বোলিংয়ের পর ব্যাটিংয়েও হতাশা

 সুলতান মাহমুদ রিপন>
সফরকারী বাংলাদেশের সামনে এমনিতেই প্রতিপক্ষের পাহাড় সমান রান। অন্য অর্থে বললে পাহাড় সমান চাপ। সেই চাপটা যেন আরো ঘনিভূত হলো বাংলাদেশ ব্যাটিং শুরু করতেই। শুরুর আগেই ২ উইকেট নেই সফরকারীদের। দলীয় ১৬ রানে ইমরুল কায়েস ফিরে যাওয়ার পর ৩৬ রানের মাথায় ফিরে গেছেন লিটন দাসও। এই দুজন এসেছিলেন ইনিংস উদ্বোধন করতে। চা-বিরতির আগে নির্দিষ্ট সময় ফিল্ডিং করেননি বলে ওপেন করতে পারেননি তামিম ইকবাল।
আর তাই প্রথমবার ওপেনিংয়ে সুযোগ পেয়ে তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ লিটন। ব্যর্থ ইমরুল কায়েসও। পরে মুমিনুল হক ও মুশফিকুর রহিম দলের হাল ধরেছিলেন। এমনকি তারা দুজনে মিলে গড়ে তোলেন ৫০ রানের জুটি। আগে দুইবার বেঁচে যাওয়ায় তৃতীয়বার আর বাঁচলেন না বাংলাদেশ দলপতি মুশফিক। তৃতীয়বারে হতাশ হতে হলো না কেশভ মহারাজকে। দু’বার বেঁচে যাওয়ার পর এই বাঁহাতি স্পিনারকে উইকেট দিয়ে ফিরলেন মুশফিক। কেশভ মহারাজের বলে ৬ ও ১৫ রানে জীবন পেয়েছেন দুবার। তাতে দমে না গিয়ে যেন আরও দুর্বার মুশফিকের ব্যাট। খেললেন দারুণ কিছু শট। সেই মহারাজকেই ¯¬গ স্ইুপে মারলেন ছক্কা। তবে শেষ রক্ষা হলো না। মহারাজের বলেই ব্যাট-প্যাড ক্যাচ ফরোয়ার্ড শর্ট লেগে। ৭ চার ও ১ ছক্কায় ৫৭ বলে ৪৪ রান করে ফিরে গেলেন সাজঘরে মুশফিক। পরে তামিম ইকবালকে নিয়ে ইনিংস মেরামতে মনোযোগী হন মুমিনুল হক। দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩৪ ওভারে ৩ উইকেটে হারিয়ে ১২৭ রান। মুমিনুল (২৮) ও তামিম (২২) রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ করেছেন।
এর আগে ৩ উইকেটে ৪৯৬ রান করে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। এই রান নিয়ে চা বিরতিতে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। পরে চা বিরতির পর আর প্রোটিয়ারা ব্যাটিংয়ে নামেনি।গ আগের দিনের ১ উইকেটে ২৯৮ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করে দক্ষিণ আফ্রিকা। ডিন এলগার ১২৮ ও হাশিম আমলা ৬৮ রান নিয়ে অপরাজিত ছিলেন। এই দুজন দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনে যোগ করেন ১১৩ রান। লাঞ্চের আগে এলগার নিজের প্রথম দেড়শ রান স্পর্শ করেন। আমলা পূরণ করেন ক্যারিয়ারের ২৭তম সেঞ্চুরি।
