প্রতারকের খপ্পরে পড়া ৬ শিশুসহ ৯ রোহিঙ্গা যশোরে উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক>
প্রতারকের খপ্পরে পড়ে যশোরে আসা ৬ শিশুসহ ৯ রোহিঙ্গা উদ্ধার হয়েছে। বুধবার দুপুরে শহরের মনিহার প্রেক্ষাগৃহ এলাকার একটি পরিবহন কাউন্টার থেকে তাদের উদ্ধার করে কোতয়ালি থানা পুলিশ। ওই রোহিঙ্গা পরিবার এদেশিও দালালের খপ্পরে পড়ে যশোরে এসেছে বলে জানিয়েছে তারা।
উদ্ধারকৃতরা হলো মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যের আক্কাব জেলার মংডু থানার খলিঞ্জাজিরি এলাকার মৃত ইমাম শরীফের ছেলে তফুর আলম (৪০), তার স্ত্রী মুর্শিদা বেগম (৩০), মেয়ে ইয়াসমিন আক্তার (৯), ছেলে রিয়াজুল ইসলাম (৭), মেয়ে তাসনিম আক্তার (৫), ছেলে সাইফুল ইসলাম (৩) ও শাহিদুল ইসলাম (৯ মাস), ভাইজি জান্নাত আরা (২০), তার ছেলে হামিদ হাসান (৯ মাস)।
আটক তফুর আলম ভাঙ্গা ভাঙ্গা বাংলা ভাষায় কথা বলেন সাংবাদিকদের সাথে। তার কথা যতটুকু বোঝাগেছে তার অর্থ হলো, আরাকানে ফৌজি (সেনাবাহিনী) দ্বারা আক্রান্ত হয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে দেশ ছেড়েছেন। তারা বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে। মাসহ পরিবারের অন্যান্য লোকজন কোথায় আছে জানেন না। তার পিতা সেনাবাহিনীর হাতে নিহত হয়েছেন। তিনি কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন সেখানে।
তিনি আরো জানিয়েছেন, আরাকান থেকে ৫দিন লেগেছে সাগর পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢুকতে। নদী, জঙ্গল এবং পাহাড় পাড়ি দিতে হয়েছে তাদের। বাংলাদেশের বান্দরবান এলাকায় গিয়ে তারা ওঠেন। সেখানে তারা বাংলাদেশি কিছু লোকের হাতে পড়েন। তারা তাদের নিরাপদে ভারতে যাওয়ার প্রস্তাব দেন। তিনি রাজি হন। এবং দালালের হাতে ১৭ হাজার টাকা তুলে দেন। দালাল চক্র বুধবার তাদের বেনাপোলে নিয়ে আসে। সেখানে গিয়ে তাদের ভারতে ঢুকাতে পারেনি। ফলে বেনাপোলে তাদের ফেলে দালালরা পালিয়ে যায়। পরে তিনি তার পরিবারের লোকজন নিয়ে চট্টগ্রাম যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসে করে বেনাপোল থেকে যশোরে আসেন। বুধবার দুপুরে মনিহার প্রেক্ষাগৃহ এলাকার পরিবহন কাউন্টারের সামনে ঘুরছিলেন। সে সময় স্থানীয়রা তাদের দেখে এবং কথা বলার সময় ভাষা শুনে রোহিঙ্গা হিসাবে চিহ্নিত করে। এসময় সৌদিয়া নামক একটি বাস কাউন্টারের বাসিয়ে রাখে। কিছুক্ষণ পর পুলিশ এসে তাদের থানায় নিয়ে আসে।
কোতয়ালি থানার এসআই জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, রোহিঙ্গা নাগরিক যশোরে একটি বাস কাউন্টারে অপেক্ষা করছে জানতে পেরে সেখানে অভিযান চালানো হয়। বুধবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে সৌদিয়া বাস কাউন্টার থেকে শিশুসহ ৯জনকে থানায় নিয়ে আসা হয়। তারা বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে ঢুকতে না পেরে চট্টগ্রাম ফিরে যাচ্ছিল বলে জানতে পেরেছি।
ওসি একেএম আজমল হুদা জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের চট্রগ্রামে শরনার্থী ক্যাম্পে পাঠানো হবে।