দুর্নীতি মামলায় নড়াইল জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পৌরমেয়রসহ ৭ জনের কারাদন্ড

 

নিজস্ব প্রতিবেদক>
দুর্নীতি মামলায় নড়াইল জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন বিশ্বাস ও পৌর মেয়র জাহাঙ্গীর হোসেন বিশ্বাসসহ সাতজনকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও অর্থদন্ড দিয়েছে একটি আদালত। মঙ্গলবার স্পেশাল জজ (জেলা জজ) আদালতের বিচারক নিতাই চন্দ্র সাহা এক রায়ে এ সাজা দিয়েছেন।
সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন নড়াইলের কুড়িগ্রামের মৃত নুর হোসেন বিশ্বাসের ছেলে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন বিশ্বাস, ভাওয়াখালীর মৃত তবিবর রহমান বিশ্বাসের ছেলে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পৌর মেয়র জাহাঙ্গীর বিশ্বাস, ভাদলীডাঙ্গার মৃত শেখ মকবুল হোসেনের ছেলে পৌরসভার তৎকালিন ওয়ার্ড কমিশনার শরিফুল ইসলাম লিটু, বরাশুলা গ্রামের মৃত সৈয়দ মহরম আলীর ছেলে সাবেক কমিশনার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান, দূর্গাপুর গ্রামের গোলাম রসুল খানের ছেলে সাবেক কমিশনার আহম্মদ আলী খান, নড়াইলের মৃত সোহরাব মোল্লার ছেলে সাবেক কমিশনার রফিকুল ইসলাম ও বিজয়পুর গ্রামের আবুল হোসেন মোল্লার ছেলে সাবেক কমিশনার তেলায়েত হোসেন।
দুদকের স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম জানান, দুর্নীতি দমন আইনের ৪০৯/১০৯ এবং ৫(২) ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ রায় ঘোষণা করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে জানা গেছে, ২০০৪-০৫ অর্থবছরে আসামি সোহরাব হোসেন নড়াইল পৌরসভার চেয়ারম্যান থাকাকালে রূপগঞ্জ পশুহাট ইজারার দরপত্র আহবান করা হয়। এইচএম সোহেল রানা পলাশ নামে এক ব্যক্তি সর্বোচ্চ ৬৫ হাজার ৫৫৫ টাকায় ওই হাটের ইজারা পান এবং তিনি দরপত্রের নিয়ম অনুযায়ী জামানত হিসেবে ৩৩ হাজার টাকার ব্যাংক ড্রাফট জমা দেন। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি দরপত্র মূল্য দিতে অপরাগতা প্রকাশ করে ইজারা থেকে অব্যাহতির আবেদন করেন। ওই আবেদনে অপর আসামি তৎকালিন পৌর কমিশনার জাহাঙ্গীর বিশ্বাসসহ ৬জন কমিশনার ও ভারপ্রাপ্ত সচিব সুপারিশ করেন এবং চেয়ারম্যান হিসেবে সোহরাব হোসেন তা মঞ্জুর করেন। এরপর ইজারাদাতাকে তার জমাকৃত টাকা ফেরত দেয়া হয়। একইসাথে নতুন করে ইজারার আহবান না করে সকলে অবৈধভাবে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে ওই হাট তিনবছর ধরে খাস দেখিয়ে ১ লাখ ৯৬ হাজার ৬শ’৬৫ টাকা আদায় করেন এবং সমুদয় অর্থ আত্মসাৎ করেন। রূপগঞ্জ পশুহাট ইজারায় অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ২০০৮ সালের ৭ আগস্ট নড়াইল সদর থানায় মামলাটি দায়ের করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) যশোর সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ওয়াজেদ আলী গাজী। এতে পৌরসভার তৎকালিন চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন বিশ্বাস, ভারপ্রাপ্ত সচিবসহ ৬ ওয়ার্ড কমিশনারকে আসামি করা হয়। এ মামলার তদন্ত শেষে ঘটনার সাথে জড়িত থাকায় ২০০৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ওই ৮ জনকে অভিযুক্ত করে নড়াইল আদালতে চার্জশিট জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক ওয়াজেদ আলী গাজী। পরবর্তীতে মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হলে নড়াইল জেলা জজ আদালত থেকে যশোরের স্পেশাল জেলা জজ আদালতে বদলি করা হয়। যশোর আদালতে মামলার বিচার চলাকালিন সময়ে অপর আসামি নড়াইল পৌরসভার তৎকালিন ভারপ্রাপ্ত সচিব সাবেক প্রধান সহকারী মতিউর রহমান মৃত্যুবরণ করায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। এ মামলার দীর্ঘ স্বাক্ষ্য গ্রহন শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক পেনাল কোডের ৪০৯/১০৯ ধারায় প্রত্যেককে ৩ বছর করে সশ্রম কারাদন্ড, ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে প্রত্যেককে আরও ৬ মাস করে সশ্রম কারাদন্ড ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় প্রত্যেককে ৪ বছর করে সশ্রম কারাদন্ড এবং ১ লাখ ৯৬ হাজার ৬শ’৬৫ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন। সাজাপ্রাপ্ত জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সাবেক পৌর চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন বিশ্বাস বাদে সাজাপ্রাপ্ত সকল আসামি কারাগারে আটক আছেন।
এদিকে দুর্নীতির মামলায় সাজা দেয়ার পর মঙ্গলবার বিকেলে নড়াইল জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন বিশ্বাসের শহরের কুড়িগ্রামস্থ বাসায় পুলিশ হানা দেয় এবং তাকে না পেয়ে পুলিশ ফিরে আসে। নড়াইলের সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদি হাসান বলেন, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ফ্যাক্সবার্তার মাধ্যমে গ্রেফতারি পরোয়ানা পাওয়ায় তাকে পুলিশ গ্রেফতার করতে যায়।