ভারতে নিহত ‘খুনি’ নান্নুর ক্যাডারদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চলছেই

নিজস্ব প্রতিবেদক>
যশোর সদর উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের শ্যামনগর গ্রামের কুখ্যাত সন্ত্রাসী ও অভিযুক্ত খুনি মোখলেছুর রহমান নান্নু ভারতে খুন হওয়ার পরও তার ক্যাডারদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড থেমে নেই। তারা এলাকায় চাঁদাবাজি, অস্ত্রের মহড়া দেয়াসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে ফ্রি- স্টইলে। নান্নুর মিয়া বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হওয়ার পর তারা ভুক্তভোগীদের দেখে নেয়ার হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে এই বাহিনী আরো বেশি শক্তিশালী করার জন্য নান্নুর সেকেন্ড ইন কমান্ড সাদ্দামের সাথে হাত মিলিয়েছে ললিতাদহ গ্রামের মোতালেব মিয়া ও ছোট হৈবতপুরের বাবলু। নান্নুর অস্ত্র ভান্ডার তাদের দখলে থাকায় অনেকেই আতংকের মধ্যে দিন যাপন করছেন। ভয়ে তাদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলার সাহস পাচ্ছেন না।
সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ আগস্ট ভারতের বনগাঁয় প্রতিপক্ষের হামলায় খুন হয় পেশাদার খুনি ও অস্ত্র ব্যবসায়ী মোখলেছুর রহমান নান্নু। পরের দিন তার মৃতদেহ উদ্ধার হয় বনগাঁর চড়–ইগাছি এলাকার একটি খাল থেকে। পুলিশ তার গলিত লাশটি উদ্ধার করে। নিহতের স্ত্রী লাভলি ইয়াসমিন ইতি নান্নুর মৃতদেহে সনাক্ত করেন । কুখ্যাত এই সন্ত্রাসীর মৃত্যুর খবরে যশোর সদর উপজেলার হৈবতপুর কাশিমপুর, চুড়ামনকাটি, চৌগাছা উপজেলা ও ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার অনেক নির্যাতিত মানুষ সন্তোষ প্রকাশ করেন। কিন্তু নান্নু মারা যাওয়ার পরও শান্তিতে বসবাস করতে পারছেন না অনেকেই। কেননা কয়েকদিন গাঁ ঢাকা দেওয়ার পর নান্নুর মিয়া বাহিনীর সদস্যরা অপরাধমূলক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে ফ্রি স্টাইলে। অভিযোগ উঠেছে এ বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড সাদ্দামের সাথে হাত মিলিয়েছে বাবলু ও মোতালেব মিয়া। তারা দুজন মিয়া বাহিনীকে আরো শক্তিশালী করার মিশন শুরু করেছে। এজন্য তারা ব্যাপক চাঁদাবাজিতে লিপ্ত রয়েছে। ইতিমধ্যে সস্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যরা ললিতাদহ গ্রামের ইউসুফ আলী কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা, আশরাফুলের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা, টোটনের কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা, জহুরুল ইসলামের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা, জামিরের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা, রেজাউল ইসলামের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা, সাগরের কাছ থেকে ২১ হাজার টাকা, তোতার কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকা, বাক্কার আলীর কাছ থেকে ৫৫ হাজার টাকা আদায় করেছে। এছাড়া ৫ লাখ টাকা চাঁদা দিতে না পারায় সন্ত্রাসীরা বাবলুর রহমানের ললিতাদহ সুপার মার্কেট দখল করে নিয়েছে। নান্নু বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় খবর প্রকাশ হওয়ায় তারা রীতিমত ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছে। তারা প্রকাশ্যে বলে বেড়াচ্ছে নান্নু মারা গেছে কিন্তু তার অস্ত্রভান্ডার কিন্তু এখন তাদের দখলে। এসব কথা শুনে অনেকেই আতংকগ্রস্থ হয়ে সন্ত্রাসীদের দাবি পূরন করছে। তাদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে বারীনগর এলাকার এরশাদ আলী ঘর বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। সূত্র জানায় নান্নুর মিয়া বাহিনীর সদস্য মোতালেব রহিম, মালেক, শাইন, মিলন, হাফিজুর, শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে যশোর কোতায়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়ার কারনেই এরশাদ আলী এখন পলাতক রয়েছে। মিয়া বাহিনীর ক্যাডারদের দ্বারা তিনি অনেক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সূত্র জানায় নান্নু ভারতে খুন হলেও তার ক্যাডাররা বেপরোয়া হয়ে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে ভয়ংকর এসব ন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলার সাহস পাচ্ছেন না। যে কারনে সাধারণ মানুষ অত্যাচার নির্যাতন নিরবে সহ্য করছেন। তারা পুলিশের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সন্ত্রাসীদের কবল থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য।
এ ব্যাপারে যশোর কোতয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একেএম আজমল হুদা জানান, ভুক্তভোগীরা থানার লিখিত অভিযোগ করলে ওই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। তিনি বলেন, নান্নুর মিয়া বাহিনীর সদস্যদের উপর পুলিশের নজরদারি রয়েছে। অপরাধ চোখে পড়লেই তাদের গ্রেফতার করা হবে।