সংবাদ প্রকাশে ধান্দা একটি চক্রের> সুদে মহাজনদের গ্রাম মথুরাপুরে সুদে কারবার চলছেই

বিল্লাল হোসেন>
যশোর সদর উপজেলার হৈবতপুর ইউনিয়নের মথুরাপুর গ্রামের সেই মহাজনদের সুদে ব্যবসা চলছেই। একটি মহলের সাহসে তারা প্রকাশ্যে সুদের টাকা লেনদেন করছেন। তবে দৈনিক স্পন্দনে তাদের অবৈধ কারবার নিয়ে খবর প্রকাশ হওয়ায় এক ইউপি মেম্বর হোসেনসহ কয়েকজনের আয় বেড়েছে। তারা পত্রিকায় খবর প্রকাশ বন্ধ ও সাংবাদিককে ম্যানেজ করার কথা বলে সুদখোরদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। যা নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। এদিকে স্থানীয়রা জানিয়েছেন সুদে টাকার ব্যবসা করে এসব মহাজনদের মধ্যে কেউ কেউ দিন মজুর থেকে এখন গাড়ি বাড়ির মালিক বনে গেছেন।
স্থানীয়দের দেয়া তথ্য মতে, মথুরাপুর এলাকার অর্ধশত ব্যক্তি সুদে কারবারের সাথে জড়িত। এর মধ্যে ১৩ জন প্রকাশ্যে সুদে টাকার ব্যবসা করছেন অভিযোগ ওঠে। তারা হলেন মথুরাপুর গ্রামের জহির, বাবলুর রহমান, আতিয়ার রহমান, ফজের আলী, রেজাউল সরদার, কামরুল ইসলাম, নওশের আলী, আব্দুল খালেক, মোশারফ মিয়া, রিপন হোসেন, বিষে, শান্তি ও কলা জাহাঙ্গীর। এ সুদে সিন্ডিকেটের খপ্পরে পড়ে বিগত দিনে দু’সহোদরসহ তিন জন আতœহত্যা করেছেন। অনেকেই ভিটে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। বিষয়টি নিয়ে গত ১৪ অক্টোবর দৈনিক স্পন্দনে তথ্যভিত্তিক একটি খবর প্রকাশিত হয়। গোপন কারবার ফাঁস হওয়ায় ওই দিন সুদে মহাজনরা বেসামাল হয়ে পড়েন। এ সুযোগটাকে কাজে লাগায় তীরের হাট গ্রামের মেম্বর এক মেম্বরসহ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ব্যক্তি জানিয়েছেন, সুদে মহাজনরা তাদের সহায়তা চাইলে ওই প্রভাবশালীরা তাদের সাহস দিতে থাকেন এবং বলেন যে কোন সমস্যা নেই তোমরা কারবার চালিয়ে যাও। বিষয়টি আমরা দেখছি। পাশাপাশি তারা সাংবাদিক ম্যানেজ করা ও আর পত্রিকায় খবর প্রকাশ হবেনা এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে সুদখোরদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ওই মেম্বর কোটিপতি বনে যাওয়া সুদে মহাজন জহিরের ফুফাতো ভাই হওয়ায় অনেকেই তাকে বিশ্বাস করে টাকা দিয়েছেন সাংবাদিক ম্যানেজ করার জন্য। সুদখোরদের বলা হয়েছে বিষয়টি গোপন রাখার জন্য। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দৈনিক স্পন্দনে প্রকাশিত খবরকে পুঁজি করে সুদে মহাজনদের কাছে ছুটে চলেছেন স্হানীয় সাংবাদিক নামধারী কয়েকজন প্রতারক। তারা ফলোআপ রিপোর্ট করার হুমকি দিয়ে তাদের কাছ থেকে সুবিধা আদায় করছেন। এদিকে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সুদে ব্যবসার মাধ্যমে এসব মহাজন স্বল্প সময়ে বিত্তশালী হয়ে গেছেন। প্রমাণ হিসেবে তারা বলেন বুধো সরদারের ছেলে জহির এক সময় দিন মজুরের কাজ করতেন। বসবাস ছিলো চাটাইয়ের ঘরে। পৈত্রিক কোন সম্পত্তি ছিলোনা। সেই জহির বর্তমানে আলিশান (একতলা) বাড়ি তৈরি করছেন। সমস্ত বাড়ি জুড়ে লাগানো হয়েছে টাইলস। এছাড়া বারীনগর সাতমাইল বাজারে জমিও ক্রয় করেছেন। জহির সুদে কারবারী ছাড়া অন্য কোন কাজ করেন না। তীরেরহাট বাজারে বসে তিনি সুদের টাকা লেনদেন করেন বলে অভিযোগ। তবে তিনি দাবি করছেন, এখন তিনি সুদে ব্যবসা করছেন না। স্থানীয়রা আরো জানিয়েছেন, জহিরের মতো প্রায় সুদখোর মহাজন সামান্য সময়ে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছেন। ভ্যান চালক থেকে হয়েছেন ৩/৪টি ট্রাকের মালিকও। তাদের খপ্পরে পড়ে সাধারণ মানুষ নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছেন।