যশোর জোতরহিমপুরের জবা হত্যা মামলার আসামিরা বেপরোয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক>
যশোর সদরের জোতরহিমপুর গ্রামের রড মিস্ত্রি জবা হত্যা মামলার আসামিরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। আসামিদের অব্যহত হুমকির মুখে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছে বাদিসহ তার পরিবার। এদিকে, সাড়ে ৮ মাস অতিবাহিত হলেও এ মামলার চার্জশিট আজও গৃহিত হয়নি। অনেকে এরমধ্যে জামিনে মুক্তি পেয়ে এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। অবিলম্বে এ মামলার চার্জশিট গৃহিত ও জামিনে মুক্তি পাওয়া আসামিদের আটক করে বিচার কাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন মামলার বাদী মিলন হোসেন।
মামলার অভিযোগে জানা গেছে, জোতরহিমপুর গ্রামের মৃত চকমান মোল্লার ছেলে জবা রড মিস্ত্রির কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। ২০১৫ সালের ২২ জুলাই মনোহরপুর বাজার থেকে আসামিরা জবাকে আত্মীয় বাড়ি বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে নিয়ে যায়। পরদিন সকালে স্থানীয়দের সংবাদের ভিত্তিতে বাঘারপাড়ার কচুগাড়িয়া বিলের রাস্তায় পাশ থেকে জবার মৃতদেহ সনাক্ত করে স্বজনেরা। এ ব্যাপারে নিহতের ভাই মিলন হোসেন বাদি হয়ে কোতয়ালি মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলাটি প্রথমে থানা পুলিশ পরে সিআইডি পুলিশ তদন্তের দায়িত্ব পায়। মামলার তদন্ত শেষে আটক আসামিদের দেয়া তথ্য ও স্বাক্ষীদের বক্তব্যে হত্যার সাথে জড়িত থাকায় ৮ জনকে অভিযুক্ত করে চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি আদালতে চার্জশিট জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির আব্দুল আলীম মোল্লা। অভিযুক্ত আসামিদের মধ্যে রয়েছে যশোর সদরের ইছালী গ্রামের মৃত ইনামুল হকের ছেলে সৈকত, মাহমুদ হাসানের ছেলে জুয়েল, মৃত ইউসুফ আলীর ছেলে মাহামুদ হাসান ভাইরাস, মনোহরপুর গ্রামের খলিলের ছেলে তৌহিদুল, রব্বানীর ছেলে আশরাফ, আব্দুস সামাদের ছেলে পারভেজ, রামকৃষ্ণপুর গ্রামের হাফিজ বঙ্গালীর ছেলে সজীব বাঙ্গালী ও বাঘারপাড়ার জয়নগর গ্রামের মোজাফ্ফর আলীর ছেলে রায়হান।
দীর্ঘ সাড়ে ৮ মাস অতিবাহিত হলেও এ মামলার চার্জশিট আজও গৃিহত হয়নি বলে জানিয়েছেন মামলার বাদি। জুডিসিয়াল আদালতে ধার্যদিনে জামিন শুনানির জন্য জজ আদালত ও আইনজীবীর মৃত্যুর কারনে চার্জশিট গ্রহনের দিন বারবার পিছিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে এ হত্যা মামলার বেশ কয়েকজন আসামি জামিনে মুক্তি পেয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। কয়েকজন এখনো কারাগারে আটক আছে। বর্তমানে আসামিরা এ মামলা প্রত্যাহার করে নেয়ার নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। আসামিদের ভয়ে বাড়ি ছাড়ার উপক্রম হয়েছে। চরম নিরাপত্তাহীনতায় জীবন যাপন করতে হচ্ছে স্বজনদের। যে কোন আসামিরা আবারও বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে আশংকা প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী নিহতের ভাই মিলন হোসেন।