লাঞ্চের পর পরই শফিউলের বলে আউট হয়ে ফিরে যান হাশিম আমলা। ব্যাক্তিগত ১৩৭ রান করে মেহেদী হাসান মিরাজের হাতে ক্যাচ হন তিনি। এরপর এলগারকে ফিরিয়ে দিনের দ্বিতীয় সাফল্যটি পায় বাংলাদেশ। এলগার কাটা পড়েছেন ১৯৯ রানে। মোস্তাফিজুর রহমানের বলে মুমিনুল হকের হাতে ক্যাচ হন তিনি। ইতিহাসে এলগার সবমিলে দশম এবং প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকান যিনি ১৯৯ রান করে আউট হলেন।
এলগার ফিরে যাওয়ার পর তেম্বা বাভুমাকে নিয়ে চতুর্থ উইকেটে ৫১ রান যোগ করেন অধিনায়ক ফ্যাফ দু পে¬সি। বাভুমা ৩১ ও দু পে¬সি শেষ পর্যন্ত ২৬ রানে অপরাজিত ছিলেন। বাংলাদেশের পক্ষে মোস্তাফিজুর রহমান ও শফিউল ইসলাম ১টি করে উইকেট নিয়েছেন। অন্যটি রান আউট।
দ্বিতীয় সেশনের শুরুতে মিলে সাফল্য। রানের গতি বাড়াতেই হয়তো অতিরিক্ত আক্রমণাত্মক খেলতে চেয়েছিলেন আমলা। শফিউল ইসলামের স্টাম্পের অনেক বাইরের বলে বাজে শর্টে ক্যাচ দেন মেহেদী হাসান মিরাজকে। ২০০ বলে ১৭টি টি চার আর কটি ছক্কায় ১৩৭ রান করে আমলা ফেরায় ভাঙে ২১৫ রানের দারুণ জুটি। তার বিদায়ের পর রানের গতি বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দেন এলগার। ক্যারিয়ার সেরা ১৪০ ছাড়িয়ে এলগার ছিলেন প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির পথে। মুস্তাফিজের দারুণ এক শর্ট বলে তাকে ফিরতে হয় মাত্র ১ রান দূর থেকে। ৩৮৮ বলে ১৫টি চার আর তিনটি ছক্কায় ১৯৯!
মোস্তাফিজকে পরপর দুটি চার হাঁকিয়ে শুরু করেন দু পে¬সি। শুরুতে নড়বড়ে ব্যাটিং করা টেম্বা বাভুমাও ফিরে পান নিজেকে। দুই জনে অবিচ্ছিন্ন চতুর্থ উইকেটে গড়েন ৫১ রানের জুটি। ইনিংস ঘোষণার সময় বাভুমা খেলছিলেন ৩১ রানে, অধিনায়ক দু পে¬সি ২৬ রানে। দ্বিতীয় সেশনটিই এখন পর্যন্ত পচেফস্ট্র–ম টেস্টে বাংলাদেশের সেরা সেশন। ২৯ ওভারে ৮৫ রান দিয়ে নেওয়া গেছে দুটি উইকেট। ফিল্ডিং ছিল আক্রমণাত্মক, বোলিংয়ে ছিল পরিকল্পনার ছাপ। তারই ফল পেয়েছে বাংলাদেশ। সেটাই দেখিয়েছে, নিজেদের পরিকল্পনায় অটল থাকলে চিত্রটা ভিন্নও হতে পারত। ২৭ ওভার বল করে মুস্তাফিজ ৯৮ রানে নেন ১ উইকেট। শফিউল ২৫ ওভারে ৭৪ রান দিয়ে একটি। অফ স্পিনার মিরাজ ৫৬ ওভার বল করে ১৭৮ রান দিয়ে উইকেটশূন্য।
সংক্ষিপ্ত স্কোর :
দক্ষিণ আফ্রিকা ১ম ইনিংস : ১৪৬ ওভারে ৪৯৬/৩ ইনিংস ঘোষণা (এলগার ১৯৯, মারক্রাম ৯৭, আমলা ১৩৭, বাভুমা ৩১*, দু পে¬সি ২৬*; মোস্তাফিজ ১/৯৮, শফিউল ১/৭৪, মিরাজ ০/১৭৮, তাসকিন ০/৮৮, মাহমুদউল¬াহ ০/২৪, মুমিনুল ০/১৫, সাব্বির ০/১৫)