রোহিঙ্গাদের ছয় মাস রাখতে লাগবে ২০ কোটি ডলার : জাতিসংঘ

বিডিনিউজ >
মিয়ানামারের রাখাইন রাজ্যে দমন-পীড়নের মুখে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ত্রাণ ও পুনর্বাসনে ছয় মাসে প্রায় ২০ কোটি ডলারের প্রয়োজন হবে বলে জাতিসংঘের ধারণা।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা বন্ধে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে রয়টার্স বলেছে, সেনাবাহিনীর দমন অভিযানে রাখাইনে যে সংকট সৃষ্টি হয়েছে, তা দেশটির অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংস্কারকে স্থবির করে দিতে পারে।
গত ২৪ অগাস্ট রাতে রাখাইন রাজ্যে একসঙ্গে ৩০টি পুলিশ পোস্ট ও একটি সেনা ক্যাম্পে হামলার ঘটার পর থেকে রোহিঙ্গা গ্রামগুলোতে এই সেনা অভিযান চলছে।
সেনাবাহিনী কীভাবে গ্রামে ঢুকে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে মানুষ মারছে, ঘরের ভেতরে আটকে রেখে কীভাবে পুড়িয়ে মারা হচ্ছে, লুটপাট চালিয়ে কীভাবে গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে, সেই বিবরণ পাওয়া যাচ্ছে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের কথায়।
জাতিসংঘের হিসাবে, গত চার সপ্তাহে ৪ লাখ ২২ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছে, যাদের অনেকেই সীমান্ত পার হয়েছেন গুলির বা পোড়া জখম নিয়ে।
বাংলাদেশ আগে থেকেই ৪ লাখের বেশি শরণার্থীর ভার বহন করে আসছে। নতুনে করে বিপুলসংখ্যক এই শরণার্থীর জন্য ত্রাণ ও পুনর্বাসন চালাতে হিমশিম খাচ্ছে সরকার ও সাহায্য সংস্থাগুলো।
জাতিসংঘের জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশে ছয় মাসে এসব শরণার্থীর সহায়তায় ২০ কোটি ডলারের প্রয়োজন হবে। মিয়ানমার প্রবেশাধিকার সীমাবদ্ধ দিলেও রাখাইন রাজ্যেও মানবিক সংকট সৃষ্টি হচ্ছে বলে ত্রাণকর্মীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্র পররাষ্ট্র দপ্তরের ডেপুটি অ্যাসিসট্যান্ট সেক্রেটারি সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের ধারণা এই সহিংসতা বন্ধে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে হবে, মানবিক সহায়তা কার্যক্রমকে তরান্বিত করতে হবে, বাগাড়ম্বর ও উত্তেজনা কমাতে হবেৃএবং দীর্ঘমেয়াদী সমস্যাগুলোর সমাধানে কঠোর পরিশ্রম শুরু করতে হবে।”
রোহিঙ্গার উপর সেনাবাহিনীর দমন অভিযানের বিরুদ্ধে জোরালোভাবে মুখ না খোলায় বিশ্বজুড়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন। মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতা অং সান সু চি। এমনকি গণতন্ত্রের পক্ষে অহিংস আন্দোলনের স্বীকৃতি হিসেবে পাওয়া তার নোবেল শান্তি পুরস্কার কেড়ে নেওয়ার দাবিও উঠেছে।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বসবাস করে এলেও রোহিঙ্গারা নাগরিকত্ব, চলাচলের স্বাধীনতা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। অনেকেই রোহিঙ্গাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য হুমকি বলে মনে করেন।
কয়েক দশকের কঠোর সামরিক শাসনের অবসানের সঙ্গে পুরনো শত্রুতা ও বুদ্ধ জাতীয়তাবাদ মাথা চাড়া দিয়ে উঠায় বৌদ্ধ ও রোহিঙ্গাদের মধ্যে সুপ্ত কয়েক দশকের উত্তেজনার বিস্ফোরণ একাধিকবার দেখা গেছে।
সর্বশেষ মাসখানেক আগে বিদ্রোহীদের দমনের নামে সেনা বাহিনী যে নৃশংসতা চালাচ্ছে, তাকে ‘রোহিঙ্গাদের জাতিগতভাবে নিধন’ বলছে জাতিসংঘ।
শরণার্থীরা বলছেন, গুলি ও অন্যান্য হুমকিতে আতঙ্কিত হয়ে পালানোর পর মিয়ানমারের সেনা এবং সংঘবদ্ধ বৌদ্ধরা তাদের বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে।
মিয়ানমার এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহানুভূতি আদায়ের কৌশল হিসেবে জঙ্গিরাই নিজেদের গ্রামগুলোতে আগুন লাগিয়ে দিচ্ছে।