই দৃশ্য দেখে তার মন ঢুকরে কেঁদে উঠছে। অগত্যা তাই তিনি হাতে তুলে নিয়েছেন একতারা। একতারায় প্রতিবাদি সুর আর কন্ঠে বিপ্লবী গানে প্রতিবাদের ভাষা জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করছেন।
একতারা হাতে আর মুখে বিপ্লবী গান গেয়ে যশোর থেকে টেকনাফের উদ্দেশ্যে গতকাল রওনা দিয়েছেন। পথিমধ্যে তিনি ঢাকা ও কক্সবাজার প্রেসক্লাবে প্রতিবাদী বাউল সংগীত পরিবেশন করবেন। পরে তিনি প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে রোহিঙ্গা শিবিরে গিয়ে আশ্রিতদের মানসিক বিকাশের উদ্দ্যেশে বাউল সংগীত পরিবেশন করবেন।
তার প্রতিবাদ যাত্রা নিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলনও করেন। সংবাদ সম্মেলে বাউল শিল্পী আব্দুল জলিল বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নির্বিচারে গণহত্যাসহ তাদের বাড়ি ঘরে আগুন জ্বালিয়ে দেয়া হচ্ছে তা বিশ্ব মানবতাকে ভুলন্ঠিত করেছে। সারা বিশ্বের ঘৃনা ও প্রতিবাদ উপেক্ষা করে সে দেশের নেত্রী অং সান সূচি ও সেনা সদস্যরা এই নির্যাতন চালানোর মধ্য দিয়ে তারা হিটলারের নাৎসী বাহিনীকেও হার মানিয়েছে। এই নির্যাতিত রোহিঙ্গারা কোন রকম জীবন নিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিচ্ছে।
তিনি বলেন, মুসলিম রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতনের প্রতিবাদের অংশ হিসেবে আমার এই প্রতিবাদ সংগীত যাত্রা । আমি টেকনাফে গিয়ে সংগীতের মাধ্যমে এই নির্যাতনের প্রতিবাদ জানাবো। তিনি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে নির্যাতনের মুখে দেশ ত্যাগী এই রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সকলের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, এই প্রতিবাদ যাত্রার মাধ্যমে দেশের সকল বাউল সাধক কবি সাহিত্যিক কলামিস্টদের স্বাধীন বাংলা বেতারের ন্যয় সর্বশক্তি দিয়ে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের রক্ষার সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহবান জানিয়েছেন। একই সাথে তার এই সংগীত প্রতিবাদ যাত্রাকে সফল করার জন্য সকলের দোয়া কামনা করেন। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তার স্ত্রী আফরোজা সুলতানা নিপা, বাউল শিল্পী আব্দুল মজিদ ও আব্দুল কাদের।