চুড়ামনকাটিতে সিন্ডিকেট করে মাদক ব্যবসা

নিজস্ব প্রতিবেদক>
যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটিতে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রকাশ্যে মাদকের ব্যবসা চলছে। বর্তমানে এখানে হাত বাড়ালেই মিলছে ফেনসিডিল, ইয়াবা, গাঁজা।
অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় সাজিয়ালী ফাঁড়ি পুলিশ ও কতিপয় প্রভাবশালীকে ম্যানেজ করে তারা মাদক ব্যবসা জোরদার করছে। মাদক পল্লী হিসেবে খ্যাত বাগডাঙ্গা ও বাবুবাজারে বেশির ভাগ মাদক ব্যবসায়ীরা অবস্থান করছে। কেননা সেবনকারীদের কাছে বাগডাঙ্গা হলো পরিচিত একটি স্পট।
স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, মাদকের স্বর্গরাজ্য হিসেবে চুড়ামনকাটি এলাকার ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। অর্ধশত ব্যবসায়ী প্রকাশ্যে মাদকদ্রব্য বিক্রি করে থাকে। বাগডাঙ্গা গ্রামকে মানুষ মাদকপল্লী হিসেবে জানে। এখানে রীতিমতো মাদকের হাট বসে। মাঝে মধ্যে পুলিশের অভিযানে ছোট ছোট মাদক বব্যবসায়ীরা আটক হলেও পাইকাররা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। বর্তমানে সাজিয়ালী ফাঁড়ি পুলিশ ও স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালীর শেল্টারে থেকে মাদক ব্যবসায়ীরা আবারো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকেই জানিয়েছেন, বর্তমানে প্রকাশ্যে ফেনসিডিল ও ইয়াবা বিক্রি করছে  বাগডাঙ্গার শরিফুল, রিপন, গোড়ে সিরাজ, আরিফের কয়েকজন সহযোগী ছোট দৌগাছিয়ার গজো মশিয়ার। আর গাঁজা বিক্রি করছে বাগডাঙ্গার রেজাউল, নিজাম, আয়নাল ও জসিম।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, চুড়ামনকাটি এলাকার মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে চৌগাছা, শার্শা, বেনাপোলের সীমান্ত এলাকার ব্যবসায়ীদের সু-সম্পর্ক রয়েছে। তাদের মাধ্যমে চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে আনা হচ্ছে হাজার হাজার বোতল ফেনসিডিল, ইয়াবা ও গাঁজা। পরে এসব মাদকদ্রব্য খুচরা ও পাইকারী হিসেবে বিক্রি করা হয়। বর্তমানে চুড়ামনকাটি ইউনিয়নে হাত বাড়ালেই মিলছে ইয়াবা, ফেনসিডিল আর গাঁজা। মাদকের ছোবলে বিষাক্ত হয়ে উঠেছে এ এলাকার জনপদ। স্থানীয়ভাবে ব্যবসায়ে আধিপত্য বিস্তার করতে রীতিমতো গড়ে তোল হয়েছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চুড়ামনকাটির দু’যুবক নিজ এলাকাসহ আশপাশে ইয়াবা সরবরাহ করছে। স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। পুলিশ তাদের ব্যবসা সম্পর্কে অবগত থাকলেও অজ্ঞাত কারণে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করে না। বরং পুলিশ প্রায় রাতে তাদের কাছ থেকে কোমলপানীয়সহ নানা খাবার খেয়ে থাকে। চুড়ামনকাটি ইউনিয়নে প্রকাশ্যে মাদকদ্রব্য বিক্রি হওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে অভিভাবকরা। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস নেই কারোর।
সুত্র জানায়, চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের মাদক ব্যবসায়ীরা স্থানীয়ভাবে ব্যবসায়ে আধিপত্য বিস্তার করতে রীতিমতো গড়ে তুলেছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। বাঁধাহীনভাবে ব্যবসা করতে তারা সেবনের জন্য তিনজন প্রভাবশালীকে নিয়মিত ইয়াবা ও ফেনসিডিল সরবরাহ করে থাকে। কেননা ওই প্রভাবশালীদের সাথে পুলিশের রয়েছে দহরম-মহরম সম্পর্ক এবং আছে নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, চুড়ামনকাটি এলাকায় ফেনসিডিল ও গাঁজার ব্যবসা রমরমা হলেও দুই তিন বছর আগেও ইয়াবা চোখে পড়েনি। বর্তমানে এখানে সবচেয়ে বেশি কেনাবেচা হচ্ছে ইয়াবা। বিক্রেতারা যেখানে সেখানে অবস্থান নিয়ে ক্রেতার হাতে তুলে দিচ্ছে এ মাদক। ১৪/১৫ বছর বয়েসের কিশোরের হাতেও ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে নেশা জাতীয় এ দ্রব্য।
এলাকাবাসী জানিয়েছে, মাঝে মধ্যে কোতোয়ালি থানা ও ডিবি পুলিশ মাদক ব্যবসায়ীদের আটক করে। কিন্তু তারা জামিনে বের হয়ে এসে আবারো মাদকের ব্যবসা জোরদার করে থাকে। কয়েকদিন আগে পুলিশ গোড়ে সিরাজ ও আজিবারকে আটক করে নিয়ে যায়। তারা মুক্তি পেয়ে আবারো এলাকায় প্রকাশ্যে মাদকের ব্যবসা করছে। গত সপ্তাহে কুখ্যাত ইয়াবা ব্যবসায়ী সরদার বাগডাঙ্গার আরিফ পুলিশের হাতে আটক হলেও তার সিন্ডিকেটের ব্যবসা থেমে নেই। তার সহযোগীরা বর্তমানে ডেরা পরিচালনা করছে।
এব্যাপারে সাজিয়ালী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই আসাদুজ্জামান জানান, তিনি বরাবরই মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার। পূর্বের তুলনায় বর্তমানে এখানে মাদকের ব্যবসা কমে গেছে। যদি কেউ এ ব্যবসা করে থাকে সেটা গোপনে করছে। ফাঁড়ির কোন সদস্য মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কোন সুবিধা গ্রহন করেনা। তিনি মাদক নির্মূলে সাংবাদিকসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।