যশোরের বারান্দীপাড়ায় রাজনৈতিক তকমায় এক কৌশলী অপরাধী

নিজস্ব প্রতিবেদক:একজন কৌশলী অপরাধী । ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে রাজনৈতিক তকমা লাগিয়ে তিনি অপরাধ করে থাকেন। যশোর শহরের পূর্ব বারান্দীপাড়ার এই অপরাধী দিন মজুর থেকে নানা রকম কৌশল অবলম্বন করে আজ অঢেল সম্পদের মালিক। অভিযোগ আছে, এলাকার মাদক থেকে শুরু করে দেহব্যবসা পর্যন্ত এখন তার নিয়ন্ত্রণে। এলাকায় একক আধিপত্য বিস্তার করতে তার রয়েছে ক্যাডার বাহিনী। যে কারনে ভয়ে তার অপরাধের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলার সাহস পাচ্ছেন না। প্রয়াত এক সরকারি কর্মকর্তার পরিবারকে এলাকা ছাড়া করে দোতলা বাড়ি দখল করে নিয়ে ডেরা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এখান থেকে তার অপরাধ নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শহরের বারান্দী মোল্লাপাড়ার নানা বাড়ি থেকে বড় হয়েছেন তিনি। পিতার সাথে মনোমালিন্য হওয়ার কারনে তার মা তাকে নিয়ে সেখানে চলে আসেন। সংসারে অভাব অনটন থাকায় খুব বেশি লেখাপড়া করতে পারেননি । তাই কিশোর বয়সেই দিনমজুর হিসেবে কাজে নেমে পড়েন।
সূত্র জানায়,৭/৮ বছর আগেও তিনি যশোর আরএনরোড এলাকায় অবস্থিত একটি দোকানে স্প্রে মেশিনের মিস্ত্রি হিসাবে কাজ করতেন। এরআগে তিনি মধুমতি পরিবহনের যশোর মনিহার বাসস্ট্যান্ড কাউন্টারে স্টাটার ছিলেন। সূত্র জানায়, মাদক ব্যবসার মধ্য দিয়েই অপরাধ জগতে প্রবেশ করেন । ওই সময় তার গডফাদার ছিলেন বারান্দীপাড়ার মাদক স¤্রাট আবু তালেব। বর্তমানে ওই এলাকায় মাদক ব্যবসার মধ্যে তার কর্মকান্ড থেমে নেই। অভিযোগ উঠেছে, মাদক থেকে শুরু করে দেহব্যবসাসহ সকল অপরাধমূলক কর্মকান্ড তার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আবু তালেব মারা যাওয়ার পর বারান্দীপাড়ার মাদক সিন্ডিকেট এখন তার নিয়ন্ত্রণে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি জানান, এলাকায় একক আধিপত্য বিস্তার ও নির্বিঘেœ অপরাধমূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করতে গড়ে তুলেছেন নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী। তার সহযোগী হিসেবে রয়েছে কয়েকজন। যে কারনে অনেকেই ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পায়না। অনেকে তাকে আবার পুলিশের সোর্স হিসেবেও জানে।
সূত্র জানায়, মাদক দেহব্যবসা চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এখন অঢেল ধন সম্পদের মালিক বনে গেছেন। বারান্দীপাড়া সর্দারপাড়ায় তৈরি করেছেন একটি আলীশান বাড়ি। নিজে চলাচল করেন পালসার ব্যান্ডের মোটরসাইকেলে। চলাফেরা দেখে কেউ মনে করবে না যে তিনি লেখাপড়া জানেননা। এছাড়া সাধারণ মানুষসহ সরকারের সম্পত্তিও নিজের দখলে রাখার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তিনি প্রভাব খাটিয়ে পূর্ব বারান্দীপাড়া সর্দারপাড়ার প্রয়াত সরকারি কর্মকর্তা আনিসুর রহমানের পরিবারকে এলাকা ছাড়া করে তাদের দুই তলা বিশিষ্ট একটি বাড়ি দখল করে নিয়েছেন। ভুক্তভোগিরা মুঠোফোনে এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, আনিসুর রহমানের জামাই মনির হোসেনের পরিচালনাধীন এভার গ্রীণ নামের একটি সংস্থার যশোর অফিসে ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন মণিরামপুরের ষোলখাদা গ্রামের জিয়াউর রহমান জিয়া। তিনি কয়েকজন সদস্যের টাকা আর্তসাৎ করে গাঁ ঢাকা দেন। এ ব্যাপারে সদস্যরা প্রথমে নিরব থাকলেও বিষয়টি নিয়ে জোরালো তৎপরতা শুরু করেন ওই নেতা। এ ঘটনাকে পুঁজি করে মনির হোসনের শ্বশুরের ওই দুই তলা বাড়িটি নিজেই দখল করে নেন। এর আগে ওই বাড়িতে লুটপাট চালিয়ে লোকজনকে তাড়িয়ে দেয়া হয় বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বর্তমানে ওই বাড়িটি তার ডেরা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। কয়েকমাস আগে ওই বাড়ির ফ্লাটে মেয়েদের দিয়ে যৌন ব্যবসা করানোর বিষয়টি ফাঁস হয়ে যায়।পরে জোটবদ্ধ এলাকাবাসীর তোপের মুখে সেখানে দেহ ব্যবসা বন্ধ করতে বাঁধ্য হয়।
সূত্র জানায় ,যশোর পতিতা পল্লীর অধিকাংশ নারীর সাথে কৌশলী ওই নেতার সুসম্পর্ক রয়েছে। তারা বিভিন্ন সমস্যায় পড়ে তার কাছ থেকে নগদ টাকাও ধার নেয়। ওই সব নারীদের এলাকায় নিয়ে দেহ ব্যবসা করানো হয়। এখান থেকে মোটা অংকের টাকার ভাগ পান তিনি। ভুক্তভোগীরা তার কাছ থেকে ওই বাড়িটি মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন। তার নেতৃত্বে ওই এলাকায় সরকারের সম্পত্তিও দখল করা হচ্ছে বলে জানাগেছে।
এ নেতা শহরতলীর ঝুমঝুমপুর এলাকার নদীর পাড়ে ৫ বিঘা, সুলতানপুর এলাকায় ৪ বিঘাসহ বিভিন্ন এলাকার সরকারি খাস জমি প্রভাব খাটিয়ে দখল করে নিয়েছেন । এছাড়া ভৈরব নদের বারান্দীপাড়া ফুলতলা অংশ দখল করে চাষের চাষ করছেন। এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার নাম ভাঙ্গিয়ে তিনি বিভিন্ন অপরাধ করে থেকে যাচ্ছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। সরকার দলের নাম ভাঙ্গিয়ে এখন তিনি বিশাল বিত্তবৈভবের মালিক। তবে অপরাধ লোক চক্ষুর অন্তরালে রাখতে তিনি নিজেকে বিভিন্ন সামাজিক কাজে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছেন। বিশেষ করে ওই এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা কমিটি তার হাতিয়ার। বর্তমানে তার অত্যাচারে ওই এলাকার সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন।
এ বিষয়ে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সালাহউদ্দিন সিকাদার জানিয়েছেন, ওই এলাকায় এক ব্যক্তির অপরাধ বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজখবর নিয়ে দেখতে হবে।