শিক্ষার্থী দিয়ে উকুন বাছাই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে তদন্ত

চুকনগর (খুলনা) প্রতিনিধি>
ডুমুরিয়া উপজেলার পূর্ব বিল পাবলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা জেসমিন আরার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে দ্বিতীয় দফায় তদন্ত শুরু হয়েছে। তার বিরুদ্ধে স্কুল কমিটিকে না জানিয়ে পুরাতন বই ও খাতাপত্র বিক্রি, সহকারী শিক্ষক শিক্ষিকাদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং শিশু শিক্ষার্থীদের দিয়ে মাথার উকুন বাছানোর অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে গঠিত তদন্ত কমিটি শনিবার স্কুলে গিয়ে তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করেন।
এদিকে, ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে প্রথম তদন্তে সাত দফা অভিযোগের সত্যতা পায় উপজেলা শিক্ষা অফিসারের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি। কিন্তু দীর্ঘ আট মাস পার হলেও ওই কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ি তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে অভিযোগকারীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
অভিযোগে জানা যায়, প্রধান শিক্ষিকা জেসমিন আরা’র বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে অভিযোগ তোলেন স্থানীয় অভিভাবক, সহকারী শিক্ষক এবং ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা। গত ২২ ফেব্রুয়ারি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে এসব অনিয়মের বিষয় তুলে ধরে লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগীরা। ওই সময় তার বিরুদ্ধে স্কুলে হাজিরা দিয়ে বাইরে সময় কাটানো, অনিয়মতান্ত্রিকভাবে স্কুলে হাজিরা দেয়া, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা, শিক্ষার্থীদের দিয়ে মাথার উকুন বাছানো ও পাকা চুল তোলাসহ কমিটিকে না জানিয়ে স্কুলের পুরানো বই পত্র বিক্রি করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার দপ্তর থেকে একটি কমিটি গঠন করে তদন্ত করা হয়। ওই তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পায় কমিটি। তদন্ত প্রতিবেদন বিভাগীয় শিক্ষা কর্মকর্তার দপ্তরে জমাও দেওয়া হয়। কিন্তু সেটি আর আলোর মুখ দেখেনি।
এদিকে, উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে কর্মরত শিক্ষা অফিসার আজহারুল ইসলাম শনিবার বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করতে পূর্ব বিল পাবলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আসেন। এ সময় তিনি একাধিক অভিযোগকারী, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও অন্যান্য সদস্য, সহকারী শিক্ষক ও কয়েকজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে লিখিত জবানবন্দি গ্রহন করেন।
তদন্ত কমিটির সদস্য আজহারুল ইসলাম জানান, অভিযোগকারী ও সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে লিখিত বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। এসব বক্তব্য পর্যালোচনা করে পরবর্তিতে তিনি প্রতিবেদন উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট দাখিল করবেন।